ক্যাম্পাসলিড নিউজ

রাবির ফার্সি বিভাগে ১৭ বছর ধরে নিয়োগ নেই

রাবি প্রতিনিধি:

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগে ১৭ বছর ধরে শিক্ষক নিয়োগ হয়নি। দীর্ঘ শিক্ষক নিয়োগ না থাকায় একাডেমি নানা সংকটে পড়েছে বিভাগটি। বিভাগ সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিভিন্ন সময় শিক্ষক নিয়োগে নিষেধাজ্ঞা এবং কিছু প্রশাসনিক জটিলতার কারণে বিভাগে শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে দ্রুত শিক্ষক নিয়োগের জন্য কাজ করা হবে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৬২ সালে প্রতিষ্ঠিত ভাষা বিভাগে উদু, ফার্সি ও সংস্কৃত- এই তিনটি বিষয়ে আলাদাভাবে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হতো এবং আলাদাভাবে শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হতো। ২০১৬ সালের ২৬ নভেম্বর ভাষা বিভাগ থেকে আলাদা হয়ে ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগ নামে একটি স্বতন্ত্র বিভাগ হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করে।

বর্তমানে ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগে ৯ জন শিক্ষক কর্মরত আছেন। তাদের মধ্যে ৮ জনই অধ্যাপক ক্যাটাগরির। ১ জন সহযোগী অধ্যাপক। কোন প্রভাষক নেই, কোন সহকারী অধ্যাপকও নেই।

বিভাগ সূত্রে জানা যায়, সর্বশেষ ২০০৬ সালে ৪ জন শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়। এরপর আর কোন শিক্ষক নিয়োগ হয়নি। ২০১৬ সালে আলাদাভাবে ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগ নামে একটি স্বতন্ত্র বিভাগ প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর শিক্ষক নিয়োগের জন্য চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু প্রশাসনিক জটিলতার কারণে সেটি সম্ভব হয়নি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক শফিউল্লাহ বলেন, আমি সভাপতি হওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল ধরনের নিয়োগে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। যার ফলে আর শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে এখন যেহেতু নিয়োগের নিষেধাজ্ঞা উঠে গেছে আমরা কিছু দিনের মধ্যেই প্ল্যানিং কমিটির সঙ্গে আলোচনা করে ফাঁকা পদের বিজ্ঞপ্তি দিবো।

কোন রাজনৈতিক মতাদর্শের কারণে শিক্ষক নিয়োগ বন্ধ আছে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে সভাপতি বলেন, এ ধরনের কোন সমস্যা নেই। আমাদের আগের সভাপতি আতাউল্যাহ স্যার শিক্ষক নিয়োগের জন্য অনেক চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু সোবহান স্যারের সময়ে ‘হবে হচ্ছে’ করে আর হয়নি।

সার্বিক বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক সুলতান-উল-ইসলাম বলেন, সাবেক উপাচার্যের অনিয়ম দুর্নীতির কারণে সরকার ২ বছর নিয়োগে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিলো। তবে এখন যেহেতু নিয়োগ নিষেধাজ্ঞা উঠে গেছে আমরা নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করবো। এছাড়া কোন বিভাগে যদি শিক্ষক প্রয়োজন হয় তাহলে ওই বিভাগের প্লানিং কমিটির সুপারিশে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়। তারপর সেটি একাডেমিক ভাবে অফিসিয়ালী প্রক্রিয়ার সব কাজ সম্পন্ন হয়।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button

You cannot copy content of this page