ক্যাম্পাসলিড নিউজ

“আপনারা কি পারবেন নিজেদের সেইভ করতে” ইবিতে সিনিয়রকে তাচ্ছিল্য করে জুনিয়র

ইবি প্রতিনিধি:

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) ক্যাম্পাস বাসে জুনিয়র কর্তৃক এক সিনিয়র ছাত্রীকে হেনস্তার অভিযোগ উঠেছে। এসময় সিনিয়রকে লক্ষ করে ‘জিয়নের পুরুষ ইগো হার্ট হয়েছে সে এখন আপনাদের সাথে ঝামেলা করবে। আপনারা কি পারবেন নিজেদের সেইভ করতে?’ তাচ্ছিল্য করা হয় বলে অভিযোগ সুত্রে জানা গেছে।

এ ঘটনায় গত (২৬ জুন) বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেষ্টা বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী। ভুক্তভোগী আসমা আরা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী।

অভিযুক্তরা হলেন ল’ এন্ড ল্যান্ড ম্যানেজমেন্ট বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী নওরিন নুসরাত, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী জিয়ন সরকার ও সিয়াম।

ভুক্তভোগী লিখিত অভিযোগপত্রে বলেন, গত ১৯ জুন ক্যাম্পাসের বাসে কুষ্টিয়া শহর হতে ফেরার সময় বাসের উপর তলায় এক বহিরাগত লোক ওঠে। এতে বাসের হেলপার মামা শিক্ষার্থীদের থেকে অভিযোগ ওঠায় বহিরাগত লোকটিকে নেমে যেতে বলেন। এসময় এক জুনিয়র বলেন উনাকে নামিয়ে দেন আমাদের বাসে কেনো অন্য কেউ যাবে। তখন অভিযুক্ত জিয়ন সরকার ওই ছেলের কলার চেপে ধরে এবং ওর সাথে ঝামেলায় জড়ায়। তখন আমি বলি আপনারা ঝামেলা করছেন কেনো? ক্যাম্পাসের বাসে তো বাইরের লোক ওঠার নিয়ম নেই। তখন নওরীন নূসরাত বলে বহিরাগত মামাকে তো মানবিক দিক থেকে বাসে নিতে পারি। তখন আমি বলি আজ মানবিক কারণে এরকম করলে কাল দেখবে আরো কেউ এরকম কথা বলছে।

এসময় জিয়ন সরকার আমাকে উদ্দেশ্য করে বলে- ‘এই মেয়ে আপনার নাম কি? সেশন কত? আমাকে চেনেন আমি কে? আপনার সাহস হয় কি করে আমার কথার মধ্যে কথা বলবার?’ সেখানে একেঅপরের সাথে কথা কাটাকাটির পর বিষয়টি থেমে যায়।

পরে ক্যাম্পাস গেটে পৌছালে তারা গাড়ি থামিয়ে দেয় এবং নওরিন আমাকে বলে- “জিয়নের পুরুষ ইগো হার্ট হয়েছে সে এখন আপনাদের সাথে ঝামেলা করবে। আপনারা কি পারবেন নিজেদের সেইফ করতে?” পরক্ষণে জিয়ন ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের সিয়ামকে ডেকে নিয়ে আসে। সিয়াম বাসে উঠে আমাকে উদ্দেশ্য করে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করে। এসময় জিয়ন আমাকে দেখিয়ে বলে এই আপু ঝামেলা করেছে। তখনও সিয়াম আমাকে অশ্লীল ভাষায় গালি দেয়৷ পরে নওরিন ও সিয়াম আমার হাত ধরে টানাটানি করে বাস থেকে নামায় এবং আমার পরিচিত কাউকে ফোন দিতে বলে। পরিস্থিতি দেখে আমার বান্ধবী সাদিয়া তাসনিম বিপাশা ফোন বের করে সাহায্যের জন্যে কাউকে ফোন দিতে গেলে জিয়ন ফোন কেড়ে নেয়৷ এসময় নওরিন আমাকে ছেড়ে আমার বান্ধবীকে ধরে এবং সিয়ামরে বলে আমার বান্ধবীরে টেনে বাস থেকে নিচে নামাতে।

