ক্যাম্পাসলিড নিউজ

চতুর্থ দিনেও আমরণ অনশনে জাবি ছাত্রলীগের দুই নেতা

জাবি প্রতিনিধি:

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতি মুছে ব্যঙ্গচিত্র অঙ্কনের ঘটনায় জড়িতদের শাস্তি নিশ্চিত করাসহ তিন দফা দাবিতে টানা চতুর্থ দিনের মতো আমরণ অনশন পালন করেন ছাত্রলীগের দুই নেতাকর্মী।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) কলা ও মানবিকী অনুষদের দেয়ালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের গ্রাফিতি মুছে ব্যঙ্গচিত্র অঙ্কনের প্রতিবাদে ও জড়িতদের শাস্তিসহ তিন দফা দাবিতে টানা চতুর্থ দিনের মতো আমরণ অনশন করছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা ছাত্রলীগের দুই নেতা। তবে অনশনে শারিরীক অবস্থা অবনতি হলেও চিকিৎসা নিতে অস্বীকৃতি জানান তারা।

গত ১৫ ফ্রেব্রুয়ারী দুপুর থেকে অনশনে বসেন দুই নেতা৷ তারা হলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের পাবলিক হেলথ অ্যান্ড ইনফরমেটিক্স বিভাগের ৪৩তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ও বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি এনামুল হক এবং বাংলা বিভাগের ৪৪তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ও বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের উপ-শিক্ষা ও পাঠচক্র বিষয়ক সম্পাদক রিয়াজুল ইসলাম।

চিকিৎসা নিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে অনশনকারী এনামুল হক বলেন,’দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমি কোনো চিকিৎসা নিবো না৷ এক্ষেত্রে যদি মরণ হয় তবুও আমি চিকিৎসা নিবো না।’

এদিকে আজ দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা কেন্দ্রের উপ-প্রধান মেডিক্যাল অফিসার ডাঃ রিজওয়ানুর রহমান পরপর দুইবার চিকিৎসার জন্য গেলে তারা চিকিৎসা নিতে অস্বীকৃতি জানায়৷ ডাঃ রিজওয়ানুর রহমান বলেন,’আমি দুপুরে দুইবার তাদের চিকিৎসার জন্য গিয়েছি। প্রথমবার তাদের দেখে বুঝলাম শারিরীক অবস্থা অবনতি হয়েছে। একজনের ডিহাইড্রেশন হয়েছে। তবে তারা আমাকে ঠিকমতো চিকিৎসা নিতে দেয়নি৷ পরেরবার যখন গিয়েছিলাম তখন তারা আমাকে চলে যেতে বলে এবং তারা চিকিৎসা নিবে না বলে জানায়৷ এক্ষেত্রে রোগী যদি চিকিৎসা নিতে অস্বীকৃতি জানায় তাহলে তো আমার কিছু করার থাকে না৷’

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অবমাননাকারীদের অবিলম্বে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার করা, বিশ্ববিদ্যালয় ও জাতীয় আইনে জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা এবং দীর্ঘদিন পার হলেও জড়িতদের ব্যবস্থা গ্রহণে সংশ্লিষ্টদের উদাসীনতা তদন্ত করার তিন দাবিতে অনশনে বসে তারা।

অনশনের বিষয়ে এনামুল হক এনাম বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর ছবি মুছে ফেলার ৮ দিন পরই তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। প্রশাসনের উচিত ছিল মুছে ফেলার সাথে সাথেই ব্যবস্থা নেওয়া। যেহেতু ছবি মুছে ফেলার সাথে জড়িতরা বিষয়টি স্বীকার করেছেন সেহেতু উচিত ছিল তৎক্ষণাৎ ব্যবস্থা নেওয়া। প্রশাসন এত দেরিতে তদন্ত প্রক্রিয়া শুরু করায় আমার সংশয় ছিল বিচারেও গড়িমসি হতে পারে। এজন্য আমি শুরু থেকেই অনসনে বসেছি। দাবি মেনে না নেওয়া পর্যন্ত অনশন চালিয়ে যাব।’

গ্রাফিতি মুছে ফেলার ঘটনায় গত ১৩ ফেব্রুয়ারি রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক আব্দুল্লাহ হেল কাফীকে আহ্বায়ক করে চার সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন বাংলা বিভাগের অধ্যাপক খন্দকার শামীম আহমেদ ও চারুকলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক এম এম ময়েজউদ্দীন। এ ছাড়া কমিটিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেপুটি রেজিস্ট্রার (প্রশাসন-২) এ বি এম আজিজুর রহমানকে সদস্য-সচিব করা হয়েছে।

তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক আবদুল্লাহ হেল কাফী জানান,’তদন্তের কাজ খুব দ্রুত চলছে। আশা করি আগামী ২০ তারিখ আমরা একটা ফলাফল জানাতে পারবো।’

সার্বিক বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর আ স ম ফিরোজ-উল-হাসান বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। ব্যাঙ্গচিত্রটি মুছে ইতিমধ্যে বঙ্গবন্ধুর ছবি আঁকা হয়েছে। এটাও তদন্তের একটি প্রক্রিয়া। আশা করছি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নিতে পারব।’

প্রসঙ্গত, বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ও মানবিকী অনুষদ ভবনের দেয়ালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের একটি দেয়ালচিত্র আঁকা ছিল। তবে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া ধর্ষণকাণ্ডের পর গত ৭ ফেব্রুয়ারি রাতে সেখানে বঙ্গবন্ধুর দেয়ালচিত্র মুছে একটি গ্রাফিতি অঙ্কন করে ছাত্র ইউনিয়ন জাবি সংসদের একাংশের নেতাকর্মীরা। পরে ১৩ ফেব্রুয়ারি গ্রাফিতিটি মুছে দেওয়া হয়।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button

You cannot copy content of this page