ক্যাম্পাস

নবীনদের স্বপ্ন ছোঁয়ার অনুভূতি

কুবি প্রতিনিধি:

নতুন বছরে নতুন রঙে দেশের পাবলিক বিশ্বিবদ্যালয় গুলো নবীনদের পদচারণায় প্রাণ ফিরে পেয়েছে। ক্যাম্পাস জুড়ে দেখা যায় একঝাঁক প্রাণবন্ত,চঞ্চল নতুন মুখ। প্রতিবছর নতুনদের আগাম মাতিয়ে তুলে ক্যাম্পাস।

শিক্ষা জীবনে প্রায় প্রতিটি শিক্ষার্থীর মনেই স্বপ্ন জাগে একটা পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাদ গ্রহণের। মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিকের সময় থেকেই রঙিন স্বপ্নকে মনের মধ্যে লালিত করতে থাকে তারা। তবে বিভিন্ন পারিপার্শ্বিক কারণে সেই স্বাদ গ্রহণের সুযোগ হয়না সবার। অনেকে আবার কঠোর পরিশ্রম করেও ভাগ্যের পরিহাসে স্বপ্নের ক্যাম্পাসে পদচারণা করতে পারে না। তবে তাদের মধ্যে যারা একটা পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের খাতায় নাম লেখাতে পারে নিঃসন্দেহে তাদের ভাগ্যবান বলা চলে৷ এই বছর (২০২১-২২) শিক্ষাবর্ষে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পেয়ে শিক্ষার্থীদের অনুভূতি ও তাদের ভবিষ্যত চিন্তা ভাবনা কী এসব তুলে ধরেছেন ক্যাম্পাস সাংবাদিক মোহাম্মদ জোবাইর হোসাইন।

ব্যবস্থাপনা শিক্ষা বিভাগের শিক্ষার্থী সাঈদ হাসান কানন ডেইলি দর্পণকে বলেন, হাড় কাপানো শীতের সকালে মনে এক অজানা শঙ্কা নিয়ে আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্দেশ্যে আমার শহর টেকনাফ থেকে কয়েকশ কিলোমিটার দূরে নতুন শহরে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের এটি ছিল আমার প্রথম দিন…আমি একই সাথে উত্তেজিত এবং বেশ নার্ভাস ছিলাম। ইউনিভার্সিটির সেই বিখ্যাত লাল বাসে চড়া আমার লালিত ইচ্ছা……সেই স্বপ্ন প্রথম দিনেই সত্যি হয়েছিল ৩নং বাসে  চড়ে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাঙ্গণে প্রবেশ করার সময় সিনিয়ররা আমাদের আন্তরিকভাবে স্বাগত জানালে আমার সমস্ত ভয় দূর হয়ে যায়।

একাউন্টিং এন্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের শিক্ষার্থী ফারিহা মিম ডেইলি দর্পণকে বলেন, স্কুল-কলেজ পার হয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তির আগ পর্যন্ত প্রত্যেক্যটা ছাত্র-ছাত্রীর অনেকটা যুদ্ধক্ষেত্র পাড়ি দিতে হয়। এই যুদ্ধক্ষেত্রে জয়ী হয়ে নিজের কাঙ্ক্ষিত স্থান লাভ ও হাজার ভিড়ের মাঝে নিজেকে আলাদা করে তুলে ধরা, খুব কম মানুষের ভাগ্যে জোটে। শত প্রত্যাশার, স্বপ্নে বোনা সেই বিশ্ববিদ্যালয়ে সেখানকার একজন শিক্ষার্থী হয়ে যেদিন প্রথম পদাচারন করা হয়, সে এক স্বর্গীয় অনুভূতি।প্রথম যেদিন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয় বিশ্বাস হচ্ছিল না যে আজই আমার স্বপ্ন পুরণের দিন। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়  আমার এই ছোট জীবনে সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি এ সবকিছু মিলিয়ে যেন এক  স্বপ্নের দেশে বিচরণ করছি।এভাবেই স্বপ্নের ক্যাম্পাসে সাফল্যের সঙ্গে সময় গুলো কাটিয়ে দিতে  চাই।

একই বিভাগের শিক্ষার্থী শাহরিন সুলতানা ডেইলি ডেইলি দর্পণকে বলেন, ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতির সময়ের সব পরিশ্রম পূর্ণতা পেয়েছে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স হওয়ার পর। যেদিন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেরিট লিস্ট প্রকাশিত হয়, সেদিন আমার জীবনের অন্যতম স্মরণীয় একটি দিন। এক অদ্ভুত প্রশান্তি যেন আমাকে চারদিক থেকে ঘিরে ধরলো। বাবা-মা, শিক্ষকদের মুখে গর্বের হাসি দেখে আমার উচ্ছ্বাস ও অনুপ্রেরণা বহুগুণ বেড়ে গেল। সর্বদাই আমার দেশের উন্নতি ও মানুষের প্রগতির জন্য কাজ করার সদিচ্ছা ছিল তবে সেই স্পৃহাটা এখন তেজী ঘোড়ার মতো ছুটছে। আমি নিজের মেধা ও শ্রমকে দেশের সমৃদ্ধি সাধনে ও মানুষের কষ্ট লাঘবে নিবেদন করতে চাই। সব প্রতিবন্ধকতা দূর করে সুন্দর আগামী গড়তে চাই।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button

You cannot copy content of this page