ক্যাম্পাস

‘অর্থনৈতিক অবস্থা প্রাতিষ্ঠানিক ফলাফলে প্রভাব ফেলে’

রাসেল মাহমুদ, জাবি প্রতিনিধি:

বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের অর্থনৈতিক অবস্থা তাদের প্রাতিষ্ঠানিক ফলাফলকে প্রভাবিত করে বলে এক গবেষণায় ওঠে এসেছে। গবেষণা অনুযায়ী, প্রাতিষ্ঠানিক, পরিবহনসহ নানামুখী ব্যয় নির্বাহ করতে না পারার দরুণ অনেক শিক্ষার্থী ক্লাসে অমনোযোগী ও হতাশ হয়ে পড়ে। ফলে এই প্রভাব তাদের ফলাফলের ওপর পড়ে।

সম্প্রতি একাডেমিক ফলাফলের ওপর যে বিষয়গুলো প্রভাব ফেলে তা নিয়ে বাউস্ট (BAUSTJ) জার্নালে একটি গবেষণা প্রকাশিক হয়। এতে দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৫৪ ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৩৩ জন শিক্ষার্থী অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।

গবেষণা অনুসারে শিক্ষার্থীদের প্রাতিষ্ঠানিক ফলাফলের ওপর অর্থনৈতিক ছাড়াও সামাজিক ও রাজনৈতিক এই দুটি বিষয়ও প্রভাব ফেলে। সামাজিক দিকটি চিহ্নিত করে গবেষণাটিতে বলা হয়, অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ এবং সাম্প্রতিক কোভিড-১৯ ভাইরাস শিক্ষার্থীদের মারাত্মকভাবে প্রভাবিত করেছে। চাকুরির বাজারের চাহিদা এবং সমাজের প্রত্যাশার চাপ শিক্ষার্থীর মনকে প্রভাবিত করে। তাই সামাজিক দিকটিও শিক্ষার্থীদের ফলাফলের অন্যতম নিয়ামক।

গবেষণায় রাজনৈতিক দিকটিকে গৌণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এতে বলা হয়, অস্থির রাজনৈতিক পরিবেশ এবং ক্ষমতার অপব্যবহার শিক্ষার্থীদের অনিরাপত্তার দিকে নিয়ে যায়। ফলে প্রাতিষ্ঠানিক ফলাফলে বিরূপ প্রভাব পড়ে।

গবেষণায় প্রাতিষ্ঠানিক ফলাফলকে জিপিএ ও সিজিপিএ এবং মানসিক পরিস্থিতি পরিমাপক স্কেলকে লাইকার্ট স্কেলের (১-৫) সংখ্যাকে মতামতের ক্রমধারা হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। স্কেলটিতে প্রাপ্ত ফলাফল ১ বলতে পুরোপুরি দ্বিমত এবং ৫ বলতে পুরোপুরি একমত বোঝানো হয়েছে।

পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা গড়ে ৩.০৭৮ এবং প্রাইভেটের শিক্ষার্থীরা গড়ে ৩.০১৩ লাইকার্র্ট স্কেলে অর্থনৈতিক সমস্যার মুখোমুখি হন। সামাজিক ক্ষেত্রে পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের যথাক্রমে ২.৮২১ এবং ২.৭০১ লাইকার্ট স্কেলে সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়। প্রাইভেটের তুলনায় পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের রাজনৈতিক সমস্যা তুলনামূলক বেশি। এক্ষেত্রে লাইকার্ট স্কেলে তাদের মান যথাক্রমে ৩.২৫০ এবং ২.৮০৬। পাবলিক ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সিজিপিএ গড়ে ৩.১৯ এবং ৩.১০।

গবেষকদলের সদস্য জাবির ম্যানেজমেন্ট বিভাগের প্রভাষক রাব্বির রাশেদীন তীর্ন কে বলেন, ‘প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক থাকাকালীন খেয়াল করি শিক্ষার্থীরা ভর্তি হয় ঠিকই কিন্তু কন্টিনিউ করেনা। পরে এই সমস্যা নিয়ে পর্যালোচনা করি। তাদের ঝরে পড়ার পেছনে অর্থনৈতিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক এই তিনটি বিষয়কে মুখ্য হিসেবে পাই। এরমধ্যে প্রধানতম হলো অর্থনৈতিক এবং সামাজিক সমস্যা। পলিটিক্যাল সমস্যা তেমন গুরুত্ব পায়নি। কেননা আমরা সামগ্রিকভাবে দেশের পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে গবেষণা করেছি। আর এক্ষেত্রে বেশিরভাগ শিক্ষার্থীকেই অনাবাসিকভাবে থাকতে হয়। যদি জাবির হলভিত্তিক তথ্য সংগ্রহ করে গবেষণা কর হত তাহলে হয়তো পলিটিক্যাল ফ্যাক্টরটাও অনেক গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতো।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীকল্যাণ ও পরামর্শদান কেন্দ্রের উপ-পরিচালক মনোবিজ্ঞানী সুভাশীষ কুমার চ্যাটার্জী বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের অর্থনৈতিক দিকটি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন ফান্ডের আওতায় এনে সমাধান করতে পারে। আমরা যেটা পারি সেটা হল শিক্ষার্থীরা যখন অর্থনৈতিক অস্বচ্ছতার ফলে হীনমন্নতায় ভোগে তখন মানসিক সাপোর্ট, মেডিটেশন, কাউন্সিলিং করাতে। এতে শিক্ষার্থীরা হয়তো সাময়িকভাবে হতাশা থেকে বের হবে তবে অর্থনৈতিকভাবে সাপোর্টটা না পেলে চূড়ান্তভাবে সমাধান হবে না।’

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button

You cannot copy content of this page