লিড নিউজক্যাম্পাস

জাবির সাংবাদিকতা বিভাগের মাস্টার্সের ফলাফলে ধ্বস!

জাবি প্রতিনিধি: জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যম অধ্যয়ন বিভাগের স্নাতকোত্তর বর্ষের ফলাফলে ধ্বস নেমেছে।

সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা বিভাগের ওয়েবসাইটে এই ফলাফল প্রকাশ করা হয়। প্রকাশিত ফলাফলে দেখা যায় ৭০% নম্বর বা সিজিপিএ ৩.৫০ কেউই পায়নি। স্নাতক পর্বে বেশ কয়েকজন ৭০% নম্বর বা সিজিপিএ ৩.৫০ পেলেও স্নাতকোত্তরে ধ্বস নেমেছে।

ফলাফল হাতে পাওয়া শিক্ষার্থীরা মনে করছেন, “সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষকরা নিজ ইচ্ছায় এরকম আচরণ করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক হওয়া বা অন্য কোনও ভালো চাকরী পেতে গেলে স্নাতক এবং স্নাতকোত্তর উভয় পরীক্ষার ফলাফলই সিজিপিএ ৩.৫০ চাওয়া হয়। আমাদের কয়েকজন স্নাতকে সিজিপিএ ৩.৫০ পেয়েছে। সেখান থেকে স্নাতকোত্তরে একজনও কী ৩.৫০ পাওয়ার যোগ্য ছিলো না? এই ফলাফল উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে হয়েছে।

ফলাফল হাতে পাওয়া একজন শিক্ষার্থী নাম না প্রকাশ করার শর্তে বলেন, “এই ফলাফলের দায় পরীক্ষা কমিটির চেয়ারম্যানকেই নিতে হবে।”

এই শিক্ষার্থী ক্ষোভ প্রকাশ করে আরও বলেন, “প্রথম বর্ষ, দ্বিতীয় বর্ষ এবং স্নাতকোত্তরে আমিনা ইসলাম ম্যাডাম চেয়ারম্যান ছিলেন। তিনি তিন বছর পরীক্ষা কমিটির চেয়ারম্যান থাকাকালীন কেউই ৭০% নম্বর ওঠাতে পারেনি। আমাদের প্রথম বর্ষে সর্বোচ্চ ফলাফল ছিলো সিজিপিএ ৩.৪৮, দ্বিতীয় বর্ষে সর্বোচ্চ ফলাফল ছিলো সিজিপিএ ৩.৪৩ আর এবার স্নাতকোত্তরে এসে সর্বোচ্চ ফলাফল ৩.৪৫। আসলে বিভাগের উচিত কোনও সিস্টেম থাকলে তাকে পরীক্ষা কমিটির চেয়ারম্যান থেকে অব্যাহতি দেওয়া।”

জানা যায়, বিভাগটির স্নাতকোত্তর চূড়ান্ত পর্ব পরীক্ষা কমিটির চেয়ারম্যান ছিলেন সাংবাদিকতা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আমিনা ইসলাম।

এ ব্যাপারে তার কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “নম্বর কম-বেশির উপরে পরীক্ষা কমিটির কোন হাত নেই। পরীক্ষা কমিটি শুধু নম্বর যোগ-বিয়োগ করার কাজ করে। প্রচলিত পরীক্ষা পদ্ধতিতে যে যেমন রেজাল্ট করেছে, পরীক্ষকরা যেমন নম্বর দিয়েছেন সেভাবেই যোগ-বিয়োগ করে রেজাল্ট তৈরি করা হয়েছে।”

তবে শুধু পরীক্ষা কমিটির চেয়ারম্যানই না বরং বিভাগকেও দুষছে অনেকে। নাম না প্রকাশ করার শর্তে আরেকজন শিক্ষার্থী বলেন, “একটা পুরো ব্যাচের ক্যারিয়ারে দাগ ফেলে দেয়া, এটা কোন ছেলেখেলা না। একটা ব্যাচে সিজিপিএ ৩.৫০ পাওয়ার মতো একজনও নাই এটাও বিশ্বাসযোগ্য না। এমন প্রতিযোগিতাপূর্ণ একটা সময়ে পুরো একটা ব্যাচকে যেভাবে মাঠের বাইরে ছুঁড়ে ফেলে দেয়া হলো তা কোনভাবেই মেনে নেয়া যায় না। এই দায় বিভাগ এবং বিভাগের সংশ্লিষ্ট সকল শিক্ষককে নিতে হবে।”

এ বিষয়ে জানতে চাইলে, বিভাগটির সভাপতি সহযোগী অধ্যাপক রাকিব আহমেদ বলেন, “পরীক্ষার রেজাল্ট তৈরি করার প্রক্রিয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অফিস এবং বিভাগের পরীক্ষা কমিটির “এখতিয়ার” থাকে। তারা নিয়মতান্ত্রিকভাবে সর্বোচ্চ গোপনীয়তার সাথে রেজাল্ট প্রস্তুত করেন। এখানে বিভাগের একটা ব্যাচের রেজাল্ট কেন খারাপ হলো তা বিভাগের সভাপতির পক্ষে বলা সম্ভব নয়।”

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button

You cannot copy content of this page