ক্যাম্পাস

উৎসবে মেতেছে গণ বিশ্ববিদ্যালয়

গবি প্রতিনিধি:

উৎসবে উদেশ্য পিঠা,তাই গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি কে ধারণ ও বাহন করে। সাভারের স্মৃতিসৌধের পাশেই অবস্থিত গণ বিশ্ববিদ্যালয় (গবি) কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে পিঠা উৎসব আয়োজন করা হয়েছে। গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক তত্ত্বাবধায়নে আনুষ্ঠান পরিচালিত হচ্ছে।

রোববার (১২ জানুয়ারি) বেসরকারি সংস্থা উন্নয়ন বিকল্পের নীতি নির্ধারণী গবেষণা (উবিনীগ)-এর নির্বাহী পরিচালক ও গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি বোর্ডের সম্মানিত সদস্য ফরিদা আখতার এ পিঠা উৎসবের উদ্বোধন করেন। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ড. আবুল হোসেন, রেজিস্ট্রার কৃষিবিদ এস তাসাদ্দেক আহমেদ, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক মোঃ সিরাজুল ইসলাম, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মোঃ আবু হারিস, বিভিন্ন অনুষদের ডিন ও বিভাগীয় প্রধানেরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবুল হোসেন বলেন, শিক্ষার্থীরা এতো কম সময়ে এই পিঠা উৎসবের আয়োজন করেছে এর জন্য সকল শিক্ষার্থীদের ও আয়োজন কমিটিকে ধন্যবাদ জানাই। এই উৎসবের পরোক্ষভাবে অনুপ্রাণিত করেছেন গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মানিত ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী। এই বিশ্ববিদ্যালয় দেশের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যেরকে তুলে ধরে।

প্রধান অতিথি ফরিদা আখতার বলেন, শিক্ষার্থীরা পিঠা ভুলে গিয়ে কেকের নাম বেশি জানে। পিঠা বানানোর জন্য বিভিন্ন রকমের ধান আছে। শুধু পাঠ্যপুস্তকে সীমাবদ্ধ না থেকে দেশের সংস্কৃতি না জানলে শিক্ষিত হওয়া যাবে না। পরিবেশ ও কৃষকদের রক্ষা করা জরুরি। পিঠার সাথে পল্লীগীতি গানের সম্পর্ক রয়েছে। গণ বিশ্ববিদ্যালয়ই প্রথম এবং একমাত্র এই পিঠা উৎসব করে আসছে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা নিয়ে দেশের সংস্কৃতিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে আমাদের।

পিঠা উৎসবের বিশেষ আকর্ষণ ছিলো বিভিন্ন স্টলের সামনে সেলফি স্ট্যান্ড। সাকিব হোসেন নামের এক শিক্ষার্থী বলেন, শহরের যান্ত্রিকতা ও ব্যস্ততার কারণে গ্রামীণ পিঠা হারিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু এই উৎসবে নানাবাড়ি, দাদাবাড়ির সেই গ্রামের পিঠা খাওয়ার আমেজ ফিরে পেলাম।

পিঠা উৎসবের জন্য বেলুন, প্ল্যাকার্ড আর ফেস্টুনে সাজানো হয়েছিল বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণ। শিক্ষার্থীরা নানা নামের বাহারি নকশার মুখরোচক পিঠা নিয়ে হাজির হন উৎসবে। মেলায় মোট ২৫টি স্টলে বাহারি পিঠার পাশাপাশি, চুড়ি, ফিতা এবং গোলাপ ফুলও বিক্রি হয়।

অনুষ্ঠানজুড়ে ছিল পিঠা প্রদর্শনী, ঘুড়ি উৎসব, গ্রামীণ খেলাধুলা, সেরা স্টল নির্বাচন এবং পুরস্কার বিতরণ। বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থী ও মিউজিক কমিউনিটির পরিবেশনায় নৃত্য ও লোকগান পরিবেশন করা হয়।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button

You cannot copy content of this page