পরে সেখানে ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের ইংরেজি বিভাগের রাহুল, আইসিটি বিভাগের রেজা এবং ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের মিশু বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করলেও তারা মারমুখী আচরণ করে বলে ভুক্তভোগী অভিযোগ করেছেন।

এ বিষয়ে ভুক্তভোগী ছাত্রী জানান, “সেদিন এক বহিরাগতকে নিয়ে এ ঝামেলার সৃষ্টি হয়। পরে আমার পরিচয় দেয়ার পরও জিয়ন আমার সাথে ঝামেলা করে। আমি শিক্ষাবর্ষে সিনিয়র পরিচয় দেয়ার পরও সিয়ামকে ডেকে সে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করে এবং হাত ধরে টানাটানি করে। আমার পরীক্ষার ব্যস্ততা থাকায় যথাসময়ে অভিযোগ দিতে পারিনি। আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও ছাত্র উপদেষ্টা বরাবর অভিযোগ দিয়েছি।”

অভিযুক্ত জিয়ন সরকার বলেন, “এক বয়স্ক বহিরাগত নিয়ে ঝামেলার সূত্রপাত। যেখানে মানবিকতার দিক থেকে ওই বয়স্ক লোকটিকে নামাতে বাধা দেয়৷ একপর্যায়ে সেখানে থাকা সিনিয়ার আপুরা আমার সাথে খারাপ আচরণ করে। পরে নিজেদের সেশন ১৬-১৭ দাবি করে বলে- তোরা কি করবি কর এবং কথা কাটাকাটি হয়। সেখানে যে অভিযোগগুলো করা হয়েছে তা অযৌক্তিক ও ভিত্তিহীন। বরঞ্চ সেখানে তারা সিনিয়র হিসেবে আমাদের র‍্যাগিং করছিলো। তারা বলছিলো আমরা ১৬-১৭ সেশন তোমাদের দেখে নিবো, আমরা কোন হলে থাকি জানো? এরকম নানান কথা বলে হুমকি দিচ্ছিলো। কিন্তু সেদিন ঘটনাটা সিনিয়রদের উপস্থিতিতে সেখানেই মিটমাট হয়ে গেছিলো।”

গালিগালাজ ও হাত ধরে টানাটানির বিষয় জানতে চাইলে সিয়াম বলেন, “তাদের সাথে আমার হাত ধরে টানাটানি ও অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ কোনটিই ঘটেনি। উনি যে অভিযোগ করেছেন তা সম্পূর্ণ মিথ্যা এগুলো আমাদের উপর চাপানো হচ্ছে। বরং আমরাই সেখানে র‍্যাগিংয়ের স্বীকার হয়েছি। এছাড়া তারা আমাদেরকে উচ্চস্বরে বলছিল, এই তুমি চুপ করো। আমরা যখন বাস থেকে নেমে যাচ্ছিলাম তখনো তারা বলছিল তোমাদেরকে দেখে নেব। তারা বড় ভাইদের উপস্থিতিতে আমাদের উপর চড়াও হয়েছেন।”

আরেক অভিযুক্ত নওরিন নুসরাত বলেন, “সেদিনের ঘটনায় যে অভিযোগ করা হয়েছে তা পরিকল্পিত। সেদিন একটা সামান্য ঘটনায় ঝামেলা হয়েছিলো পরে মিটমাট হয়ে যায়। কিন্তু সেদিন আমি নিজেই বাসে থাকা সিনিয়র আপুদের দ্বারা র‍্যাগিংয়ের স্বীকার হয়। তারা এতোদিন পরে এসে অভিযোগ করছেন যা পরিকল্পিত।”

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক শেলীনা নাসরীন সাংবাদিকদের বলেন, “অভিযোগ দেওয়ার ব্যাপারে এক ছাত্রী আমাকে ফোন দিয়েছিল। আমি তাকে বলেছিলাম, এখন যেহেতু অফিস ছুটি অভিযোগ দিলেও ব্যবস্থা নিতে পারবো না। সেহেতু তাকে ছুটির পরে সরাসরি অফিসে এসে অভিযোগ দিতে বলেছি। তখন অভিযোগ দিলে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button

You cannot copy content of this page