ক্যাম্পাসলিড নিউজ

কেমন কাটছে ঢাবি অধিভুক্ত সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ শিক্ষার্থীদের ঈদ ছুটি!

কাজী তাবাসসুম, সোহরাওয়ার্দী কলেজ প্রতিনিধি:

ঈদ মানে আনন্দ,ঈদ মানে খুশি। মুসলিমদের সবচেয়ে বড় উৎসব হচ্ছে ঈদ আর ঈদের ছুটিতে সবাই তাঁর পরিবারের সদস্যদের সাথে সময় কাটাতে পছন্দ করে‌।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত কলেজগুলোতেও চলছে ঈদের ছুটির মৌসুম। জানা যায় প্রায় (১১-১৩) দিনের ছুটি পাচ্ছে শিক্ষার্থীরা। এতোদিনের ছুটি পেয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজের শিক্ষার্থীরা খুবই খুশি। পরিবার-পরিজন, নিকট আত্মীয়ের সাথে দেখা হবে এই খুশি শিক্ষার্থীদের মনকে আনন্দিত করেছে।

এছাড়াও জানা যায় যে, বিভিন্ন ডিপার্টমেন্টের শিক্ষার্থীরা গ্রামে চলে গিয়েছে। তবে বেশ কিছু শিক্ষার্থীরা এখনো বাস কিংবা ট্রেনের টিকিট পায়নি তবুও পরিবারের সাথে ঈদের ছুটি কাটাতে কষ্ট করে হলেও বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দিচ্ছে শিক্ষার্থীরা।

ঈদের পর পরীক্ষা হবার সূত্র ধরে কিংবা কাজের ব্যস্ততায় কিছু শিক্ষার্থী ঢাকা রয়েছে বলে জানা যায়। তবে প্রাতিষ্ঠানিক কোনো হল না থাকার কারণে শিক্ষার্থীদের মেসে থাকতে হয়। যার ফলে দেখা যায় যে তাঁদের খাবার সহ বিভিন্ন ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হতে হয় ছুটির সময়ে।

ইসলামিক স্টাডিজ (২০-২১) বিভাগের মো. রাজিবুল্লাহ এ প্রসঙ্গে জানান, ঈদ মানে আনন্দ আর এই আনন্দ আরো বেশি লাগে যখন বাড়িতে পরিবারের সাথে তা উপভোগ করা যায়। ঈদে ক্যাম্পাস ছুটি হওয়ার সাথে সাথেই বাড়ির উদ্দেশ্যে ঢাকা ছেড়ে যাওয়া শত মাইলের দূরত্ব অতিক্রম করে পরিবারের কাছে পৌঁছানো যে কত আনন্দের সে অনুভূতি বলে বোঝানো সম্ভব নয়। শহরের যান্ত্রিক পরিবেশ ছেড়ে শেকড়ের টানে গ্রামে আসা এবং গ্রামের প্রাকৃতিক পরিবেশ বেশ দারুন লাগছে।

এছাড়াও সমাজকর্ম (২০-২১) বিভাগের সোনিয়া রানী শর্মা এ প্রসঙ্গে বলেন, ঈদের ছুটিতে বাড়ি এসে খুবই ভালো লাগছে। পরিবার ছেড়ে থাকা খুবই কষ্টকর‌। ছুটিতে বাড়ি এসে পরিবারের সাথে ছুটি কাটাতে আমার খুবই ভালো লাগে এবং আমি খুবই খুশি। তাছাড়াও ঈদের ছুটিতে বাড়ি আছি ,আমার বান্ধবীরাও আছে।ভাই বোন, বান্ধবীদের নিয়ে ঘুরতে যাবো। বর্ষাকাল চলছে তাই আবহাওয়া সুন্দর হ‌ওয়ায় ফটোশ্যুট করার কথাও ভাবছি। এইতো ঘোরাঘুরি, ফটোশ্যুট, পরিবারের সাথে সময় কাটানো এভাবেই যাবে আমার ঈদ।

সমাজকর্ম (২০-২১) বিভাগের আর‌ও এক শিক্ষার্থী তাবাসসুম রেহনুমা এ প্রসঙ্গে জানায়, ঈদের ছুটির পর পরীক্ষা। এ সময়ে গ্রামে গেলে মোটামুটি বেশ কয়েকদিন না থাকলে ভালো লাগে না তাই এবার গ্রামে না গিয়েই তার পরিবারের সাথে ঢাকায় ঈদের ছুটি কাটাবে। তবে গ্রামে গেলে যে আনন্দ হয় সকলে মিলে তা সে মিস করবে। তবে এবার গ্রামে না গেলেও নানু বাসায় যাওয়া হবে।সেখানে আমার বোনরা আছে তাঁদের সাথে একত্রে বসে খাবার খাওয়া,আড্ডা দেওয়া হবে‌। তাছাড়াও ঈদের সময় ঢাকা শহর ফাঁকা থাকে হয়তো এবার বোনেরা মিলে কোথাও ঘুরতেও যেতে পারি। সবমিলিয়ে আশাকরি যে ঈদ আমার ভালোই কাটবে।

