ক্যাম্পাসলিড নিউজ

ইবির পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অফিস: বাঁকা পথই যেখানে সহজ সমাধান!

সাইফ ইব্রাহিম, ইবি প্রতিনিধি:

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দপ্তর থেকে শিক্ষাজীবন শেষে সনদপত্রসহ অন্যান্য কাগজপত্র উত্তোলনে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের। নিয়ম অনুযায়ী আবেদন করে দিনের পর দিন কর্মকর্তাদের টেবিলে ঘুরেও পাওয়া যায় না সমাধান। উল্টো আবেদনপত্র হারিয়ে যাওয়াসহ নানা বিড়ম্বনায় পড়তে হয় শিক্ষার্থীদের।

সংশ্লিষ্ট অফিসের তথ্য মতে, শিক্ষার্থীদের একাডেমিক ট্রান্সক্রিপ্ট, নম্বরপত্র ও সনদসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র উত্তোলনে স্বাভাবিকভাবে সময় লাগে ১৫ দিন। অন্যদিকে অতিরিক্ত ফি দিয়ে ‘জরুরী’ ভিত্তিতে আবেদন করলেও লাগে সাত দিন।

এদিকে শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, নিয়মমাফিক পন্থায় আবেদনের কাজ হয় ধীরগতিতে। আবেদনপত্র জমা দিয়ে যাওয়ার কয়েক দিন পর অনেকের আবেদন পত্রের আর হদিছ পাওয়া যায়না বলে অভিযোগ রয়েছে। কাউন্টার ও অফিস ফাঁকা থাকায় শিক্ষার্থীদের দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়।

তবে এসবের মধ্যে বিশেষভাবে দেখা যায় ভিন্ন চিত্রও। দপ্তরের কর্মকর্তাদের পরিচিতরা আবেদনপত্র জমা না দিয়ে হাতে হাতে কাজ করেন। এতে তারা দ্রুত কাগজপত্র পেয়ে যান। এছাড়া অভিযোগ রয়েছে কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারী শিক্ষার্থীদের থেকে অর্থ নিয়েও নিজেরা হাতে হাতে কাজ করে দেন। তাই শিক্ষার্থীরা নিয়ম অনুযায়ী সনদ উত্তোলনের পরিবর্তে নিজেরা হাতে হাতে সনদ নেওয়ায় আগ্রহী হচ্ছেন। এতে গোপনীয় শাখাসহ বিভিন্ন কক্ষে শিক্ষার্থীদের ভিড় দেখা যায়।

এ বিষয়ে ভুক্তভোগী আশিকুর রহমান বলেন, ‘এখানে যেকোনো কাগজপত্র উত্তোলনে ভোগান্তির শেষ নেই।আমরা যারা সাধারণ শিক্ষার্থী, তারা স্বাভাবিক নিয়মে আবেদন করে দিনের পর দিন কর্মকর্তাদের টেবিলে ঘুরে কাঙ্ক্ষিত কাগজপত্র পেতে প্রাণ কণ্ঠাগত হওয়ার উপক্রম হয়। অনেকের ক্ষেত্রে দেখা যায় সাত আট মাস পরেও কাগজপত্র হাতে পান না। অন্যদিকে অনেকেই দেখি নিয়ম ভেঙে বাড়তি টাকা দিয়ে হাতে হাতে কাজ করানোর মাধ্যমে দুই তিন দিনেই কাগজপত্র হাতে পেয়ে যান।’

ভুক্তভোগী আরও কয়েকজন শিক্ষার্থী জানান, আবেদনপত্র জমা দিয়ে গেলে তা সংশ্লিষ্ট টেবিলে পাঠাতে বিলম্ব করা হয়। ফলে গাফিলতির কারণে এলোমেলো ভাবে পড়ে থাকায় অনেক আবেদন পত্র হারিয়ে যায়।

