লিড নিউজ

আমাদের ভেবে দেখতে হবে, কোনটা বেশি ব্যয়বহুল? অগ্নি নিরাপত্তা নাকি অগ্নি দুর্ঘটনা?

বঙ্গবাজারে আগুন কিংবা আমাদের দেশে এমন বড় অগ্নি দুর্ঘটনা আজ প্রথম নয়। তবুও কেন বার বার এমন হচ্ছে? বার বার আমরা একই প্রশ্ন করি, উত্তরগুলো সেই একই, তবুও পরিবর্তন নেই কেন? এর উত্তর আছে আমাদের দেশের পোষাক শিল্পের কাছে।

অগ্নি দুর্ঘটনায় দেশের সবচেয়ে বেশি প্রান কেড়ে নেয়া এই শিল্প এখন প্রায় শতভাগ নিরাপদ এবং বিশ্বের কাছে ইর্ষনীয়। সচেতনতা, উদ্যোক্তাদের প্রচেষ্টা, সরকারের সহযোগিতা, ব্যবসায়িক প্রতিযোগিতা এবং কঠোর নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমেই তা সম্ভব হয়েছে।

বঙ্গবাজারে স্বয়ংক্রিয় অগ্নি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে যে পরিমান অর্থ বিনিয়োগ করতে হতো তা আজকের ক্ষয়-ক্ষতির মাত্র ১ শতাংশের কম! তবুও হলো না শুধুই আমাদের দায়িত্ব অবহেলার কারনে।

আরেকবার আমরা মনে করে নেই আমাদের কার কি দায়িত্ব –

সরকারের দায়িত্বঃ
১) বিল্ডিং কোডের প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে এবং তা প্রয়োজনীয় সংস্কার করতে হবে।
২) অগ্নি নিরাপত্তা সরঞ্জাম আমদানি সহজ করতে হবে।
৩) ত্রুটিপূর্ণ এবং নিম্নমানের অগ্নি নিরাপত্তা সরঞ্জাম আমদানি এবং বাজারজাত রোধ করতে হবে।
৪) অগ্নি নিরাপত্তা সরঞ্জাম ক্রয়ে সহজ শর্তে বিনিয়োগে ব্যাংকগুলো কে উৎসাহিত করতে হবে।‘
৫) ফায়ার ইনস্যুরেন্স আরও বেশি জনপ্রিয় করতে হবে।
৬) ঝুঁকিপূর্ণ ভবন এবং আইনলঙ্ঘন করে স্থাপনা নির্মাণকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।
৭) শিক্ষা ব্যবস্থায় অগ্নি নিরাপত্তা এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
৮) সকল মহলের সাথে সমন্বয় সাধন করতে হবে।
৯) নগর গুলোতে স্ট্রিট ফায়ার হাইড্রেন্ট এবং পর্যাপ্ত জলাধার নির্মাণ করতে হবে।
১০) নতুন প্রযুক্তি এবং জনবল দ্বারা ফায়ার সার্ভিস এর সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে হবে।

জনগনের দায়িত্বঃ
১) অনিরাপদ ভবন ভাড়া নেয়া এবং ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকতে হবে।
২) অগ্নিনিরাপত্তা সরঞ্জাম ব্যবহারের প্রাথমিক প্রশিক্ষণ নিতে হবে।
৩) বিল্ডিং কোড এবং অগ্নি নিরাপত্তা বিধিমালা মেনে ভবন / স্থাপনা নির্মাণ করতে হবে।
৪) প্রতিটি ঘরে, অফিসে, দোকানে, কারখানায় যথাযথ অগ্নি নিরাপত্তা সরঞ্জাম স্থাপন করতে হবে।
৫) সকল প্রকারের বৈদ্যুতিক এবং গ্যাস সংশ্লিষ্ট সরঞ্জাম ব্যবহারে সচেতন হতে হবে।
৬) পরিবারের সবাইকে প্রতিনিয়ত সচেতন করতে হবে।
৭) অজনপ্রিয়/কঠোর পদক্ষেপ হলেও দেশের স্বার্থে সরকারকে সহযোগিতা করতে হবে।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বঃ
অগ্নি নিরাপত্তায় দেশ জুড়ে জিরো টলারেন্সে ঘোষণা করতে হবে এবং তা নিশ্চিত করতে সরকারের পক্ষ থেকে সকল সুবিধা সহ কঠোর ব্যবস্থা গ্রহন করতে হবে।

গনমাধ্যমের দায়িত্বঃ
উপরের উল্লেখিত যেকোন দায়িত্ব অবহেলায় তা চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখাতে হবে এবং প্রচার প্রচারনার মাধ্যমে ব্যাপক জনসচেতনতা নিশ্চিত করতে হবে।

জন সচেতনতায়,
এম মাহমুদুর রশিদ
সেক্রেটারি জেনারেল
ইসাব – ইলেক্ট্রনিক্স সেফটি অ্যান্ড সিকিউরিটি অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button

You cannot copy content of this page