বাংলা বিভাগ (১৮-১৯) এর আকবর চৌধুরী এ প্রসঙ্গে বলেন, মুসলিম জাতির বড় দুইটি ধর্মীয় উৎসব হলো দুইটি ঈদ। মায়ের আঁচল ছেড়ে বের হওয়া সন্তান চাইলেও সহজে আর সেই আঁচলে ফিরে যেতে পারে না। বিশ্ববিদ্যালয় জীবন শুরু করার সাথে সাথে আমরা যে স্বাধীনতা পাই। সেখানে সব থাকলেও নেই পরিবারের ছোঁয়া। সারাদিনের ক্লাস, এসাইনমেন্ট, সংগঠন, পরীক্ষা, আড্ডা, চাকরি এই গুলোর মাঝে পরিবারের কথা মনে আসলেও মস্তিষ্কে বেশিক্ষণ জায়গা দেওয়া যায় না। চাইলেই ছুটে আসা যায় না পরিবারে কাছে, মায়ের আঁচলের নীচে। তবুও এই দূরত্ব ভেঙে নিজেকে বাঁধতে ইচ্ছে করে মায়ের সেই নরম আঁচলে।

ঈদে ছুটির আনন্দ আমাদের সাময়িকের জন্য সেই স্বর্গীয় সুখ পাওয়ার সুযোগ করে দেয়। সকল ব্যস্ততা উপেক্ষা করে আমরা ফিরে আসি পরিবারের কাছে। মায়ের ভালোবাসা,বড় ভাই-বোনের আবদার,এলাকার বন্ধুদের সাথে আড্ডা,সব যেন স্বপ্নের মতো সুন্দর। মায়ের ভালোবাসা স্নেহ থেকে দূরে থাকা প্রত্যেকটা সন্তানের মনে এই আনন্দ ছড়িয়ে পড়ুক।

ইংরেজি (২০-২১) বিভাগের শিক্ষার্থী রায়হান জানায়, এখন মূলত ঈদ উপলক্ষ্যেই গ্রামের বাড়িতে যাওয়া হয়, বিশেষ করে কুরবানীর ঈদে। তাছাড়া তেমন একটা গ্রামের বাড়িতে যাওয়া হয় না। ব্যক্তিগতভাবে রোজার ঈদের তুলনায় কোরবানি ঈদ টাকে বেশি উপভোগ করে থাকি আমি। কেননা গরুর হাটে যাওয়া গরু কিনে আনা এবং ঈদের দিন গরু জবাই করা ইত্যাদি বিষয় গুলো একটু বেশি এক্সাইটিং লাগে আমার কাছে। সব থেকে বড় কথা হল পরিবারের সকলে একত্র হই আর আমাদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসবের মধ্যে একটা আমরা তাদের সাথে পালন করতে পারি। সেই বিবেচনা করলে আমার কাছে আসলেই কুরবানি ঈদ খুবই আনন্দ আর উপভোগের মধ্য দিয়ে পালিত হয়।

হিসাববিজ্ঞান (২১-২২) বিভাগের সৌরভ এ প্রসঙ্গে জানায়, প্রতি বছরের মতো এবারও পরিবারের সাথে ঈদ কাটাবো। অনেক মজা করবো। কেননা পরিবারের সাথে ঈদের ছুটি কাটানোর মজাই আলাদা। পরিবারের সবাই মিলে, বন্ধু-বান্ধব মিলে একসাথে আমরা পিকনিকের আয়োজন করি এবং সেখানে সবাই রান্নার কাজে সহায়তা করে থাকি।একসাথে বসে খাবার খাই এভাবেই আমার ঈদ কাটে। তাছাড়াও পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের সাথে ঈদের সময় কথাবার্তা হয় তাঁদের বাড়িতে বেড়াতে যাওয়া হয়।

গত বৃহস্পতিবার (২২জুন) ছিল সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজে ঈদের আগে শেষ ক্লাস। ঈদের ছুটির পর আগামী রবিবার (৯ জুলাই) শিক্ষার্থীরা আবার তাঁদের কলেজ ক্যাম্পাসে ফিরবে বলে কলেজ প্রশাসন থেকে জানা যায়।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button

You cannot copy content of this page