ক্যাম্পাস

‘ডাবল প্রভোস্ট’ এর দায়িত্বে জাবি অধ্যাপক

জোবায়ের আহমেদ, জাবি প্রতিনিধি:

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) এক হলের দায়িত্ব থাকা স্বত্বেও নবনির্মিত আরেক হলের দায়িত্ব পেয়েছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক আবদুল্লাহ হেল কাফী।

রেজিস্ট্রার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, উদ্বোধনের পর থেকেই বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হলের প্রভোস্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন তিনি। উক্ত হলের প্রভোস্ট হিসেবে গত বছরের ২৩ জুন তাকে প্রভোস্ট কমিটির সভাপতির দায়িত্ব দেয়া হয়। এ দুটি দায়িত্ব থাকা স্বত্বেও একই বছরের ৮ ডিসেম্বর নবনির্মিত ২২নং হলের প্রভোস্ট হিসেবে তাকে নিয়োগ দেওয়া হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ্য অধ্যাপক থাকা স্বত্বেও একই ব্যক্তিকে দুই হলের দায়িত্ব ও প্রভোস্ট কমিটির সভাপতির দায়িত্ব দেওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন মহলে সমালোচনা শুরু হয়েছে।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক জ্যেষ্ঠ শিক্ষক জানান, “একজন শিক্ষকের একই সাথে দুই হলে প্রভোস্টের দায়িত্ব পালন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে মানানসই নয়। এটি একটি প্রশাসনিক অদক্ষতা। উক্ত শিক্ষককে নতুন হলে দায়িত্ব প্রদানের সময় প্রশাসনের উচিত ছিল বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হলের দায়িত্বরত কোন জ্যেষ্ঠ শিক্ষক বা উপযুক্ত অন্য যেকোন শিক্ষককে ওই হলের দায়িত্ব হস্তান্তর করা। হল প্রভোস্টর দায়িত্ব একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। তাই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উচিত এ বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেয়া। পাশাপাশি যেসব হল প্রভোস্টের মেয়াদ শেষ হয়েছে সেসব হলে নতুন প্রভোস্ট নিয়োগ দেয়া।”

তারা আরও বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ক্যাম্পাসের বাইরে, অরুনাপল্লী, এমনকি পুলিশ টাউনে বসবাসকারী শিক্ষকদের হল প্রশাসনের দায়িত্ব প্রদান করছেন। প্রভোস্টের দায়িত্ব পালনে আগ্রহী শিক্ষকের তো অভাব নেই। হলে দীর্ঘদিন ধরে দায়িত্ব পালনকারী জ্যেষ্ঠ শিক্ষককে তাৎক্ষণিকভাবে ভারপ্রাপ্ত প্রভোষ্টের দায়িত্ব দেয়া যেতে পারত। এমন একটি সময় ছিল যখন প্রভোস্ট, ওয়ার্ডেন, ও অন্যান্য আবাসিক শিক্ষকগণকে ক্যাম্পাসের বাসায় অবস্থান করার বিষয়টি বাধ্যতামূলক ছিল। সম্পূর্ণ আবাসিক জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে তার ব্যত্যয় ঘটছে এবং তা বেড়েই চলেছে। বিশেষ কি কারণে একই শিক্ষককে দুটি হলের দায়িত্বে রাখার বিষয়টি রহস্যজনক ও বোধগম্য নয়।”

এর আগে, এই অধ্যাপকের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষিকাকে যৌন নিপীরণের অভিযোগ ওঠে। যা প্রমাণিত হলে বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেট তাকে শাস্তি স্বরূপ সহযোগী অধ্যাপক থেকে সহকারী অধ্যাপক পদে পদাবনতি করে।

বিষয়টি নিয়ে অধ্যাপক আবদুল্লাহ হেল কাফির কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের অসংখ্য কর্মকর্তা একইসাথে একাধিক পদে দায়িত্ব পালন করছেন। এই বিশ্ববিদ্যালয়েরও অনেক শিক্ষক একসাথে একাধিক দায়িত্বে আছেন। আমার আগে অধ্যাপক আবুল হোসেন ছাড়াও আরেক শিক্ষক একসাথে দুই হলের দায়িত্বে ছিলেন। সুতরাং, যে কাজ করে সে একাধিক পদে থেকেও কাজ করতে পারে। আমি আজকেও আমার বর্তমান হলে তিন ঘন্টা সময় দিয়েছি। প্রশাসন ওই সময় আমাকে যোগ্য মনে করেছে বলে ২২ নং হলের দায়িত্ব দিয়েছে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button

You cannot copy content of this page