লিড নিউজক্যাম্পাস

ঈদ নিয়ে তরুণ শিক্ষার্থীদের ভাবনা

অনামিকা সিকদার, জবি প্রতিনিধি:

ঈদ হলো সকল মুসলিমের প্রাণের উৎসব। এই ঈদ কে ঘিরে তরুণদের থাকে নানা পরিকল্পনা, নানা আয়োজন। তরুণরা ঈদের আনন্দ ভাগ করে নিতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছুটে যায় নিজ পরিবারের কাছে। এবারের ঈদুল আজহা তে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের ঈদ ভাবনা তুলে ধরেছেন একই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সুমাইয়া সিকদার অনামিকা।

পরিবারের সাথে ঈদের আনন্দ

জান্নাতুল ফেরদৌস ইথু (ইতিহাস বিভাগ) বলেন,”জবিতে আসার পর এইটা আমার প্রথম ঈদুল আজহা।গত কয়েক বছর ইদ সাধারণত আমার ছোট্ট পরিবারের সাথেই কাটানো হয় কিন্তু এইবার ব্যতিক্রম হতে যাচ্ছে।এইবার ইদের আনন্দ চাচা চাচি, কাজিনদের সাথে ভাগ করে নিতে গ্রামে যাবো। গ্রামে যাওয়ার কথা মনে পড়লেই চোখের সামনে ভেসে উঠছে পাশের চিত্রা নদীর সাথে থাকা সুন্দর স্মৃতি গুলো।সব কিছু মিলায়ে এইবার ইদের আনন্দ কয়েক গুন বেশি হবে, কারণ সাথে কয়েক গুন বেশি নিজের লোকেরা থাকবে আর নিজের চিরচেনা সেই গ্রাম সব কিছুতেই একটা পূর্ণতা নিয়ে আসে।”

ভ্রাতৃত্বের বন্ধন দৃঢ় হোক ঈদের আনন্দে

আশিক মিয়া (ভূমি ব্যবস্থাপনা ও আইন বিভাগ) বলেন,”ঈদ আমাদের জীবনে নিয়ে আসে খুশি,সৌহার্দ্য ও শান্তির বার্তা। সকল ভেদাভেদ ভুলে ভ্রাতৃত্বের বন্ধন দৃঢ় করার সুযোগ নিয়ে আসে ঈদ। পবিত্র ঈদুল আজহায় মহান আল্লাহ তাআলার নৈকট্যলাভের লাভের উদ্দেশ্য হলো কুরবানি করা। সকল মুসলমানের পরিকল্পনা হওয়া উচিত নিজ পরিবারের সাথে ঈদ পালন করা ও সবার মাঝে হাসিখুশি ছড়িয়ে দেওয়া। ধর্মীয় বিধান মেনে কুরবানির ত্যাগের মহিমা নিজের মধ্যে ফুটিয়ে তুলতে হবে। পরিবার আত্মীয় স্বজনদের সাথে ঈদ কাটানোর ও সকলের সাথে ঈদ আনন্দে মেতে উঠার মধ্যে রয়েছে প্রকৃত সুখ। সুতরাং ছোট- বড় সবার সাথে ঈদ আনন্দ ভাগাভাগি করে নিলেই ভ্রাতৃত্বের বন্ধন অটুট থাকবে।”

ত্যাগের উৎসব ঈদুল আজহা

হাবিবুল বাশার (লোক প্রশাসন বিভাগ) বলেন,”বছরের দুইটি ঈদের মধ্যে একটি হলো ঈদুল আজহা, যা মুসলমানদের ত্যাগের উৎসব। বছর ঘুরে আবার মুসলমানদের এই ত্যাগের উৎসব আসতে চলেছে। প্রতিবারের মত এইবার ও সকল মুসলমান তাদের সামর্থ্যের মধ্যে পশু কুরবানি করবে আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আশায়। এই ত্যাগের মহিমা ছড়িয়ে পড়ুক সবার মাঝে। ঈদের আনন্দ, উচ্ছ্বাস ভাগাভাগি করে নিতে যান্ত্রিকতার শহর ছেড়ে সকলেই হচ্ছে ঘরমুখো। সকলে নিরাপদে নিজ নিজ পরিবারের কাছে পৌঁছে ঈদ উদযাপন করুক এমনটাই প্রত্যাশা।”

ঈদ হোক কল্যাণের

লাকি আক্তার (আইন বিভাগ) বলেন,”ঈদ-উল আযহা মুসলমানদের জন্য এক পবিত্র দিন।এই দিনে আমরা কোরবানির মাধ্যমে তাকওয়ার বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়ে থাকি।পশু কোরবানি একটি প্রতীকি ব্যাপার যার মাধ্যমে মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের সন্তুষ্টি অর্জন এবং সবার মধ্যে এই দিনে আনন্দ ভাগাভাগি করি। হজরত ইব্রাহিম (আ.) ও তার পুরো পরিবারের নজিরবিহীন কোরবানির ইতিহাস মানুষকে যে ত্যাগের শিক্ষা দেয় তাতে উদ্বুদ্ধ হয়ে একজন মুমিন তার সবকিছুই আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য উৎসর্গ করতে সদা প্রস্তুত থাকে। সেটি ছিল স্রষ্টার তরফে ইব্রাহিম (আ.)এর জন্য ত্যাগের একটি পরীক্ষা।

