ক্যাম্পাসলিড নিউজ

র‍্যাগিং এর শিকার জাবির প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীরা

জাবি প্রতিনিধি:

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) আল বেরুনী হলে গত ২২ মে বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় বর্ষের (৫০ তম ব্যাচ) একাধিক শিক্ষার্থীর উপর প্রথম বর্ষের (৫১ তম ব্যাচ) শিক্ষার্থীদের গণরুমে ঢুকে রাতভর র‍্যাগিং এর অভিযোগ উঠেছে।

গতকাল (২৫ মে) বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর বরাবর লিখিত অভিযোগ করেন মুরাদ হাসান (আইন ও বিচার বিভাগ-৫১) নামের এক ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী।

এ ঘটনায় অভিযুক্তরা হলেন, ৫০ তম ব্যাচের শিক্ষার্থী  সাকিব (বিআইসিএলসি), এনাম (ফিন্যান্স), আসিক (অ্যাকাউন্টিং) এবং নাম না জানা আরো কয়েকজন।

ভুক্তভোগী সেই শিক্ষার্থী অভিযোগপত্রে উল্লেখ করেন, আমি বরাদ্দকৃত আল-বেরুনি হলের ৫১ তম আবর্তনের একজন শিক্ষার্থী। গত ২২.০৫.২৩ তারিখ দিবাগত রাত তথা আনুমানিক প্রায় সাড়ে ১২টা নাগাদ একই হলের ৫০ তম আবর্তনের কতিপয় শিক্ষার্থীরা আমাদের গণরুমে আসেন। তারা অকথ্য ভাষায় গালিগালাজসহ বাবা-মা তুলেও অত্যন্ত অম্লীল ভাষা প্রয়োগ করেন। তারপর মুরগির ভঙ্গিতে অনেকক্ষণ বসিয়ে রাখাকালে আমাদের একজন শিক্ষার্থী বন্ধু অজ্ঞান হয়ে মেঝেতে পড়ে যান। আরেকজন শিক্ষার্থী বন্ধু তীব্র রক্তচাপজনিত কারণে অসুস্থ হয়ে পড়েন। এরপরেও তারা আমাদেরকে নিয়ে পর্ণগ্রাফির মতো অত্যন্ত নোংরা ও বিকৃত ভঙ্গির আচরণ করান। এরপর ভোর প্রায় ৪টা নাগাদ তারা গণরুম থেকে বেরিয়ে চলে যান। এ নিয়ে আমরা গণরুমের শিক্ষার্থীরা অত্যন্ত -ভীত ও শঙ্কিত অবস্থায় আছি।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ফুয়াদ হাসান বলেন, রাত প্রায় সাড়ে ১২টার দিকে ইমিডিয়েট কিছু সিনিয়ররা রুমে এসে হঠাৎ অকথ্য ভাষায় গালাগালি করতে শুরু করেন। পরে ম্যানার শেখানোর নামে বিভিন্ন অঙ্গ ভঙ্গিতে শারীরিক নির্যাতন করেন। এ নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে দুই একজন অসুস্থ হয়ে পড়েন। আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করতে এসেছি। র‍্যাগিংয়ের শিকার হতে না। আমরা র‍্যাগিং এর বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ে জিরো টলারেন্স দাবি করছি।

অভিযুক্ত শিক্ষার্থী শেখ নাজমুস সাকিব বলেন, ঐদিন আমরা কয়েকজন গনরুমের পাশ দিয়ে হেটে যাচ্ছিলাম। প্রথম বর্ষের কিছু শিক্ষার্থী জোরে জোরে গান বাজাচ্ছিল। আমরা শুধুমাত্র উচ্চস্বরে গান বাজাতে মানা করার কথা বলতে গিয়েছিলাম। সেখানে র‍্যাগিং এর কোন ঘটনা ঘটেনি।

এ বিষয়ে আল বেরুনি হলের প্রাধ্যাক্ষ অধ্যাপক সিকদার মো. জুলকারনাইন বলেন, আমি বিষয়টি নিয়ে প্রক্টর বরাবর অভিযোগ পত্রের কপিটি মাত্রই পেয়েছি। আজ রাত ৯ টায় আমাদের হলের একটি মিটিং আছে সেখানে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করে সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে অভিযুক্তদের বিচারের আওতায় আনা হবে।

জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর আ স ম ফিরোজ-উল-হাসান বলেন, আমি সন্ধ্যার সময় অভিযোগ পত্রটি পেয়েছি এবং উক্ত হলের প্রভোস্টকে  অভিযোগ পত্রটি ও দিয়েছি এবং এবং এ বিষয়ে তদন্ত সাপেক্ষে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করার কথা বলেছি।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button

You cannot copy content of this page