ক্যাম্পাসলিড নিউজ

ছাত্রলীগের এক নেতাকে মেরে কান ‘ফাটিয়েছে’ ছাত্রলীগেরই দুই নেতা!

রাবি প্রতিনিধি:

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের এক নেতাকে মেরে কান ‘ফাটিয়ে’ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ওই ছাত্রলীগেরই অন্য দুই নেতার বিরুদ্ধে৷ গত মঙ্গলবার (০১ আগস্ট) রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শেরে বাংলা ফজলুল হক হলের অতিথি কক্ষে ডেকে এনে মারধর করেন তারা। ঘটনার পর শ্রবণশক্তি হারানোর শঙ্কায় আছেন ভুক্তভোগী ছাত্রলীগ নেতা।

এদিকে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক আসাবুল হক বরাবর তিনি একটি অভিযোগ দেন।

ভুক্তভোগী ছাত্রলীগ নেতার নাম নজরুল ইসলাম। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের শেরে বাংলা ফজলুল হক হল শাখা ছাত্রলীগের গ্রন্থনা ও প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক এবং ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী। অন্যদিকে অভিযুক্তরা হলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের আমীর আলী হল শাখা ছাত্রলীগের ধর্ম বিষয়ক উপসম্পাদক আল-আমিন ও বঙ্গবন্ধু হল ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আলফাত সায়েম জেমস।

অভিযোগপত্র ও ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী সূত্রে জানা যায়, গত মঙ্গলবার রাতে শের-ই বাংলা হলের রিডিং রুমে পড়ছিলেন নজরুল। কিন্তু পাশেই উচ্চস্বরে মুঠোফোনে কথা বলছিলেন সৈয়দ আমীর আলী হল ছাত্রলীগের ধর্ম বিষয়ক উপসম্পাদক আল-আমিন। নজরুল তাকে জোরে কথা বলতে নিষেধ করায় আল আমিন তার ওপর চড়াও হন। দুজনের মধ্যে তর্কাতর্কি শুরু হয়। এসময় নজরুলকে হুমকি দিয়ে আল আমিন বলেন, ‘তুই জানিস আমি তোর কি অবস্থা করতে পারি?’।

এরপর আল আমিন বঙ্গবন্ধু হল ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আলফাত সায়েম জেমসকে ডেকে নিয়ে আসেন। দুজনে মিলে নজরুলকে শের-ই-বাংলা হলের গেস্টরুমে নিয়ে গিয়ে গেস্টরুমের দরজা বন্ধ করে দিয়ে এলোপাতাড়ি মারতে থাকেন। মারধরের একপর্যায়ে নজরুল মাটিতে পড়ে যায় এবং তার কান দিয়ে রক্ত বের হয়। এ বিষয়ে কোথাও অভিযোগ জানালে অথবা কাউকে বললে তাকে আবার মারা হবে বলে হুমকি দিয়ে চলে যান অভিযুক্তরা।

এ বিষয়ে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী নজরুল ইসলাম বলেন, ‘আমার বাম কানে আগে থেকেই সমস্যা ছিল। আর সেই কানেই আঘাত করার ফলে কান দিয়ে প্রচুর রক্তপাত হয় ও আমি অজ্ঞান হয়ে পড়ি। পরে আমাকে বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টারে ভর্তি করানো হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা গ্রহণ করে পরদিন রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ডাক্তার দেখালে ডাক্তার আমাকে বলে আমার কানের যে সমস্যা হয়েছে তা সাড়িয়ে তুলতে বেশ সময় লাগবে এবং দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা করাতে হবে।’

নিজের ক্ষোভ প্রকাশ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ‘রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার’ নামক এক গ্রুপে পোস্ট করেন ভুক্তভোগী। তিনি লিখেছেন, ‘আজ আমি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার কারণেই আমার এই অবস্থা। বর্তমানে আমি মানসিকভাবে চরম বিপর্যস্ত এবং শারীরিকভাবে আমি শ্রবণ অনুভুতিহীন। তাই আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি আমি আমার স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অসম্পূর্ণ রেখে বিশ্ববিদ্যালয় ছেড়ে চলে যাবো।’

এ বিষয়ে অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেতা আল আমিন বলেন, ‘সেদিন আমাদের মধ্যে একটু ভুল বোঝাবুঝি হয়েছিল। তবে মারধরের কোন ঘটনা ঘটেনি। পরে সেটি জেমস ভাই ও প্রভোস্ট স্যার মিলে সমাধান করে দিয়েছেন। এখন সে তৃতীয় কোন পক্ষের প্ররোচনায় সহানুভূতি কুড়ানোর জন্য অভিযোগটি করেছে। আর তার বাম কানের সমস্যাটা নতুন নয়। সে ৩-৪ বছর যাবৎ চিকিৎসা করাচ্ছেন।

বঙ্গবন্ধু হল ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক জেমস বলেন, ‘গত ১ আগস্ট রাতে তাদের দুজনের মধ্যে তর্ক-বিতর্কের এক পর্যায়ে আল আমিন আমাকে ফোন করে। পরে আমি সেখানে উপস্থিত হয়ে দুজনের মধ্যে মিটমাট করে দেই। পরদিন হল প্রভোস্ট স্যার তাদেরকে ডেকে অফিসিয়ালি এই সমস্যার মিমাংসা করে দেন। আমি সেখানে উপস্থিত হবার পর কোন মারধরের ঘটনা ঘটেনি তবে এর আগে তাদের মধ্যে সামান্য হাতাহাতি হয়ে থাকতে পারে।’

বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ রুনু বলেন, ‘আমি যতদূর শুনেছি এই ঘটনার সমাধান প্রভোস্ট স্যার করে দিয়েছেন। তারপরেও কার প্ররোচনায় এ ধরনের অভিযোগ সে করল সেটি আমার জানা নেই।’

এ বিষয়ে শের-ই বাংলা হল প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক হাবিবুর রহমান বলেন, ‘ঘটনা জানার পর আমি দুই পক্ষকেই ডেকে বিষয়টি সমাধান করে দিয়েছি। কিন্তু সেসময় নজরুল আমাকে নিরাপত্তাহীনতার বিষয়টি জানায়নি। তবে ওই শিক্ষার্থী আমাকে কোন লিখিত অভিযোগ দেয়নি। তবে হল প্রাধ্যক্ষ হিসেবে তার নিরাপত্তার জন্য সব ধরনের চেষ্টা করবো। একই সঙ্গে ঘটনাটি তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। আর অভিযুক্ত আল আমিন যদি আমার হলের আবাসিক শিক্ষার্থী না হয়ে থাকে তাহলে তাকেও হল থেকে বের করার ব্যবস্থা করবো।’

সার্বিক বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক আসাবুল হক বলেন, ‘এটি যেহেতু হলের বিষয় তাই এটি হল প্রাধ্যক্ষ সমাধান করবেন। তারা আমার কাছে অভিযোগ নিয়ে এসেছিলেন। কিন্তু আমি হল প্রাধ্যক্ষের কাছ থেকে জানতে পেরেছি তিনি বিষয়টি সুরাহা করেছেন।’

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button

You cannot copy content of this page