ক্যাম্পাসলিড নিউজ

অপ্রাপ্তিতে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়

সাদিয়া আফরিন অমিন্তা:

১৯৭৯ সালের ২২ নভেম্বর জন্ম হয় দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ ও স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি)। নানান প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তির মধ্য দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়টি ৪৫ বছরে পদার্পণ করেছে।

দেখতে দেখতে ৪৫ টি বছর পার হলেও বিশ্ববিদ্যালয়টি তার প্রাচীনত্বের সাথে একাডেমিক কার্যক্রমকেও কেমন যেন আষ্টেপৃষ্টে ধরে রেখেছে। শিক্ষার্থীদের মধ্যে ইবির একাডেমিক কার্যক্রম থেকে শুরু করে পরিবহন, চিকিৎসা এবং বিশ্ববিদ্যালয়টির পরিবেশেও দেখা দিয়েছে অপ্রাপ্তির।

বিশ্ববিদ্যালয়ে অপ্রাপ্তি সম্পর্কে জানাতে, পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থী ইউমনা তাবাসসুম মনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের সব থেকে যে জিনিসটিকে আমি ভোগান্তি হিসেবে দেখি তা হলো ই-পেমেন্ট সেবার অভাব। একাডেমিক যে কোন  কার্যক্রমে  ঘন্টার পর ঘন্টা ব্যাংক-এর দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়, এতে যেমন সময় অপচয় হয় তেমনি মাঝে মাঝে ধৈর্য্যহারাও হয়ে যাই। যদিও ই-পেমেন্ট সেবা চালু হয়েছে তবুও তার কার্যক্রম আংশিক কিছু ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হচ্ছে, ভোগান্তি কিছুটা কমলেও পুরোপুরি নিরসন এখন সময়ের দাবী।

উন্নয়ন অধ্যায়ন বিভাগের শিক্ষার্থী সিন্থিয়া ছোঁয়া আনিকা, ইবিতে অপ্রাপ্তির স্থানকে চিহ্নিত করতে পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষ সংকট এবং সেশনজটের বিষয়টি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, আমাদের ছয়টি ব্যাচের জন্য শুধুমাত্র একটি ক্লাসরুম বরাদ্দ রয়েছে। এজন্য এক ব্যাচের ক্লাস হলে অন্য ব্যাচের বসে থাকতে হয়। শ্রেণিকক্ষের অভাবে ঠিকমতো ক্লাস না হওয়ার কারণে সেশনজটে ভুগতে হচ্ছে আমাদের।

সমাজ কল্যাণ বিভাগের শিক্ষার্থী লামিয়া রিফাত রিয়া বলেন, আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়টি যেহেতু শহর থেকে বেশ দূরে এজন্য বিভিন্ন কাজে শহরগামী হওয়ার জন্য অন্যতম এবং একমাত্র ব্যাবস্থা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব পরিবহন।  তবে এই পরিবহনের ক্ষেত্রেও দেখা যায় নানান জটিলতা। পর্যাপ্ত পরিবহনের অভাবে শিক্ষার্থীদের দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে যাতায়াত করতে হয়। খাতা কলমে পর্যাপ্ত পরিবহনের সংখ্যা উল্লেখ থাকলেও বিশ্ববিদ্যালয় পরিবহন প্রশাসন গুটিকয়েক পরিবহন সচল রেখেছে যা সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য মোটেও পর্যাপ্ত নয় বলে আমি মনে করি। এমনকি ছুটিরদিনে এ ভোগান্তির মাত্রা বেড়ে দ্বিগুণ হয়ে যায়।

এছাড়া, বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসে সাধারণ শিক্ষার্থী ব্যতিত লোকাল যাত্রী উঠানোর অভিযোগও করেন তিনি।

অপ্রাপ্তি সম্পর্কে জানতে চাইলে ইবি শিক্ষার্থী তাকিয়া আফরোজ সাদিয়া ভিন্ন দিক তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ইবিতে যেমন হলে পর্যাপ্ত সিট সংখ্যার অভাব রয়েছে তেমনি চিকিৎসা ক্ষেত্রেও দেখা দিয়েছে বিভিন্ন ঘাটতি।

তিনি আরো বলেন মেয়েদের জন্য তিনটি  এবং ছেলেদের জন্য পাঁচটি হল বরাদ্দ রয়েছে যা বিশ্ববিদ্যালয়ের মোট শিক্ষার্থী অপেক্ষা খুউব নগন্য।

তাছাড়া চিকিৎসা কেন্দ্র সম্পর্কে তিনি জানান, ইবি মেডিকেল বাইরে থেকে ফিটফাট দেখালেও ভেতরে সদরঘাট থেকে কম কিছু নয়। কারণ প্রত্যেক রোগের চিকিৎসা হিসেবে হাতে গোনা কয়েকটি ঔষধকেই প্রাধান্য দেওয়া হয়। জ্বর হোক বা উচ্চ রক্তচাপ সব রোগের মেডিসিনেই নাপা বাধ্যতামূলক। অতি শীঘ্রই চিকিৎসা সেবার পরিবর্তনের দাবী জানান তিনি।

এছাড়াও লাইব্রেরী, গবেষণা, উন্নত ল্যাব ব্যাবস্থা নিয়েও অপ্রাপ্তি প্রকাশ করেছে ইবির সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

প্রাপ্তি এবং অপ্রাপ্তি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়টি এগিয়ে যাচ্ছে তার নিজস্ব গতিতে। তবে ইবি শিক্ষার্থী হিসেবে সকলের একটাই চাওয়া, প্রাণের বিদ্যাপিঠটি যেন তার প্রাচীনত্বকে ছাপিয়ে আধুনিকতার দিকে এগিয়ে যাক। বিশ্ববিদ্যালয়েরের সৌন্দর্য যেন অপ্রাপ্তির অন্ধকার ছয়া থেকে মুক্তি পায় এবং নিজস্ব গৌরব ও ঐতিহ্যের সাথে প্রাপ্তি নিয়ে বিশ্বে নতুন জায়গা দখল করে নিতে পারে, এই প্রত্যাশাই সকলের।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button

You cannot copy content of this page