এছাড়া কর্মকর্তা কর্মচারীরা ঠিকমতো অপেক্ষা করেন না বলে অভিযোগ শিক্ষার্থীদের। সরেজমিনে দেখা যায় অধিকাংশ সময়ই টেবিলে পাওয়া যায় না অনেক কর্মকর্তাকে। এ সময় তাদের দেখা যায় অন্য কোন অফিসে কিংবা ক্যাম্পাসের ঝাল চত্বরে চায়ের দোকানে। নিয়মের তোয়াক্কা না করেই যে যার ইচ্ছে মতো নাস্তা কিংবা খাবার খেতে চলে যান। একই অবস্থা আবেদনপত্র সংগ্রহ ও জমা দেওয়ার কাউন্টারেও। প্রশাসনের শীর্ষ কর্তাদের ব্যক্তিদের সব জেনেও চুপ থাকা ও কর্মকর্তাদের গাফিলতির জন্যই শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে বলে মনে করেন শিক্ষার্থীরা। এছাড়া কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কর্তৃক বাজে আচরণের অভিযোগও রয়েছে শিক্ষার্থীদের।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী অর্ক মজুমদার বলেন, ‘একে তো তারা ঠিকমতো অফিসে থাকেন না। আবার এমন একটা অবস্থা যে এটা নিয়ে কিছু বলাও যাবে না। জানতে চাইলে তারা এমনভাবে আচরণ করেন যেন জানতে চেয়ে আমরা কোন বড় অপরাধ করেছি। এছাড়া প্রায়ই তারা শিক্ষার্থীদের সাথে খারাপ ব্যবহার করেন।’

ওই দপ্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা হলে তারা বলেন, ‘সার্টিফিকেট লেখার জন্য এখানে লিপি কুশলী রয়েছেন মাত্র দুইজন। সার্টিফিকেট লিখলেও তারা এই পদে চাকরি পাননি। তাদের হাতের লেখা সুন্দর বলেই তাদেরকে লিখতে দেওয়া হয়েছে। পদোন্নতি জনিত কারণে নিচের দিকের কর্মচারী তথা পিয়নের সংখ্যা কম হওয়ায় সমস্যাগুলো আরো প্রকট হয়ে উঠেছে। এখন পিয়ন রয়েছে মাত্র পাঁচজন। তাদেরকে বিভাগ গুলোর পরীক্ষার কাজে দৌড়াতে হয়। হলে এদিকে আমাদের পানি দেওয়ার জন্য কেউ থাকেনা। সার্টিফিকেট লেখার জন্য কেউ একজন টেবুলার শিট থেকে তথ্যগুলো বলবে সেই লোকও নেই। এ বিষয়ে প্রশাসনকে অবহিত করা হলেও তারা কোন সমাধান দিচ্ছে না। ফলে চাহিদার তুলনায় কম জায়গায় এবং কম জনবল হওয়ার কারণে ভোগান্তীয় কমছে না।’

এ বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অফিস বর্তমানে ৩৬ টি বিভাগ, ২২টি সন্ধ্যাকালীন কোর্স এবং আইআইইআর এর অধীনে বিএড, এমএড, বিএনসিসি এর সনদপত্র, নম্বরপত্রসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেওয়ায় সেবা প্রদান করে থাকে। কিন্তু আমাদের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অফিস কার্যালয়ে পর্যাপ্ত জায়গা এবং জনবল না থাকায় ছাত্র-ছাত্রীদের সেবা প্রদানে সমস্যা হচ্ছে। আমরা অফিসের সকল স্তরের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের নিয়ে বসে শিক্ষার্থীদের হয়রানি বন্ধে কিভাবে কাজ করা যায় সেই নির্দেশ দিয়েছে । কেউ যদি কোন অনৈতিক লেনদেনের কথা বলে, খারাপ আচরণ করে বা কোন হয়রানি হয় তাহলে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক বরাবর লিখিত আকারে অভিযোগ করতে শিক্ষার্থীদের প্রতি আমাদের আহ্বান থাকবে।’

উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ আবদুস সালাম বলেন, ‘এ ভোগান্তির বিষয়ে অবগত আছি। আমি ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে নির্দেশনা দিয়েছি। দ্বিতীয় প্রশাসনিক ভবনের কাজ শেষ হলে ভোগান্তি অনেকটাই কমে যাবে বলে আশা করছি।’

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button

You cannot copy content of this page