ক্যাম্পাস

নির্ধারিত মূল্যে খাবারের মূল্য পরিশোধের আহ্বান জাবির সিওয়াইবি নেতাদের

জাবি প্রতিনিধি:

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) বটতলা, শহীদ সালাম-বরকত হল ও শহীদ রফিক-জব্বার হল সংলগ্ন খাবারের দোকানগুলোর জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অধীনে ‘কনজ্যুমার ইয়ুথ বাংলাদেশ (সিওয়াইবি)’ নতুন মূল্য তালিকা নির্ধারণ করেছে। এ নির্ধারণের পর নির্ধারিত মূল্যেই খাবারের দাম পরিশোধের আহ্বান জানিয়েছেন সিওয়াইবি নেতাকর্মীরা।

সোমবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সিওয়াইবি জাবি শাখার মিডিয়া এন্ড পাবলিকেশন সহকারী খায়ের মাহমুদ প্রেরিত এক বার্তায় এ বিষয়টি জানানো হয়।

এর আগে সোমবার (২৯ জানুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে ৭ টার দিকে CYB-JU এর প্রধান উপদেষ্টা ইখতিয়ার উদ্দিন ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে আ ফ ম কামালউদ্দিন হলের প্রাধ্যক্ষের কার্যালয়ে এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বটতলাসহ অন্যান্য হল সংলগ্ন খাবারের দোকান-মালিক, শিক্ষার্থী, বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠন এবং সাংবাদিকদের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনা শেষে খাবারের নতুন মূল্যতালিকা নির্ধারণ করা হয়।

নতুন মূল্য-তালিকা অনুযায়ী, ভাতের দাম অপরিবর্তিত রেখে ফুল প্লেট ১০টাকা করা হয়েছে, হাফ প্লেট ভাত ৫ টাকা, গরুর মাংসের (৬ পিস) দাম ১২০ টাকা, ব্রয়লার মুরগি ১পিস ৫০ টাকা থেকে কমিয়ে ৪৫ টাকা করা হয়, গরুর কলিজা ১২০-১৫০ টাকা থেকে ১০০, খাসির গোশতের দাম আগের মতোই ১৩০ টাকা, টার্কি মুরগির দাম আগের মতোই ১২০ টাকা, মুরগি (সোনালি) দাম বৃদ্ধি করে ৫০ টাকা থেকে ৬০-৮০ টাকা করা হয়, হাঁসের মাংস ১৫০ থেকে পরিবর্তন করে ১২০ টাকা, লটপটি ৪০-৫০ টাকা থেকে কমিয়ে ৩০ টাকা, কাতল/রুই মাছ/মাগুর বোয়াল ৫০ টাকা থেকে কমিয়ে ৪৫ টাকা, পাবদা/সরপুটি ৬০ টাকা থেকে কমিয়ে ৫০ টাকা, ছোট মাছ/টেংরা/শিং মাছের দাম আগের মতোই ৫০ টাকা, চিংড়ি ভুনা ১০০ টাকা থেকে কমিয়ে ৮০ টাকা এবং চিংড়ি ভুনা(বড়) ১৫০ টাকা থেকে কমিয়ে ১০০ টাকা, পাঙাস/তেলাপিয়া ৫০ টাকা থেকে কমিয়ে ৪০ টাকা করা হয়েছে।

এছাড়া সিদ্ধ ডিম তরকারি ২০ টাকা ও ভাজা ডিম ২০ টাকা থেকে কমিয়ে ১৬ টাকা, ভর্তার দাম আগের মতোই ৫/১০ টাকা, সবজি ভাজি ১০-১৫ টাকা, বেগুন ভাজি ১০ টাকা, সবজি খিচুড়ি ২৫-৩০ টাকা থেকে ১৫-৩০ টাকা, পোলাও (ফুল/হাফ) ২০-৩০ টাকা, ডাটা/লতি (চিংড়ি) ৫০ টাকা থেকে কমিয়ে ৪০ টাকা, নান/পরোটা/রুটির দাম আগের মতোই ১০ টাকা, মুড়ি ঘণ্টার দাম ২৫-৪০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

অন্যদিকে টার্কি মুরগির নাম করে লেয়ার মুরগী, রুই মাছের নাম করে গ্রাসকার্প মাছ পরিবেশন করার অভিযোগ উঠে আসে। তবে এরকম কোনো অভিযোগ আসলে প্রমাণ সাপেক্ষে ঐ দোকানকে ২০ হাজার টাকা জরিমানাসহ দোকান বরাদ্দ বাতিল করা হবে বলে দোকান মালিকদের সতর্ক করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

সার্বিক বিষয়ে সিওয়াবি জাবি শাখার সভাপতি আরিফ সানা বলেন, আমরা শিক্ষার্থীদের জন্য প্রশাসনের সহায়তায় ক্যাম্পাসের প্রতিটি খাবার দোকানে খাবারের মান নিশ্চিত ও যথার্থ দাম নির্ধারণে কাজ করে যাচ্ছি। তারই ধারাবাহিকতায় আমরা নতুন মূল্য তালিকা দিয়েছি। তবে কিছু দোকানিরা নির্ধারিত মূল্যের বিষয়টি আমলে নিচ্ছিল না। এজন্য করে মূল্য তালিকার হার্ডকপি লেমেনেটিং করে প্রতি দোকানে টানিয়ে দিয়েছি। যাতে শিক্ষার্থীরা ভোগান্তিতে না পড়ে।

কোনো দোকানি নির্ধারিত মূল্য তালিকা অনুযায়ী দাম নিতে অস্বীকৃতি জানালে তৎক্ষণাত সিওয়াইবি জাবি শাখাকে জানানোর আহ্বানও জানান তিনি।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button

You cannot copy content of this page