ক্যাম্পাসলিড নিউজ

গুরু পাপে লঘু দণ্ড পাচ্ছেন জাবি শিক্ষক জনি!

জাবি প্রতিনিধি:

বিভিন্ন সময় নানা অভিযোগ থাকলেও প্রায় ১ বছর আগে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ ওঠে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) পাবলিক হেলথ অ্যান্ড ইনফরমেটিক্স বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মাহমুদুর রহমান জনির বিরুদ্ধে। দীর্ঘদিন ধরে তদন্ত প্রক্রিয়া চলার পর মঙ্গলবার (২০ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৫ টায় অনুষ্ঠাতব্য সিন্ডিকেট সভায় তদন্ত প্রতিবেদন উপস্থান করার কথা রয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উচ্চ পর্যায়ের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র থেকে জানা গেছে, যৌন নিপীড়নের ঘটনায় লঘু শাস্তি দেওয়া হতে পারে মাহমুদুর রহমান জনিকে।

সূত্রটি বলছে ‘শিক্ষক জনির পদের অবনতি ও ২ বছর বাধ্যতামূলক ছুটির শাস্তি দেওয়া হতে পারে।’

এর আগে শিক্ষকদের বিরুদ্ধে উত্থাপিত যৌন নিপীড়নের অভিযোগগুলো পর্যালোচনা করে দেখা গেছে- শিক্ষকদের চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। তাছাড়াও তদন্ত চলাকালে সাময়িক বরখাস্ত করার রীতিও মানা হয় নি জনির ক্ষেত্রে।

এ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক নূরুল আলমকে একাধিকবার ফোন দিয়েও কোন বক্তব্য পাওয়া যায় নি।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ২০২২ সালের ২১ নভেম্বর মাহমুদুর রহমান জনি ও একই বিভাগে সেসময় সদ্য নিয়োগ পাওয়া প্রভাষক আনিকা বুশরা বৈচির একটি অন্তরঙ্গ ছবি (সেলফি) বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন স্থানে পোস্টারিং করা হয়। যেখানে বলা হয়, ‘এভাবেই ললিপপের ভেল্কিতে শিক্ষিকা হলেন আনিকা বুশরা বৈচি।’

একই সঙ্গে বিভাগের শিক্ষক পদে আবেদনকারী ৪৩ ব্যাচের আরেক ছাত্রীর সঙ্গে অন্তরঙ্গ কথাবার্তার অডিও প্রকাশ্যে আসে। যেখানে মাহমুদুর রহমান জনি ভুক্তভোগীকে জোরপূর্বক গর্ভপাত করানোর কথা শোনা যায়। এছাড়া, জনির সঙ্গে ছাত্রলীগের একাধিক নেত্রীর ‘অনৈতিক’ সম্পর্ক স্থাপন এবং ‘অশালীন’ চ্যাটিংয়ের ছবি ও তথ্য উঠে আসে। এর প্রেক্ষিতে জনির বিচারের দাবিতে আন্দোলনে নামে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের একাংশ। পরে ২০২২ সালের ৮ ডিসেম্বর একাধিক ছাত্রীর সাথে অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগে জনির বিরুদ্ধে প্রাথমিক তদন্ত কমিটি গঠিত হয়। কমিটিকে সেবছরের ৩১ জানুয়ারির মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়। এ সময় জনি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টরের পদ ছাড়তে বাধ্য হন। কিন্তু এরপরও জনির বিচার নিয়ে শুরু হয় কালক্ষেপণ।

প্রাথমিক তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন স্পষ্ট নয় মর্মে দাবি করে একই বছরের ৯ মার্চ পুনরায় গঠিত হয় ‘স্পষ্টীকরণ কমিটি’। সর্বশেষ গত বছরের ১০ আগস্ট ওই কমিটির প্রতিবেদনে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা নিশ্চিত হওয়া সাপেক্ষে স্ট্রাকচার্ড কমিটি গঠিত হয়।

এরই মধ্যে পার হয়ে যায় এক বছর। সর্বশেষ ২০২৩ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর কুরিয়ারযোগে সাংবাদিকদের কাছে উপাচার্যকে গালিগালাজ করার অডিও ক্লিপ সম্বলিত একটি ডিভিও, দায়মুক্তিপত্র প্রত্যাহার সংক্রান্ত আবেদনপত্র ও একটি উড়োচিঠি আসে। সেখানে ৫২ সেকেন্ডের অডিও ক্লিপে মাহমুদুর রহমান জনিকে বলতে শোনা যায়, ‘বাট ইউ ফরগেট, আই ওয়াজ ওয়ন্স আপন এ টাইম, আই ওয়াজ দ্য এক্স প্রেসিডেন্ট অফ বিএসএল-জেইউ। আমি হয়ত ধরা খাবো, ধরা খাবো না এমন বলছি না। কিন্তু ধরা খাওয়ার আগে আমি চার-পাঁচটা মুখ শেষ করে দেবো।’

দক্ষতা ও শৃঙ্খলা অধ্যাদেশ অনুসারে স্ট্রাকচার্ড কমিটি ৬ সদস্য বিশিষ্ট হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন উপাচার্য। এ ছাড়া নিজ অনুষদের ডিন, বিভাগের চেয়ারম্যান, দুজন সিন্ডিকেট সদস্য এবং রেজিস্ট্রার এই কমিটির সদস্য মনোনীত হন। স্ট্রাকচার্ড কমিটির কার্যক্রম উপাচার্যের আহ্বানে সংগঠিত হয়। সে হিসেবে মাহমুদুর রহমান জনির বিরুদ্ধে গঠিত এই কমিটিতে আছেন উপাচার্য অধ্যাপক নূরুল আলম, জীববিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক নুহু আলম, পাবলিক হেলথ অ্যান্ড ইনফরমেটিকস বিভাগের চেয়ারম্যান মাহফুজা মোবারক এবং সিন্ডিকেট সদস্য অধ্যাপক লায়েক সাজ্জাদ এন্দেল্লাহ ও অধ্যাপক আশরাফ-উল আলম।

নিয়ম অনুযায়ী ওইসময় জনিকে সাময়িক বহিষ্কার করার কথা থাকলেও তা করা হয়নি। বিষয়টি পাঠানো হয়নি বিশ্ববিদ্যালয় যৌন নিপীড়ন বিরোধী সেলেও। এ নিয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের আন্দোলন চলমান থাকলেও তা আমলে নেয় নি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। তবে গত ৩ ফেব্রুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বহিরাগত এক নারীর স্বামীকে আটকে রেখে ধর্ষণের ঘটনায় ধর্ষণ ও নিপীড়ন বিরোধী আন্দোলন পায় নতুন গতি। এসময় বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ থেকে জানা যায় ‘স্ট্রাকচার্ড কমিটির প্রতিবেদন জমা দিয়েছে’ যদিও উপাচার্য বলে আসছিলেন স্ট্রাকচার্ড কমিটির কার্যক্রম সম্পন্ন না হওয়ায় সিন্ডিকেটে উঠছে না জনির ইস্যু। পরে গত ৭ ফেব্রুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মিত সিন্ডিকেট ঘেরাওয়ের হুঁশিয়ারি দিলে সিন্ডিকেট স্থগিত করা হয়।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button

You cannot copy content of this page