কিন্তু আজকের সমাজ থেকে সেই ত্যাগের শিক্ষা, স্বার্থহীনতার অনুশীলন হারিয়ে যেতে বসেছে, ভোগবাদিতার জয়জয়কার সর্বত্র। আর যে ভোগকে নিরুৎসাহিত করে ত্যাগের শিক্ষা দেয় কুরবানি, সেই কুরবানিতেও দেখা যায় ভোগের আস্ফালন।কুরবানি এলেই এখনকার তরুণ প্রজন্মের কুরবানির পশুর সাথে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছবি আপলোড করার হিরিক পড়ে যায় এবং কুরবানির বিভিন্ন বিষয় নিয়ে ট্রল করতে দেখা যায়।কুরবানি এলেই দেশের ইলেকট্রনিক্স শোরুমগুলোতে রেফ্রিজারেটর কেনার হিড়িক পড়ে। কে কার চেয়ে বেশি পশুর মাংস ফ্রিজে ভরে রাখতে পারে, সেই প্রতিযোগিতা চলে। গরিবের হক আদায় করার আগেই ফ্রিজ ভরে রেখে কীসের কুরবানি দেয়া হয় কে জানে!”

ঈদ হোক ছিন্নমূলের খুশির উপলক্ষ্য

দিপু কুমার রায় (ভুমি ব্যবস্থাপনা ও আইন বিভাগ) বলেন,”ঈদ মানেই আনন্দ। সব থেকে বেশি আনন্দ হয় শহরের যান্ত্রীকতা ভুলে পরিবারের কাছে ফিরতে পারবো এইভাবে। আনন্দ কখনো পরিকল্পিত হয়না, কল্পনাহীন উৎযাপনই আনন্দ। ঈদের পরিকল্পনা বলতে বাড়ির মুক্ত বাতাসে এসে অপরিচিত মানুষদের সাথে আড্ডা দেওয়া, নতুন জামা কাপড় কেনা। ঈদ মানেই আনন্দ ও প্রচুর খাওয়া দাওয়া। ঈদের দিন সকালে বন্ধুদের সাথে ঘুরতে যাওয়া, সবাই মিলে একসাথে বসে খাবার খাওয়া, প্রচুর হই হুল্লোড় করা। ঈদ মানেই আনন্দ, তাই আমার চাওয়া এই আনন্দ টা পৌঁছে যাক উচ্চবিত্তের সুবিশাল অট্টলিকা থেকে ছিন্নমূল মানুষ পর্যন্ত। এই ঈদে ছিন্নমূল মানুষের মুখে হাসি ফোটানো আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত। এই ঈদে খুশি আমি ভাগাভাগি করতে চায় তাদের সাথে যারা খুশি থাকতে চায় কিন্তু আজ তারা অসহায় এমন মানুষদের সাথে।”

পরিবারের সাথে বর্ষামুখর ঈদ

উম্মে সালমা মিম (লোক প্রশাসন বিভাগ) বলেন, “ঈদ-উল-আজহা”শব্দটা যেমন ত্যাগ আর মহিমার ইঙ্গিত দেয় তেমনি ঈদ বলতেই আমরা বুঝি অনাবিল আনন্দ,উচ্ছ্বাস আর উল্লাস। আর আমার কাছে তো ঈদের আনন্দটা আরো বাড়তি মাত্রা যোগ করে যখন আমি অনেকগুলো হাসিমুখ একসাথে দেখতে পাই।নিউক্লিয়ার পরিবারের এই সময়ে আমার দাদাবাড়ির যৌথ পরিবারটাই এক টুকরো ঈদ। সারাবছর পরিবারের সদস্যরা কর্মসূত্রে দেশে ও দেশের বাইরে বিভিন্ন জায়গায় থাকলেও বছরের এই সময়টা সবাই ছুটে আসে মাটির কাছে।এক ঝাঁক হাসিমুখ আমার ঈদটা আরো দারুন করে তোলে।আর এবার তো বর্ষাকাল শুরু হয়েছে এদিকে গ্রীষ্মের ফল ও এখনো গাছে রয়ে গেছে।বাড়ির গাছ গুলো থেকে ফল পেড়ে খাওয়া,পরিবারের ছোট থেকে বড় সবার একসাথে বৃষ্টিতে ভেজা, কাদায় সবার লাফালাফি,রাতভর মুরুব্বিদের সাথে নানান গল্প শোনা সবকিছু মিলে ঈদটা যেন রয়ে যায় ৩/৪দিন।পরিবারের সব সদস্যদের এই মিলনমেলা,গরু কুরবানি,খাওয়া দাওয়া,ভেজা মাটির ঘ্রান, টিনের চালের বৃষ্টির শব্দ সবটাই আমার ঈদ। আমাদের ঈদ।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button

You cannot copy content of this page