ক্যাম্পাসলিড নিউজ

নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের দেড়যুগ উদ্যাপন করেছে শিক্ষক – শিক্ষার্থীরা

নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি:

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠার দেড়যুগ পূর্তি ও ১৯ তম বিশ্ববিদ্যালয় দিবস করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক শিক্ষার্থীরা। ৯ মে, ২০০৬ তারিখে একটি বিশ্বমানের সাংস্কৃতিক চেতনাকে বুকে লালন করে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির লক্ষ্যে যে বিশ্ববিদ্যালয়টি ত্রিশালের নামাপাড়া এলাকায় আজ থেকে দেড়যুগ আগে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল।

১৯ তম বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (৯ মে) সকালে আয়োজিত আলোচনা অনুষ্ঠানে উপাচার্য প্রফেসর ড. সৌমিত্র শেখর বলেছেন, নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়কে আমরা বিশ্ববিদ্যালয় করবার জন্য কাজ করে যাচ্ছি। এখানকার একাডেমিক পরিবেশকে আমরা সুনিশ্চিত করতে চাই। একটি বিশ্বমানের বিশ্ববিদ্যালয় করবার যে অভিযাত্র সেই অভিযাত্রায় সবাই একত্রিত হয়েছি।

ত্রিশালে মাটিকে পুণ্যভূমি অভিহিত করে আলোচনা অনুষ্ঠানের সভাপতি ড. সৌমিত্র শেখর আরও বলেন, এখানে কাজী নজরুল ইসলাম প্রথম পা দিয়েছিলেন। তাই এটি একটি পুণ্যভূমি। এখানে আমরা একটি বিশ্ববিদ্যালয় করতে পেরেছি। প্রতিষ্ঠা থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত জননেত্রী শেখ হাসিনা উদার হাতে সাহায্য দেওয়ার জন্য প্রস্তুত আছেন। আমাদের শুধু সেটি গ্রহণ করতে হবে।

এসময় ভারতের শান্তি নিকেতনের আদলে নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসকে গড়ে তুলতে হলে ক্যাম্পাসের বিকেন্দ্রীকরণের প্রয়োজনীয়তা ও গুরুত্ব তুলে ধরে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকা ক্যাম্পাসের খুব কাছেই বিচুতিয়া ব্যাপারী বাড়ি, একটু দূরে রফিজউল্লাহ দারোগার বাড়ি ক্যাম্পাসের সঙ্গে যুক্ত করার বিষয়টি সরকারকে ভেবে দেখতে আহ্বান জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সরকারি প্রতিষ্ঠান সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি আবুল কালাম আজাদ এম.পি. বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মহোদয় তিন শব্দের যে স্লোগান বানিয়েছেন শিক্ষা, গবেষণা ও উন্নয়ন। খুব চমৎকার হয়েছে। কারণ আমরা তো বিশ্ববিদ্যালয়ে আসি শিক্ষার জন্য, পরিপূর্ণ মানুষ হওয়ার জন্য। গবেষণার মাধ্যমে উন্নয়নের জন্য। তাই শিক্ষা, গবেষণা উন্নয়ন আসলেই একসুতায় গাঁথা।

নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশে থাকার ইচ্ছের কথা পুনর্ব্যক্ত করে সংসদ সদস্য আবুল কালাম আজাদ বলেন, আমাদের স্বপ্ন ছিল বিশ্ব ভারতীর মতো একটি প্রতিষ্ঠান এখানে গড়ে তোলা। আমি জানি মাত্র সাড়ে ৫৬ একর জায়গা দিয়ে বিশ্বভারতীর মতো প্রতিষ্ঠান হবে না। তাই আপনারা দ্বিতীয় যে ক্যাম্পাসের কথা চিন্তা করছেন এটির জন্য কাজ করেন। আমরা এই বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার সময় যারা ছিলাম তারা এবারো একত্রে থাকবো।

আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন ট্রেজারার প্রফেসর ড. আতাউর রহমান, বুয়েটের কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রফেসর ড. মোহাম্মদ কায়কোবাদ, বৃহত্তর ময়মনসিং সাংস্কৃতিক ফোরামের মহাসচিব প্রকৌশলী রাশেদুল হাসান শেলী। আলোচনা করেন চারুকলা অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মো. নজরুল ইসলাম, কলা অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মুশাররাত শবনম, বিজ্ঞান ও প্রকৌশল অনুষদের ডিন ও প্রক্টর প্রফেসর ড. উজ্জ্বল কুমার প্রধান, ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মো. রিয়াদ হাসান, চারুকলা অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. তপন কুমার সরকার। নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি আল-মাহমুদ কায়েস ও সাধারণ সম্পাদক রাশেদুল ইসলাম রিয়েল সরকার। রেজিস্ট্রার কৃষিবিদ ড. মো. হুমায়ুন কবীর অনুষ্ঠানে ধন্যবাদজ্ঞাপন ও সঞ্চালনা করেন।

এর আগে দিবসটি উপলক্ষ্যে সকাল ১০টায় জাতীয় সঙ্গীত সহযোগে জাতীয় পতাকা ও বিশ্ববিদ্যালয় পতাকা উত্তোলনের মধ্যদিয়ে দিবসটি শুরু হয়। এরপরে প্রশাসনিক ভবনের সামনে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহামান ও জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়।

পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে নবনির্মিত কলা ভবনে সামনে শান্তির প্রতীক পায়রা অবমুক্তকরণ শেষে একটি বর্ণাঢ্য আনন্দ শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রাটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে গাহি সাম্যের গান মঞ্চে গিয়ে সমবেত হয়। পরে এই মঞ্চে বিশ্ববিদ্যালয় ১৯ তম বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উপলক্ষ্যে উপাচার্য ও আমন্ত্রিত অতিথিরা সহ ১৮ পাউ- ওজনের একটি কেক কাটেন। এরপরই শুরু হয় বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের আলোচনা সভা।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button

You cannot copy content of this page