লিড নিউজক্যাম্পাস

চবি হলে খাবারের দাম কমলেও মান নিয়ে ক্ষোভ শিক্ষার্থীদের

রেফায়েত উল্যাহ রুপক, চবি প্রতিনিধি:

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের দাবির মুখে আবাসিক হলগুলোতে খাবার পূর্বের দামেই ফিরছে। সম্প্রতি খাবারের দাম বৃদ্ধি করায় আন্দোলনে নামেন শিক্ষার্থীরা।

গত শুক্রবার (২৪ মার্চ) রাত সাড়ে ১০ টায় খাবারের মূল্য সমন্বয় করতে বৈঠকে বসেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. শিরীন আখতার, উপ-উপাচার্য অধ্যাপক বেণু কুমার দে, প্রক্টরিয়াল বডি ও প্রভোস্টরা। সভায় পূর্বের দামেই খাবার সরবারহ করার সিদ্ধান্ত হয়।

রমজানের প্রথমদিন দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির অজুহাতে খাবারের দাম ১০ টাকা বাড়িয়ে ২৫ থেকে ৩৫ টাকা করা হয়, এছাড়া সেহেরী ৫০ থেকে ৬০ টাকা করা হয়। এর আগেও ২০২১ সালে একদফা ৫ টাকা বৃদ্ধি করে ২০ থেকে ২৫ টাকা করা হলেও খাবারের মান বৃদ্ধি পায়নি। খাবারের দাম বৃদ্ধির খবরে ক্যাম্পাসে ক্ষোভে ফেটে পড়ে শিক্ষার্থীরা, প্রতিবাদে তাঁরা মানববন্ধন ও উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করে। এদিকে শিক্ষার্থীদের দাবির মুখে প্রশাসন পূর্বের দাম রাখলেও খাবারের মান নিয়ে তাদের মাঝে ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে।

শহীদ আবদুর রব হলের মনোবিজ্ঞান বিভাগের (১৯-২০) সেশনের আবাসিক ছাত্র শাফায়েত হোসেন ডেইলি দর্পণকে বলেন, হলের খাবার অনেক নিম্ন ও বাজে মানের। আমাদের বাধ্য হয়ে খাবার খেতে হয়। অনেক সময় গন্ধযুক্ত ও স্বাদহীন খাবার খেয়ে আমরা অসুস্থ হয়ে যাচ্ছি।

এ এফ রহমান হলের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান তুহিন ডেইলি দর্পণকে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ৭০ শতাংশ শিক্ষার্থী নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারের হওয়ায় তারা হলের খাবারের উপর নির্ভরশীল। কিন্তু হলের মানহীন খাবার খেয়ে আমরা অসুস্থ হয়ে যাচ্ছি। ফলে আমাদের পড়াশোনা ব্যাহত হচ্ছে যার প্রভাব ফলাফলে পড়ছে।

শাহ আমানত হলের রিফাত হোসেন ফাহিম ও আহসান হাবিব নামের দুই শিক্ষার্থীর কন্ঠে ক্ষোভ ও হতাশা নিয়ে তারা ডেইলি দর্পণকে বলেন, নিম্নমানে খাবার খেয়ে প্রয়োজনীয় পুষ্টি চাহিদা পূরণ না হওয়ায় আমাদের পড়াশোনায় ক্ষতি হচ্ছে এবং নানান জটিল রোগে আক্রান্ত হচ্ছি। আর্থিক সংকটের কারণে বাইরেও খাবার খেতে পারছি না। প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণে অনুরোধ করছি।

মনোবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. অরুণাভ বৈরাগীর কাছে খাবারের উপর শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার প্রভাব সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি ডেইলি দর্পণকে বলেন, পড়াশোনার উপর পুষ্টিকর খাবারের অনেক প্রভাব রয়েছে। ভালো খাবার খেলে শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য ভালো থাকে ফলে তাদের পড়াশোনায় মনোনিবেশ করা সহজ হয়। তিনি প্রশাসনকে এ বিষয়ে উদ্যোগ গ্রহনে জোর দেন।

এ এফ রহমান হলের প্রভোস্ট (ভারপ্রাপ্ত) এস এম মোয়াজ্জেম হোসেন তিনি ডেইলি দর্পণকে বলেন, আমরা প্রশাসনের সাথে বৈঠক করে সিদ্ধান্ত নিয়েছি খাবার পূর্বের দামে সরবারহ করার। আর মানটাও অন্তত একই রাখার। আমরা দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি বিবেচনায় যতটুকু সম্ভব ভালো খাবার সরবারহ করার চেষ্টা করছি। আর বিষয়টা ঊর্ধ্বতন প্রশাসনের নজরে আছে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button

You cannot copy content of this page