ক্যাম্পাসলিড নিউজ

দলীয় লেজুড়বৃত্তির উর্ধে উঠে পাঠদানের জন্য শিক্ষকদের প্রতি আহ্বান রাষ্ট্রপতির

জাবি প্রতিনিধি:

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (২৫ ফেব্রুয়ারি) ষষ্ঠ সমাবর্তনের বক্তব্যে দেশের রাষ্ট্রপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য এ আহ্বান তিনি জানান।

দলীয় লেজুড়বৃত্তির উর্ধে উঠে পাঠদানের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য বলেন, “পত্রিকা খুললে এখন দেখা যায় বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়োগ বাণিজ্য ও টেন্ডার বাণিজ্যের কথা উঠে আসে।

ইদানীংকালে পত্র-পত্রিকা খুললেই বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কে নেতিবাচক খবর দেখা যায়। এগুলোর বেশিরভাগ ক্ষেত্রে উপাচার্য ও শিক্ষকদের সংশ্লিষ্টতার খবর বড় করে ছাপা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও শিক্ষকদের সামাজিক মর্যাদা অনেক অনেক উর্ধে। কিছু প্রতিবন্ধকীয় অপকর্ম ও অদক্ষতার খবর পুরো শিক্ষক সমাজের সম্মানকে ম্লান করছে। এছাড়াও ছাত্র-শিক্ষক সম্পর্কের ক্ষেত্রে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। আমি আশা করবো আমাদের সম্মানিত শিক্ষক সমাজ বিষয়টি ভেবে দেখবেন। নিজেদের স্বজনপ্রীতি ও দুর্নীতির উর্ধে রাখবেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীগণ মুক্তবুদ্ধির চর্চা করেন। এখানে তারা রাজনৈতিক অনুশীলন ও সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ ও করেন। রাজনীতিতে অর্থ ও ক্ষমতার দাপট নিয়ামক হিসেবে কাজ করে । টেন্ডারবাজি ও চাঁদাবাজির কারণে ছাত্র রাজনীতিকে এখন মানুষ আগের মত সম্মানের চোখে না দেখে নেতিবাচকভাবে দেখে।”

অনেক বিশ্ববিদ্যালয়গুলো শিক্ষাবহির্ভূতকাজে সময় বেশি দিচ্ছে বলেই বিশ্ব র‌্যাংকিং এ প্রথম এক হাজারের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে খুজেঁ পাওয়া যায় না উল্লেখ করে তিনি বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ে লেখাপড়ার সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে হবে। পড়াশোনার জায়গা ঠিক রেখে তারপর রাজনীতি, সমাজসেবা সহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কর্মকান্ড যুক্ত করতে হবে। লেখাপড়ার ক্ষেত্রে কোনোভাবে সমঝোতা করা যাবে না। কেবল সনদ সর্বস্ব শিক্ষা দিয়ে দেশ ও জাতির উন্নতি করা যাবে না। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার সাথে বাস্তব জীবনের যোগসূূত্র স্থাপন করতে পারলে তবেই তাকে সফল শিক্ষা বলা যায়।”

রাষ্ট্রপতি এটিকে তাঁর বিদায়ী সমাবর্তন আখ্যা দিয়ে বিভিন্ন পেশার মানুষ নিয়ে কথা বলেন। এসময় ব্যবসায়ী ও ঋণ খেলাপীদের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “ব্যবসায়ীরাও ব্যবসা শুরু করে নীতি-নৈতিকতা বাদ দিয়ে কিভাবে শুধু নিজে বড়লোক হওয়া যায় সেই চিন্তায় সারাক্ষণ ব্যস্ত থাকে। খেলাপী ঋণের এক শতাংশের জন্যও সাধারণ মানুষ দায়ী নয়। বরং বড় বড় শিল্প প্রতিষ্ঠান ব্যাংক থেকে ঋণ নেয় স্বেচ্ছায় ঋন খেলাপী হওয়ার জন্য। তারা ঋণ নেয় না দেওয়ার জন্য।”

এ ছাড়াও সমাবর্তনে প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী যুব সমাজকে বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়ার জন্য আহ্বান জানিয়ে বলেন, “ব্যক্তিস্বার্থ মানুষকে অমানুষে পরিণত হতে প্ররোচিত করে। এছাড়া অর্থলোভী হতে, দুর্নীতি, অর্থপাচার এবং মানবিকতাবোধকে ধ্বংস করতে প্ররোচিত করে। তাই ব্যক্তিগত স্বার্থের চেয়ে মানুষের প্রতি কর্তব্য এবং সেবার বিষয়টি সবার আগে বিবেচনা করতে হবে।”

উপাচার্য অধ্যাপক নূরুল আলম বলেন, ‘উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় দেশ বিদেশে প্রভূত সুখ্যাতি অর্জন করেছে। বিশ্বসেরা বিজ্ঞানী ও গবেষকের তালিকায় এ বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক মেধাবী ও শিক্ষার্থীর নাম অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। আমি প্রত্যাশা করি বিশ্ববিদ্যালয়ের এ অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকবে এবং এ পথ আরও প্রশস্ত হবে।’

সমাবর্তনে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন উপ উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক শেখ মনজুরুল হক। এ সময় অন্যান্যদের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক রাশেদা আখতার, বিভিন্ন অনুষদের ডিন, সিনেট ও সিন্ডিকেট সদস্য, একাডেমিক কাউন্সিলের সদস্যসহ আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে, দুপুর আড়াইটায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার প্রাঙ্গণ থেকে উপাচার্য অধ্যাপক মো. নূরুল আলমের নেতৃত্বে সমাবর্তনের শোভাযাত্রা শুরু হয়ে কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে এসে শেষ হয়। পরে বেলা তিনটায় রাষ্ট্রপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য মো. আবদুল হামিদের নেতৃত্বে আরেকটি শোভাযাত্রা সমাবর্তনস্থলে এসে শেষ হয়। শোভাযাত্রায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভিন্ন বিভাগের অধ্যাপক, সহযোগী অধ্যাপক ও প্রভাষক এবং সিনেট ও সিন্ডিকেট সদস্যরা অংশগ্রহণ করেন।

এবারের সমাবর্তনে ১৫ হাজার ২২৩ জন গ্রাজুয়েট অংশগ্রহণ করেছেন। এদের মধ্যে নিয়মিত স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্নকারী ১১ হাজার ৪৪৬ জন, এমফিল ডিগ্রির ৩৪ জন, পিএইচডি সম্পন্নকারী ২৮১ জন এবং সাপ্তাহিক কোর্সের (স্নাতকোত্তর) ৩ হাজার ৪৬২ জন।

এছাড়া সমাবর্তনে স্নাতক ও স্নাতকোত্তরে সবগুলো বিভাগের মধ্যে সর্বোচ্চ নম্বরধারী ১৬ জন শিক্ষার্থীকে স্বর্ণপদক দেওয়া হয়।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button

You cannot copy content of this page