ক্যাম্পাসলিড নিউজ

মার্শাল আর্টে আত্মরক্ষার উপায় খুঁজছেন ইবি শিক্ষার্থীরা

ইবি প্রতিনিধি:

মানুষের নৈতিক মূল্যবোধের অবক্ষয়ের দরুন সমাজে দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে বখাটেদের সংখ্যা। আর ঐসব বখাটেদের দ্বারা পথিমধ্যে প্রতিনিয়তই ইভটিজিং এর শিকার হচ্ছেন নারীরা। শুধুমাত্র ইভটিজিংই নয়, ধর্ষণের মতো গুরুতর বিষয়ও এখন নিত্যদিনের সাধারণ ঘটনায় পরিণত হয়েছে। রাতের অন্ধকার কি দিনের ফুটফুটে আলো, নির্জন কি জনসমাগমপূর্ণ স্থান। বর্তমান সমাজে কোথাও নিরাপদ নয় নারীরা। এমন পরিস্থিতিতে ভুক্তভোগী নারীর কাপড়ে মুখ গুঁজে সব নিরবে সহ্য করে যাওয়াতে তো আর সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। এমন অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সামাল দিতে নারীদেরকেই হয়ে উঠতে হবে আত্মনির্ভরশীল। জানা থাকতে হবে আত্মরক্ষার বিভিন্ন কৌশল। আর এক্ষেত্রে আত্মনির্ভরশীল হয়ে উঠতে বাংলাদেশসহ সারাবিশ্বে মেয়েদের মধ্যে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে মার্শাল আর্ট বা কারাতে প্রশিক্ষণ।

এরই ধারাবাহিকতায় নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধ ও আত্মরক্ষায় আত্মনির্ভরশীল হয়ে উঠতে কারাতে প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) নারী শিক্ষার্থীরাও। ইসলামিক ইউনিভার্সিটি মার্শাল আর্ট সায়েন্স অ্যাসোসিয়েশন নামক সংগঠনের ব্যবস্থাপনায় সপ্তাহে তিন দিন বিশ্ববিদ্যালয়ের জিমনেশিয়াম এবং জিমনেশিয়াম সংলগ্ন টেনিস কোর্টে কারাতে শিখছেন তারা। বিশ্ববিদ্যালয়ের হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী জান্নাতুল ফেরদৌস তানজিনার হাত ধরে গত বছরের জুন মাসে বাংলাদেশ কারাতে কনফেডারেশন ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শারীরিক শিক্ষা বিভাগের অনুমোদনক্রমে ২০ জন নারী শিক্ষার্থী নিয়ে এটি যাত্রা শুরু করে। তানজিনা বাংলাদেশ কারাতে কনফেডারেশন থেকে ব্ল্যাক বেল্ট ফার্স্ট ড্যানের অধিকারী এবং কারাতে স্বর্ণপদক জয়ী। তিনিই এখানে শিক্ষার্থীদের কারাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকেন। বর্তমানে তার তত্ত্বাবধানে প্রায় ৫০ জন নারী শিক্ষার্থী প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কারাতেকে নিজের আত্মরক্ষার একটি শক্ত হাতিয়ার হিসেবে গড়ে তুলতে তারা রপ্ত করছেন বিভিন্ন কলাকৌশল। প্রশিক্ষকের দেখানো পদ্ধতি অনুসরণ করে অনুশীলন করছেন আত্মরক্ষার নানা পদ্ধতি। কারাতে শেখার মাধ্যমে তারা হয়ে উঠছেন দৃঢ় প্রত্যয়ী, বাড়ছে মনোবল। নিজের আত্মরক্ষায় এটি তাদেরকে আগের চেয়ে আরো বেশি আত্মবিশ্বাসী করেছে বলে মনে করেন তারা। তারা মনে করেন, কখনও কোন বাজে পরিস্থিতির সম্মুখীন হলে, তারা নিজেরাই নিজেদের জন্য যথেষ্ট।

