ক্যাম্পাসলিড নিউজ

নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রীকে কুপ্রস্তাব ও হয়রানির অভিযোগ শিক্ষকের বিরুদ্ধে

নজরুল বিশ্বিবদ্যালয় প্রতিনিধি:

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মানব সম্পদ ব্যাবস্থাপনা (এইচ.আর.এম) বিভাগের শিক্ষক সাজন সাহার বিরুদ্ধে বিভাগের নারী শিক্ষার্থীকে অশ্লীল ও অনৈতিক প্রস্তাব, কুরুচিপূর্ণ মেসেজ এবং রাজি না হওয়ায় একাডেমিক কাজে বিঘ্নসহ নানাভাবে হয়রানি করার অভিযোগ করেছে একই বিভাগের ২০১৮-১৯ সেশনের শিক্ষার্থী সৈয়দা সানজানা আহসান ছোঁয়া।

তার অভিযোগ, ২০১৯ সালে ভর্তির পর থেকেই তার বিভাগের শিক্ষক সাজন সাহা তাকে নানান ধরনের কুরুচিপূর্ণ মেসেজ দিত। রাত বিরাতে চা খাওয়ার আমন্ত্রণ,বাসায় কেউ না থাকলে আসতে বলা, অফিসে ডাকা এবং পাশাপাশি অশ্লীল ছবি ও ভিডিও লিঙ্ক দিয়ে বিরক্ত করা চলত। তার কোর্সে ভালো নম্বর পাইয়ে দেওয়ার অফারও দিয়েছে বহুবার। তার কথায় রাজি না হলে শিক্ষার্থীকে ইন্টার্নশীপ রিপোর্ট আটকে রাখা সহ নানাভাবে হয়রানি করে শিক্ষক সাজন সাহা।

অভিযোগকারী আর জানায়, এসব হয়রানির বিষয় মানব সম্পদ ব্যাবস্থাপনা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান রেজুয়ান আহমেদ শুভ্র এর কাছে গেলে তিনি বিভাগের অন্য দুইজন শিক্ষকের উপর দায় চাপিয়ে দেওয়ার প্রস্তাব দেন।

রবিবার সকাল থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পরিচালিত বিভিন্ন ফেসবুক গ্রুপ ও পেইজ ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয় অভিযুক্ত শিক্ষকের বিভিন্ন অনৈতিক প্রস্তাবের স্কিনশর্ট ও চ্যাট।

সোমবার (৪ ফেব্রুয়ারি) অভিযুক্ত শিক্ষক ও জড়িতদের বিচার চেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনে তালা ঝুলিয়ে আন্দোলন করে মানব সম্পদ ব্যাবস্থাপনা বিভাগের শিক্ষার্থীরা। পরে তারা উপাচার্য বরাবর ৬ দফা দাবি পেশ করে। যেখানে উল্লেখিত দাবি গুলো হলো ১.অভিযুক্ত শিক্ষকে চাকুরীচুত্য, ২.অপরাধের সাথে জড়িত সকলকে শাস্তির আওতায় আনা ৩.শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ৪.অনতিবিলম্ব পরীক্ষার ফল প্রকাশ, ৫.ভবিষ্যতে এঘনার কোন বিরুপ প্রভাবের না পএয়ার নিশ্চয়তা নিশ্চিত এবং ৬.আটচল্লিশ ঘন্টার দাবি মধ্যে বাস্তবায়ন।

এ বিষয় নিয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক সাজন সাহার সাথে যোগাযোগ জন্য একাধিকবার অফিসে গিয়ে এবং ফোনে যোগাযোগ করেও কথা বলা সম্ভব হয় নি।

ঘটনা অন্য অভিযুক্ত ও মানব সম্পদ ব্যাবস্থাপনা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান রেজুয়ান আহমেদ শুভ্র তার নিজের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘তাদের যে অভিযোগ তারা এটি বিভাগ বরাবর জানালে আমরা ব্যাবস্থা নিতাম। আমি তাদের ডেকেছি তারা আমার কাছে আসে নি।’

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড সৌমিত্র শেখর বলেন, এটি খুবই বিব্রতকর ব্যাপার। আমার কাছে ছেলেমেয়েরা এসেছে, আমি আগামীকাল ভুক্তভোগীর সাথে কথা বলব এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button

You cannot copy content of this page