ক্যাম্পাসলিড নিউজ

শোকাবহ আগস্ট, তারুণ্যের চোখে বঙ্গবন্ধু

হোসাইন মোহাম্মদ, কুবি প্রতিনিধি:

বছর ঘুরে আবার ফিরে এসেছে আগস্ট মাস। আগস্ট আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় করুণ সেই কালরাত্রির স্মৃতিকে। যে বিশাল হৃদয়ের অধিকারী মানুষকে পাকিস্তানের স্বৈরশাসকগোষ্ঠী পর্যন্ত বিন্দুমাত্র স্পর্শ করতে পারেনি, শেষ পর্যন্ত তাকেই সপরিবারে জীবন দিতে হয়েছিল তার নিজ হাতে গড়ে তোলা সোনার বাংলাদেশে। তিনি আর কেউ নন হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালী, স্বাধীনতার মহান নায়ক, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। মূলত বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের হত্যা বাংলাদেশের অগ্রযাত্রাকে থামিয়ে দেওয়ার পূর্বপরিকল্পনার অংশবিশেষ। বাংলাদেশের ইতিহাসের প্রতিটি পাতা জুড়ে মিশে আছে যার নাম। যে নাম উচ্চারিত না হলে বাঙালির আত্মপরিচয় পূর্ণতা পায় না। সেই অসীম সাহসী আর অকুতোভয় জাতির পিতা ও শোকাবহ আগস্ট নিয়ে তারুন্যের শিক্ষার্থীদের ভাবনা কী? এ বিষয়ে ডেইলি দর্পণে তুলে ধরেছেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হোসাইন মোহাম্মদ…

“তারুণ্যের পথপ্রদর্শক বঙ্গবন্ধু”

শোকাবহ আগস্ট মাস এলেই মনে পড়ে যায় সেই ভয়াবহ স্মৃতি, যা আমাদের বেদনার্ত করে তোলে। ১৯৭৫ সালে, বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং তার পরিবার সদস্যদের হত্যা করা হয়।আমি তার পরিবারের বিদেহি আত্মার মাগফেরাত কামনা করি।শোকাবহ আগস্ট মাসে তারুণ্যের চোখে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের উদ্যম, গভীর ভালোবাসা, এবং সর্বোচ্চ স্থান পেয়েছে আমাদের মনের মধ্যে। তার নেতৃত্বে বাংলাদেশ স্বাধীনতার পথে অগোচর সংকটের সময়ে তার অদম্য সাহস এবং অপার সংগ্রাম সত্যিই অসাধারণ। তার নেতৃত্বে গড়ে ওঠা নয় মাসের মুক্তিযুদ্ধ বাঙালি জাতির মুক্তির প্রতীক হিসেবে তিনি বেদনাদিগ্ধ হয়েছেন। তার দক্ষতা এবং দৃঢ় নিশ্চয়তা তাকে একটি নতুন দেশের নির্মাতা হিসেবে আসর দিয়েছে। এই শোকাবহ আগস্টে তার প্রতি রইলো বিন্রম শ্রদ্ধা।

আরাফাত হোসেন অভি
ইংরেজি বিভাগ
যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।

“ইতিহাসের কালো অধ্যায় আগস্ট”

বাঙালির শোষণ মুক্তির অনন্য নায়ক বঙ্গবন্ধু, হারিয়ে গেছে ঠিক। সঞ্জীবনী বাঁশির সে সুর, সাজছে সুনির্ভীক। বাঙালির জীবনে আগস্ট অনেক হারানো বেদনা নিয়ে আসে। অনেক শোক আর বেদনাময় স্মৃতির পসরা সাজিয়ে আসে আগস্ট। স্বাধীন বাংলাদেশে এ মাসে নেমে আসে বাঙালি জাতির উপর এক কালো থাবা। বাঙালির ইতিহাসে এক কলঙ্কিত অধ্যায় শুরু হয় এ মাস থেকে। ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৮তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে আগস্ট মাসকে নতুন করে বাঙালির কাছে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার কিছুই নেই। এই দিনে ক্ষমতালোভী পাষন্ড, বর্বরদের হাতে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টে ধনামন্ডির ৩২নং বাড়িতে সপরিবারে নিহত হয়েছিলেন বাঙালি জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমান। প্রতি বছর এদিন বাঙালি জাতির জন্য জাতীয় শোকের দিন।

মো. সালমান চৌধুরী,
ফিন্যান্স এন্ড ব্যাংকিং বিভাগ
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়।

“বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশ অবিচ্ছেদ্য দুই শব্দ”

“ঘাতকরা মনে করেছিল বঙ্গবন্ধুকে মেরে ফেললেই বঙ্গবন্ধু মানেই বাংলাদেশ হয়ে যাবে সব শেষ, কিন্তু তারা বুঝতে পারেনি বঙ্গবন্ধু মানেই বাংলাদেশ।” বাংলাদেশ ও বঙ্গবন্ধু এক ও অভিন্ন। তিনিই ছিলেন বাঙালির স্বপ্ন ও বাস্তবতার সার্থক রূপকার। এই মহান মানুষটিকেই কিছু ঘাতকচক্র নির্মমভাবে সপরিবারে হত্যা করেছিল ১৫ আগস্টে, যা মানব সভ্যতার ইতিহাসে ঘৃণ্য ও নৃশংসতম হত্যাকান্ডের কালিমালিপ্ত বেদনাবিধূর শোকের দিন। নরপিশাচরূপী খুনিরা জাতির পিতাকে হত্যা করেই ক্ষান্ত হয়নি, বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার প্রক্রিয়া বন্ধ করতে ঘৃণ্য ইনডেমনিটি আইন জারি করেন। জাতির পিতা তার সকল অনুভূতি, ত্যাগ, সংগ্রাম, বীরত্বপূর্ণ নেতৃত্ব, অদম্য স্পৃহা, দৃঢ় প্রত্যয়, বাঙালি জাতির প্রতি গভীর ভালোবাসা, মমত্ববোধ, রাজনৈতিক দূরদর্শিতা ও আদর্শের দ্বারা সমগ্র বাঙালি জাতিকে উজ্জীবিত করে স্বাধীনতা অর্জনের চুড়ান্ত আত্নত্যাগে দীক্ষিত করে তুলেছিলেন। তার নেতৃত্বেই ৫২, ৫৪, ৬২, ৬৯ পার হয়ে ৭১ এ বাঙালি পেয়েছে তাদের কাঙ্খিত স্বাধীনতা। ইতিহাসের বিস্ময়কর নেতৃত্বের কালজয়ী স্রষ্টা তিনি, বাংলার ইতিহাসের মহানায়ক, স্বাধীন বাংলাদেশের স্বপ্নদ্রষ্টা, স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠাতা। তাই ১৫ আগস্টে জাতির পিতার বিদেহী আত্নার প্রতি শ্রদ্ধা রাখা তরুণ প্রজন্মের অঙ্গীকার।

সুমাইয়া জাহান ইকরা
ফার্মেসি বিভাগ
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়।

“বঙ্গবন্ধু এক অনুপ্রেরণার নাম”

বাংলার ইতিহাসের শিরা-উপশিরায় যার নাম, তিনি আর কেউ নন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। ১৯৪৮ সালের মার্চে বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা প্রতিষ্ঠার আন্দোলন থেকে ৭১-এর ৭ মার্চের ভাষণ, ২৬ মার্চে স্বাধীনতার ঘোষণাসহ প্রতিটি আন্দোলন- সংগ্রামে ছিলেন মূল ব্যক্তি। অতঃপর তার হাত ধরে ৭১ এর ১৬ ডিসেম্বর বিশ্বের মানচিত্রে স্থান করে নেয় বাংলাদেশ নামক একটি দেশ। স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে দেশে এসেই প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পান বঙ্গবন্ধু। ক্ষমতা গ্রহণের পর তিনি এ দেশকে গড়তে চেয়েছিলেন। যে জাতির জন্য তার এক বিশাল আত্মত্যাগ, সেই জাতিরই কিছু কুলাঙ্গার সন্তানরা ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট কাল রাতে সপরিবারে তাকে হত্যা করে। হত্যাযজ্ঞ থেকে রেহাই পায়নি দশ বছরের শিশু শেখ রাসেলও। আল্লাহর অশেষ রহমতে দেশের বাইরে থাকার কারণে বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য দুই কন্যা শেখ রেহানা ও শেখ হাসিনা বেঁচে যান। বঙ্গবন্ধু ভোলার নয়, বাঙালির রক্তে মিশে আছেন তিনি। বঙ্গবন্ধুর ভূমিকা ও অবদান ইতিহাসের পাতায় লেখা আছে এবং থাকবে। ছাত্ররাজনীতির ধ্রুবতারা, প্রতিবাদের অনুপ্রেরণা আমাদের জাতির পিতা।

রোম্মানা হোসাইন
ব্যবস্থাপনা বিভাগ
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button

You cannot copy content of this page