এই বিষয়ে প্রশিক্ষণার্থী রুবাইয়াত হাসিন বলেন, ‘আমি তিন চার মাস ধরে কারাতে শিখছি। ইতোমধ্যে নিজের মধ্যে অনেক ইমপ্রুভমেন্ট লক্ষ্য করছি। আমার আত্মবিশ্বাস পূর্বের তুলনায় অনেক বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। আমি যদি কখনো বিপদে পড়ি তখন এই স্কিলটা আমি কাজে লাগাতে পারবো। আমি মনে করি প্রত্যেক নারী শিক্ষার্থীরই এই স্কিলটা শিখে রাখা উচিত, লাগুক বা না লাগুক। আর এটা যেহেতু এক ধরনের খেলাধুলার মধ্যেও পড়ে, এর মাধ্যমে আমাদের শরীর ভালো থাকে, মন ভালো থাকে।’

আরেক প্রশিক্ষণার্থী সিদরাতুল মুনতাহা সাদিয়া বলেন, ‘বিভিন্ন জায়গায় মেয়েদের হেনস্থার শিকার হতে হয়। সেখানে মেয়েদের সুরক্ষার প্রয়োজন হয়। সেক্ষেত্রে সব সময় আমরা ছেলেদের কাছে সাহায্য চেয়ে থাকি। আমরা নিজেদের সুরক্ষা যেন আমরা নিজেরাই নিশ্চিত করতে পারি, এজন্য প্রত্যেকটা মেয়ের কারাতে শেখা উচিত। আর আমি কারাতে শেখা শেষ করার পর আমার গ্রামের মেয়েদের এটা শিখাতে চাই, যাতে নিজেদের সুরক্ষায় নিশ্চিতে তারা আত্মনির্ভরশীল হতে পারে।’

সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা ও কারাতে প্রশিক্ষক জান্নাতুল ফেরদৌস তানজিনা বলেন, ‘বর্তমানে মেয়েদের চলাফেরার ক্ষেত্রে সমাজের যে অবস্থা, মেয়েরা যেন কোন বাঁধার সম্মুখীন না হয় বা প্রয়োজনে যেন নিজেকে প্রটেক্ট করতে পারে। মেয়েরা যেন ভয় পেয়ে ঘরে বসে থাকতে না হয়। নিজের সুরক্ষা যেন নিজেই নিশ্চিত করতে পারে সেই উদ্দেশ্যেই মূলত আমাদের এই কারাতে প্রশিক্ষণ। এখানে আমরা ব্যাচ সিস্টেমে শিক্ষার্থীদের ভর্তি করাই। প্রত্যেক দুই মাস অন্তর অন্তর আমরা একটা নতুন ব্যাচ শুরু করি।’

এদিকে প্রশিক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র না থাকায় অনুশীলনে ব্যাঘাত ঘটছে বলেও জানান তানজিনা। কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে তিনি বলেন, ‘শুরুর দিকে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আমাদের এটা খোলার ব্যাপারে অনেক সহযোগিতা করেছিল। জিমনেসিয়ামে আমাদের অনুশীলনের সুযোগ করে দিয়েছিল। এছাড়া ঐরকম কোন সহযোগিতা আমরা পাই নাই। আমাদের যে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র গুলো লাগে, যেমন: গ্লাভস, প্যাড ইত্যাদি। এগুলো আমরা এখনো পাইনি। যদি প্রশাসন থেকে আমরা একটু  সুযোগ সুবিধা পাই, তারা যদি আমাদের সাপোর্ট দেয় তাহলে আশা করি পরবর্তীতে যে গেইমগুলো রয়েছে সেগুলোতে আমরা অংশগ্রহণ করতে পারবো। এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য সফলতা বয়ে আনতে পারবো। এজন্য যে ইন্সট্রুমেন্টগুলো লাগবে, আশা করি প্রশাসন আমাদের সেগুলো দ্রুত দেয়ার ব্যবস্থা করবে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button

You cannot copy content of this page