ক্যাম্পাসলিড নিউজ

ইবির ফার্মেসি বিভাগের বি.ফার্ম কোর্সের অভিস্বীকৃতি স্থগিত করেছে পিসিবি

ইবি প্রতিনিধি:

ফার্মেসি শিক্ষার যথাযথ মান না থাকায় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) ফার্মেসি বিভাগের বি.ফার্ম কোর্সের সনদের অভিস্বীকৃতি সাময়িক স্থগিত করেছে বাংলাদেশ ফার্মেসি কাউন্সিল (পিসিবি)।

গত জুন মাসে সরেজমিনে বিভাগটি পরিদর্শন করে সম্প্রতি এই সিদ্ধান্ত জানিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে নোটিশ দিয়েছে কাউন্সিলটি।

নোটিশে বিভাগটির শিক্ষার মান উন্নয়নে শিক্ষক নিয়োগ, ল্যাব স্থাপন, ল্যাবে প্রয়োজনীয় কেমিক্যাল, রিয়েজেন্ট ও যন্ত্রপাতির ব্যবস্থা করা এবং ল্যাব টেকনিশিয়ান নিয়োগসহ বেশ কিছু নির্দেশনা দেওয়া হয়। আগামী ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে এসব নির্দেশনা বাস্তবায়ন করে কাউন্সিলকে অবহিত করতে পারলে সাময়িক অভিস্বীকৃতি নবায়নের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। অন্যথায় ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষ থেকে বিভাগটিতে শিক্ষার্থী ভর্তি বন্ধ রাখতে হবে। যদি নির্দেশ অমান্য করে ভর্তি করা হয় তাহলে ওইসব শিক্ষার্থীর রেজিস্ট্রেশন দেবে না কাউন্সিল। এবং পাস করার পর পেশাগত সনদও দেওয়া হবে না বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়। তবে মানবিক দিক বিবেচনায় বর্তমানে অধ্যয়নরত ব্যাচসমূহকে সনদ প্রদান করবে কাউন্সিল।

বিভাগের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, ২০১৭ সালে প্রতিষ্ঠিত হওয়া বিভাগটিতে বর্তমানে পাঁচটি ব্যাচে ২৫০জন শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত রয়েছেন। প্রতিষ্ঠার সাত বছর পেরিয়ে গেলেও শিক্ষক, শ্রেণিকক্ষ, ল্যাব, ল্যাব সহকারী, অফিস কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ নানা সংকট এখনও কাটিয়ে উঠতে পারেনি বিভাগটি। এর মধ্যে শিক্ষক সংকটকে সবচেয়ে বড় সমস্যা হিসেবে দেখছেন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। অর্গানোগ্রাম অনুযায়ী বিভাগটিতে ১০ জন শিক্ষক নিয়োগের বিষয়ে উল্লেখ রয়েছে। এর মধ্যে ২০১৮ সালে চারজন শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হলেও বর্তমানে রয়েছেন মাত্র দুইজন। বাকি দুইজন শিক্ষক শিক্ষা ছুটিতে রয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগ থেকে ধার করা শিক্ষকদের দিয়ে পাঠদান কার্যক্রম অব্যাহত রাখলেও ওইসব শিক্ষকদের ক্লাস ঠিকভাবে বুঝতে পারেন না বলে জানান শিক্ষার্থীরা।

অন্যদিকে ফার্মেসি কাউন্সিলের নোটিশে আটটি ল্যাব স্থাপনের কথা বলা হয়েছে। কিন্তু বর্তমানে বিভাগটিতে রয়েছে মাত্র তিনটি ল্যাব। তবে সেগুলোর জন্যও নেই কোনও ল্যাব ইন্সট্রাক্টর। এছাড়া বিভাগের অন্য কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পদগুলোও শূন্য রয়েছে।

এসব সংকট নিরসনে গতবছরের সেপ্টেম্বর মাসে বিভাগে তালা ঝুলিয়ে আন্দোলন করেছিলেন বিভাগটির শিক্ষার্থীরা। তখন উপাচার্য এসব সমস্যা সমাধানে আশ্বাস দিলে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন স্থগিত করেন। অথচ এরপর প্রায় এক বছর অতিবাহিত হতে চললেও এখনও পর্যন্ত কোনো ধরনের সমাধানই মেলেনি।

শিক্ষার্থীরা বলেন, ‘বিভাগের সংকটসমূহ নিরসনে আমরা গত বছর বিভাগে তালা দিয়ে আন্দোলন করেছিলাম। সমস্যা গুলো সমাধানের আশ্বাস দেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত তেমন কোন সুরাহা মেলেনি। শুধুমাত্র শ্রেণিকক্ষে কিছু বেঞ্চ দিয়েছে। শ্রেণিকক্ষ সংকট থাকায় এখনো আমরা এখন আমরা ঠিকভাবে ক্লাস করতে পারছি না। একই সময়ে যেকোনো তিনটা ব্যাচ ক্লাস করলে, অন্য দুই ব্যাচকে বসে থাকতে হয়। এছাড়া এখন পর্যন্ত কোন নতুন শিক্ষক পাইনি। অন্যদিকে ল্যাবে প্রয়োজনীয় কেমিক্যাল, যন্ত্রপাতি এবং ল্যাব টেকনিশিয়ান না থাকায় আমরা ভালোভাবে শিখতেও পারছি না।’

বিভাগটির সভাপতি অর্ঘ্য প্রসূন সরকার বলেন, ‘বিভাগ খোলার শুরু থেকেই আমাদের অনেক কিছুর প্রয়োজন ছিলো। ২০১৭ সালে বিভাগ খোলার পর সাত বছরেও বিভাগটি স্বয়ংসম্পূর্ণ হতে পারেনি। প্রশাসন চাইলে বিভাগটিকে স্বয়ংসম্পূর্ণ করতে পারতো। কর্তৃপক্ষের স্বদিচ্ছা থাকলে অবশ্যই এতদিনে এই সংকটগুলো কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হতো। কিন্তু এসব সংকট নিয়ে প্রশাসনকে বরাবার অবহিত করা হলেও কোনো সমাধান পাওয়া যায়নি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ আবদুস সালাম বলেন, ‘আগামী মাসের ২ তারিখে ফার্মেসি বিভাগের শিক্ষক নিয়োগের বোর্ড আছে। এছাড়া আরও দুয়েকজন সিনিয়র শিক্ষক ও টেকনিশিয়ান নিয়োগেরও চেষ্টা চলছে। আর এটা নিয়ে আমরা একটা কমিটি করে দিয়েছি। কি কি করা লাগবে কমিটি আমাদেরকে জানাবে। আমরা সেই অনুযায়ী পদক্ষেপ গ্রহণ করবো।’

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button

You cannot copy content of this page