ক্যাম্পাসলিড নিউজ

জবিতে সাত হাজার ছাত্রীর বিপরীতে নেই ভেন্ডিং মেশিন

সুমাইয়া সিকদার অনামিকা, জবি প্রতিনিধি:

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) ছাত্রীদের জন্য নেই কোন স্যানিটারি ন্যাপকিন ভেন্ডিং মেশিনের ব্যবস্থা। ফলে পিরিয়ড চলাকালীন সময়ে ক্যাম্পাসে এসে নানা সমস্যায় পড়তে হয় ছাত্রীদের। হাতের কাছে ন্যাপকিন না থাকার ফলে প্রায়ই অস্বস্তিকর পরিস্থিতিতে পড়তে হয় তাদের।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ে ৩৬টি বিভাগ, ইন্সটিটিউট ও বিশ্ববিদ্যালয় মেয়েদের কমন রুম কোথাও নেই কোন ভেন্ডিং মেশিন। ইউজিসি বার্ষিক প্রতিবেদন-২০২১ অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রী সংখ্যা প্রায় ৭ হাজার। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৭ বছরেও ভেন্ডিং মেশিন স্থাপনের উদ্যোগ না নেওয়ায় হতাশা প্রকাশ করেছেন নারী শিক্ষার্থীরা।

তারা জানান, ঋতুস্রাবের দিনগুলোতে জরুরী স্যানিটারি ন্যাপকিন প্রয়োজন হলেও হাতের নাগালে না থাকায় অস্বস্তিকর পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে হয় তাদের। বিশেষ করে ক্লাস বা পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে বিপদে পড়ার অভিজ্ঞতা আছে অধিকাংশ নারী শিক্ষার্থীর। এ সমস্যা উত্তরণে ভেন্ডিং মেশিন স্থাপনের জন্য কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি তাদের।

এই মেশিন স্থাপন ছাত্রীদের জন্য আর্শীবাদ হবে বলে মনে করেন ভূগোল ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী আশিকা খানম। তিনি বলেন, ‘মেয়েরা এই বিষয়টি নিয়ে খুবই সংকোচ বোধে থাকে। এটি স্থাপনের ফলে আমাদের হঠাৎ প্রয়োজনে আমরা স্বস্তি পাবো। পরিক্ষা কিংবা ক্লাস চলাকালীন সময়ে আর দুশ্চিন্তায় পরতে হবে না। এটা হবে আমাদের জন্য আশীর্বাদস্বরূপ।’

ভেন্ডিং মেশিন স্থাপনের দাবি জানিয়ে লোকপ্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থী মাহিমা বলেন, ‘প্রায় সময়ই আমরা ক্যাম্পাসে এসে পিরিয়ডের কারণে অনাকাঙ্ক্ষিত ভোগান্তির শিকার হই। মাঝেমধ্যে ভোগান্তি লজ্জারও কারণ হয়ে দাঁড়ায়। যদি একটা ভেন্ডিং মেশিন থাকতো তাহলে আর ভোগান্তি পোহাতে হতো না। তাই ভেন্ডিং মেশিন স্থাপনে কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। ‘

ভেন্ডিং মেশিনের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করে সাংস্কৃতিক কর্মী তামজিদা ইসলাম বলেন, ‘স্বাস্থ্যবিধি বিবেচনায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে মেয়েদের জরুরী মূহুর্তে (পিরিয়ড) ভেন্ডিং মেশিন স্থাপনের পদক্ষেপটি যুগোপযোগী। আমাদের জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে মেয়েদের সংখ্যা বেশি হলেও সকল মেয়েদের জন্য ১টি মাত্র কমনরুম (বি.বি.এ ভবনের নিচে) এবং কিছু ডিপার্টমেন্ট এর নিজস্ব কমনরুম রয়েছে। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল শিক্ষার্থীদের জন্য সেখানে প্রবেশগম্যতা কম।অনেক সময় দেখা যায় মেয়েরা তাদের পিরিয়ড এর সময় তাদের যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাগুলো প্রয়োজন তারা সেটা নিতে পারছে না,তারা এটাই বুঝতে পারে না কোথায় থেকে কি করবে। বাইরের ফার্মেসি থেকে প্যাড কিনতে গেলে ও আশেপাশের মানুষ এমন ভাবে তাকায় যে মেয়েরা অস্বস্তিতে পড়ে।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৩তম আবর্তনের শিক্ষার্থী মৈত্রী বাড়ৈ বলেন, ‘অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয় গুলোতে ভেন্ডিং মেশিন থাকলেও আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের মেয়েরা সেই সুযোগ পাচ্ছে না। যদিও হলে ভেন্ডিং মেশিন আছে। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের সব মেয়ে তো আর হলে থাকছে না সেক্ষেত্রে ইর্মাজেন্সি প্রয়োজনে মেয়েদের জন্য একটা ভেন্ডিং মেশিন খুবই প্রয়োজন। মেয়েদের কমনরুমে একটা ভেন্ডিং মেশিনের জন্য জোড় দাবী জানাচ্ছি।’

এ বিষয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় স্বাধীন-শিক্ষক সমাজের সভাপতি অধ্যাপক হোসনে আরা বেগম জলি বলেন, ‘পিরিয়ড কালীন সময়ে মেয়েদেরকে এক্সট্রা হাইজিন মেইনটেইন করতে হয়,একজন মা কিংবা নারী হিসেবে আমি এটা মনে করি। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের মেয়েদের জরুরি মুহূর্ত বিবেচনায় কোন ভেন্ডিং মেশিন নেই, কিন্তু থাকা উচিত। যেন মেয়েরা প্রয়োজনের সময় সুবিধা পেতে পারে। কর্তৃপক্ষের উচিত দ্রুততার সাথে মেয়েদের সমস্যা বিবেচনায় দ্রুত ভেন্ডিং মেশিন স্থাপন। আর আমাদের মেয়েদেরও উচিত কর্তৃপক্ষের কাছে এই দাবি তুলে ধরা।’

বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রকল্যাণ পরিচালক অধ্যাপক ড. আইনুল ইসলাম বলেন, ‘আমি ছাত্রকল্যাণের দায়িত্বে আসার পর এই সংক্রান্ত কোন বাজেট পাইনি, আর আমাদের মেয়েরাও এর আগে দাবি জানায়নি। তবে মেয়েরা চাইলে অবশ্যই ভেন্ডিং মেশিনের জন্য কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করে মেশিন স্থাপনের ব্যবস্থা করা হবে।’

এবিষয়ে কথা বলতে উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইমদাদুল হকের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সাড়া পাওয়া যায়নি।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button

You cannot copy content of this page