ক্যাম্পাসলিড নিউজ

জাবিতে যোগ্যদের বাদ দিয়ে শিক্ষকের স্ত্রীকে নিয়োগ দিতে তোড়জোড়!

জাবি প্রতিনিধি:

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক নিয়োগে যোগ্য প্রার্থীদের বাদ দিয়ে স্নাতকে ১০ম স্থান অধিকারী ও বিভাগের এক শিক্ষকের স্ত্রীকে নিয়োগ দিতে তোড়জোড় চলছে। এ ঘটনার বিরোধিতা করে যোগ্য প্রার্থীদের নিয়োগ দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন বিভাগের কয়েকজন শিক্ষক। গত বুধবার বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কাছে আবেদনপত্র দিয়েছেন তারা।

আবেদনপত্রে বলা হয়, পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের চারটি প্রভাষক পদে নিয়োগের জন্য আগামীকাল রবিবার (১২ নভেম্বর) সাক্ষাৎকার অনুষ্ঠিত হবে। তবে ঐতিহ্যগতভাবে বিভাগের শিক্ষা-গবেষনার মান তথা বিশ্ববিদ্যালকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ে সর্বোচ্চ ফলাফলদারী প্রার্থীদের মধ্যে হতে নিয়োগ প্রদান করা উচিত। এ বিষয়িটি উপাচার্যকে জানানো হয়েছে, তিনি যোগ্যদের নিয়োগ প্রদানের বিষয়ে মৌখিকভাবে আশ্বাসও দিয়েছেন।

আবেদনপত্রে শিক্ষকেরা বলেন, ‘উপাচার্যকে জানানোর পরেও বিভিন্ন সূত্রে জানতে পারি, পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক পদে বিভাগের একজন শিক্ষকের স্ত্রীকে নিয়োগ প্রদানের জন্য তৎপরতা চলছে। যিনি স্নাতক পরীক্ষার ফলাফলে ১০ম স্থান অধিকার করেছেন। সে জন্য আমরা পুনরায় উপাচার্যকে লিখিতভাবে অবগত করছি, যেনো বিভাগের প্রথম ও দ্বিতীয় স্থান অধিকারী শিক্ষার্থীরা ব্যতীত অন্য কেউ নিয়োগ না পায়।’

এদিকে পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ফলাফলে প্রথম বা দ্বিতীয় স্থান অর্জনকারী শিক্ষার্থীদের নিয়োগ প্রদান করে মেধার মূল্যায়ণ করার দাবিতে ‘মেধার মূল্যায়ণ কর, শিক্ষা বাঁচাও’ শিরোনামে ব্যানার সাঁটিয়ে দিয়েছেন বিভাগের সংশ্লিষ্টরা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, বিভাগের ’প্রভাবশালী’ অধ্যাপক এ.এ মামুনের পছন্দের প্রার্থীদের অগ্রধিকার দিতেই যোগ্য প্রার্থীদের বাদ দেওয়া হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিভাগের অন্য শিক্ষকরা। ফলে তারা যোগ্য প্রার্থীদের নিয়োগ দেওয়ার দাবিতে উপাচার্য বরাবর আবেদন জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মো. কবির উদ্দিন সিকদার বলেন, ‘আমরা জানতে পেরেছি যে, প্রথম ও দ্বিতীয় স্থান অর্জনকারীদের বাদ দিয়ে ১০ম স্থান অর্জনকারী এক শিক্ষার্থীকে প্রভাষক পদে নিয়োগ দিতে প্রভাবশালী মহল চেষ্টা ও তদবির করছে, যা আমাদের বিভাগের জন্য মন্দ। সেই আশঙ্কা থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বরাবর লিখিত দিয়েছি।’

অভিযোগের বিষয়ে জানতে অধ্যাপক এ.এ মামুন বারংবার কল দিলেও তিনি সাড়া দেননি।

এ বিষয়ে বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক মো. সালাহউদ্দিন বলেন, ‘অন্যান্য শিক্ষকরা কে কি বলছেন তা আমি জানি না তবে আমি দায়িত্বশীল হিসেবে কখনোই নিয়মের বাইরে নিয়োগ দিবো না বরং উপাচার্যও নিয়মের বাইরে নিয়োগ দিবে না বলে আশাকরি। যোগ্যদের বাদ দিয়ে অন্যদের নিয়োগ দিলে আমি অবশ্যই তার বিপক্ষে থাকবো।’

সার্বিক বিষয়ে জানতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. নূরুল আলমকে একাধিকবার ফোন করা হলে তিনি রিসিভ করেননি।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button

You cannot copy content of this page