ক্যাম্পাসলিড নিউজ

৫৪ বছরেও নেই জাবির সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থীদের পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা

জাবি প্রতিনিধি:

জীবনের নানা উত্থান-পতনের মধ্য দিয়ে ভর্তি যুদ্ধকে জয় করে দেশের মেধাবী শিক্ষার্থীরা তাদের স্বপ্নের বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ করে নেয়। তবে সমাজে পিছিয়ে পড়া বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিক্ষার্থীদের এই যুদ্ধ জয়ের রাস্তাটা যেন আরও খানিকটা কঠিন হয়ে পড়ে। তবুও যখন এত বাঁধা পেরিয়ে একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে তার ঠাঁয় হয়, তখন জীবনের বাকী স্বপ্নগুলো বাস্তবে রূপ দিতে বিশ্ববিদ্যালয়টির পারিপার্শ্বিক সর্বোচ্চ সুযোগ-সুবিধার প্রয়োজন পড়ে।

বাংলাদেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে অন্যতম জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি)। ভর্তি পরীক্ষায় এই বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য বরাদ্দ রাখা হয় ১৫টি আসন। তবে প্রতিষ্ঠার ৫৩ বছর পার হলেও এসব শিক্ষার্থীর জন্য বিশ্ববিদ্যালয়টিতে নেই পর্যাপ্ত অবকাঠামোগত সুবিধা। শারীরিক সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থীদের সার্বজনীন প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাগ্রহণ একটি বড় চ্যালেঞ্জ। সার্বজনীন শিক্ষা হচ্ছে শ্রেণিকক্ষে সাধারণদের সঙ্গে প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের পাঠদান পদ্ধতি। প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামোগত সামর্থ্যের অভাব সর্বজনীন শিক্ষার অন্যতম বাধা হিসেবে বিবেচিত। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় সেই সামর্থ্য আংশিক পূরণ করলেও এখনও তা পুরোপুরি করতে পারেনি।

সরেজমিনে দেখা যায়, ক্যাম্পাসের অধিকাংশ ভবন, স্থাপনায় নেই কোনো সাংকেতিক চিহ্ন ও নকশা। নেই বিশেষ ধরনের ওয়াশরুম, র‍্যাম্প ও প্রবেশদ্বার। এমনকি হাঁটার পথও রয়েছে মানদণ্ডের নিচে। প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের সবচেয়ে বেশি অসুবিধার স্থাপনাসমূহ হচ্ছে হাঁটার পথ, হল, টিএসসি, ব্যাংক, ক্যাফেটেরিয়া, চিকিৎসাকেন্দ্র এবং একাডেমিক ভবনসমূহ। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারে শারীরিক প্রতিবন্ধীদের জন্য নেই পর্যাপ্ত সুবিধা।

এ প্রসঙ্গে ইংরেজি বিভাগের ৫০ তম আবর্তনের বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিক্ষার্থী সাদিয়া সুলতানা পপি বলেন,বর্তমানে শ্রতিলেখকের সংকটই বড় সংকট হয়ে দাঁড়িয়েছে।ফাইনাল পরীক্ষার সময় এই সংকট তীব্র আকারে ধারণ করে। প্রায় দেড় মাস ধরে পরীক্ষা থাকায় শ্রুতিলেখক হিসেবে অনেকেই রাজি হয় না।তার পাশাপাশি সে সময়ে অন্যান্য বিভাগের পরীক্ষা হয়ে থাকে। আবার নিয়ম অনুযায়ী শ্রুতিলেখক হিসেবে জুনিয়র ব্যাচের শিক্ষার্থী হতে হবে এবং বাহির থেকে শ্রুতিলেখক আনা যাবে না।যা আমাদেরকে এক প্রকারের ভোগান্তিতে ফেলে।

তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিক্ষার্থীদের নিয়ে কাজ করা সংগঠন ফিজিকালি চ্যালেঞ্জড ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন (পিডিএফ) প্রতিবছরই তাদের নানা সমস্যা-সংকট নিয়ে কাজ করে আসছে।

পিডিএফ সংগঠনের সভাপতি আনিকা তাবাসসুম বলেন,আমরা প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের নিয়ে কাজ করি। প্রশাসন আমাদের অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা দিয়ে থাকলেও শ্রুতিলেখকের ব্যাপারে আশানুরূপ সাহায্য পাইনি। যার কারণে প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীরা প্রতিনিয়ত ভোগান্তিতে পড়েছে। সংগঠন থেকে শ্রুতিলেখক সংকটের সমাধান করার চেষ্টা করি কিন্তু সবসময় সাহায্য করতে পারি না।বেশিরভাগ সময় তারা নিজেরাই খুঁজে নেয়।

তিনি আরও বলেন, আমরা প্রশাসনের নিকট প্রতিবছরেই বিভিন্ন দাবি পেশ করলেও অনেক দাবি এখনও বাস্তবায়ন হয়নি। তার মধ্যে অন্যতম দাবিগুলো হলো শ্রুতিলেখক নিয়োগ সংক্রান্ত জটিলতা নিরসনে সাহায্য; প্রত্যেক অনুষদে যাতায়াতের জন্য র‍্যাম্পের ব্যবস্থা; পরীক্ষাগুলোতে নির্ধারিত সময়ের চেয়ে বেশি সময় দেয়া; ক্যাম্পাসের বাসে অন্তত ৫টি আসন বরাদ্দ রাখা; লাইব্রেরিতে ব্রেইল পদ্ধতির বইয়ের ব্যবস্থা করার পাশাপাশি ব্রেইল প্রিন্টার এর জন্য প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ব্যক্তির ব্যবস্থা করা ; প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য প্রশাসন কর্তৃক বৃত্তির ব্যবস্থা; বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধীদের যোগ্য বিবেচনায় নিয়ে চাকরির ব্যবস্থা করা।

অধ্যাপক এম শামীম কায়সার বলেন, আমরা তাদের জন্য লাইব্রেরির এক কর্ণারে বিশেষ পাঠকক্ষ নামে একটি রুম করেছি সেখানে পিন্টার এর ব্যবস্থা আছে। আমাদের অভিজ্ঞ ব্রেইল টাইপার সংকট ছিল যা কয়েকদিনের মধ্যে নিয়োগ দিয়ে এই সংকট দূরীভূত করব।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button

You cannot copy content of this page