ক্যাম্পাস

ঈদের ছুটিতে নিষ্প্রাণ জবি ক্যাম্পাস

জবি প্রতিনিধি:

ঈদ-উল-আযহার ছুটিতে শিক্ষার্থীরা বাড়ি চলে যাওয়ায় ফাঁকা হয়ে গেছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) ক্যাম্পাস। শান্ত চত্বর, কাঁঠাল তলা, শহীদ মিনার কিংবা টিএসসিতে শিক্ষার্থীদের কোনো আনাগোনা দেখা যায়নি। সন্ধ্যা হতেই যেন নেমে আসে এক ঘোর নীরবতা।

রবিবার (২৫ জুন) বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল ক্লাস এবং পরীক্ষা বন্ধ ঘোষণা করার পরেই ক্যাম্পাস ছাড়তে শুরু করে সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

ভর্তিযুদ্ধের মাধ্যমে সুন্দর ক্যারিয়ার গড়ার লক্ষ্যে হাজারো শিক্ষার্থীকে পেছনে ফেলে বিশ্ববিদ্যালয়ে জায়গা করে নেয় মেধাবীরা। কিন্তু ভর্তি হওয়ার পর ক্লাস, পরীক্ষা, অ্যাসাইনমেন্ট, প্রেজেন্টেশনের ভিড়ে নিজেদের বাড়ির কথা একপ্রকার ভুলেই যায় শিক্ষার্থীরা। তাইতো ঈদের ছুটি যেন অমাবস্যার চাঁদ হয়ে আসে শিক্ষার্থীদের কাছে। ক্ষণিকের এ ছুটিতে নাড়ির টানে ঘরে ফেরে প্রাণের ক্যাম্পাস ছেড়ে। কিছু শিক্ষার্থী নিজেদের টিউশনি শেষ করে ঠিক ঈদের আগ মুহূর্তে বাড়ির উদ্দেশে রওনা করেন তার প্রিয়জনের জন্য কোনো উপহার নিয়ে।

মূলত ঈদের ছুটিকে কেন্দ্র করে এই অপেক্ষাটি একটু বেশিই থাকে। ঈদের ছুটির দিনক্ষণ কবে ঘোষণা হবে সেই জন্য উতলা মন নিয়ে অপেক্ষা করতে থাকে প্রত্যেকটি শিক্ষার্থী।আর তা ছাড়া সব সময় সব আত্মীয় স্বজনকে এক সঙ্গে পাওয়াও যায় না ঈদের মতো বড় কোন উৎসব ছাড়া। তাই তারা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করতে থাকে কবে বাজবে ছুটির ঘণ্টা। আর যখন সেই বহু কাঙ্খিত ছুটির সন্ধান মেলে তখন শুরু হয়ে যায় বাড়ি ফেরার প্রস্তুতি। মূলত তখন থেকেই তাদের মনের মধ্যে শুরু হয়ে যায় ঈদের আনন্দ। টিকেট কাটা থেকে শুরু করে কাপড়-চোপড় গুছানো সবকিছুতেই তখন বিরাজ করে উৎসব উৎসব আমেজ।আর এই উৎসবের আমেজকে পূর্ণতা দিতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাস ছেড়ে পাড়ি জমাচ্ছেন নিজ গন্তব্যে।

ভোলা থেকে আসা লোক প্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থী আমিরুল ইসলাম রোকন বলেন, ’সারাদিন ক্লাস, প্রেজেন্টেশন, ভাইবা, পরীক্ষা এরপর আবার টিউশন কিংবা কোচিং: সব কিছু জয় করে বাড়ি ফেরার আনন্দটা একমাত্র পরিবার থেকে দূরে থাকা শিক্ষার্থীরাই বুঝতে পারে । ঈদুল ফিতরের পরে দীর্ঘ ২ মাস পর ঈদুল আযহা উপলক্ষে আবারো ফিরছি নীড়ে। পরিবার-পরিজন, বন্ধু-বান্ধবসহ ঈদ করার আনন্দের চেয়ে বড় আনন্দ এই পৃথিবীতে বোধহয় নেই। আশা করি ছুটির সময়গুলো স্বপ্নের মত কাটবে।’

নড়াইল থেকে আসা ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী জান্নাতুল ফেরদৌস ইথু বলেন, ’সারা বছর একঘেয়ে পরিবেশে একা টিকে থাকার লড়াইটা বেশ ক্লান্তিকর। ঈদের সময় বাড়ি ফেরার পর পরিচিত পরিবেশে ফেরার পর মনে হয় আবার প্রাণে পূর্নতা আসেছে,মানসিক সতেজতা ফিরে পেয়েছি। মা, বাবা, বোনের সাথে কাটানো সময়টুকু সারাবছর ঢাকায় একা থাকার অনুপ্রেরণা যোগায়।’

যশোর থেকে আসা ভূমি ব্যবস্থাপনা ও আইন বিভাগের শিক্ষার্থী দিপু কুমার রায় বলেন,’ঈদের ছুটিতে বাড়ি ফেরা এক অন্যরকম অনুভুতি। কখনো কখনো মনে হয় আমরা হয়তো চলন্ত রেলগাড়ির মতো জীবন লক্ষ্যে ছুটে চলছি। পরিবারকে ছেড়ে আসার ইচ্ছা কখনো ছিল না কিন্তু এক মসৃণ ভবিষ্যৎ গঠনের তারণায় এত দূরে থাকা। সবসময় মনে হয় ছুটি কখন হবে আমি নিজের শেকরে ফিরে যাব। এই শহরের যান্ত্রীকতা আমার কাছে দূর্বীসহ লাগে। সবসময় মনে হয় পরিবারের সাথে গ্রামের সিগ্ধ পরিবেশে থাকি। ঈদের ছুটি আসলেও চিন্তা থাকে বাড়ি ফেরার। অনেক অপেক্ষার পরে যখন একটা বাসের টিকিট পাওয়া যায় তখন মনে হয় আমি সব থেকে সুখী মানুষ। হঠাৎ বাস ছাড়ে আর মনের উৎফুল্লতা বেড়ে যায় এইতো চলে এসেছি নিজ বাড়িতে।’

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button

You cannot copy content of this page