ক্যাম্পাসলিড নিউজ

কুবির ১৫ তম আবর্তনের প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি

হোসাইন মোহাম্মদ, কুবি প্রতিনিধি:

অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের আঁধার কুমিল্লার সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়। কুমিল্লা লালমাই পাহাড়ের পাদদেশে, ময়নামতি পাহাড়ের কোল ঘেঁষে উঁচু নীচু লাল মাটির পাহাড় আর সবুজের সমারোহে সৌন্দর্যমণ্ডিত অপরূপ এক ক্যাম্পাস কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি পাহাড়ে ঘেরা এই অঞ্চলটির জ্ঞানচর্চার ইতিহাস বেশ পুরোনো।

এই ক্যাম্পাস স্মরণীয় হয়ে থাকবে একঝাঁক তরুণ-তরুণদের। ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২২, দিনটি ছিল রোববার, বিশ্ববিদ্যালয়ের রচিত হলো নতুন অধ্যায় হিসাবে ১৫ তম আবর্তনের। একজন শিক্ষার্থী একরাশ স্বপ্ন নিয়ে ভর্তি হন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে। দেখতে দেখতে চলে গেল ১৫ তম আবর্তনের একটি বছর। কেমন ছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বছরের প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি নিয়ে লিখেছেন সাংবাদিক মোহাম্মদ জোবাইর হোসাইন।

রসায়ন বিভাগের শিক্ষার্থী মোরছালিন হোসাইন নিজের অভিজ্ঞতা প্রকাশ করে ডেইলি দর্পণকে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্পণের প্রথম দিন থেকেই জীবনের নতুন অধ্যায়ের সূচনা শুরু হয়। যতটা আশা করেছিলাম ততটা না পেলেও অনেক কিছুই পেয়েছি যা এ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি না হলে কখনও পাওয়া হতে না। প্রত্যাশার তুলনায় প্রাপ্তি যদিও খুব নগণ্য তবুও বলব যেহেতু আমরা এ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তাই এটাই আমাদের পরিচয়। তাই চলুন নিজের পরিচয়কে দেশের গণ্ডি ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উন্নীত করতে সকলে একত্রে সচেষ্ট হই। পরিশেষে, এ কথাই বলতে চাই যে আমার বিশ্ববিদ্যালয়ে কাটানো প্রতিটি মুহূর্ত যেন আমার জীবনের সফলতার অন্যতম নির্যাস ; যা আমি বারবার পেতে চাই। তাই কবি জীবনানন্দের সুরে সুর মিলিয়ে পড়তে চাই।

“আবার আসিব ফিরে গোমতী নদীর তীরে, এই ক্যাম্পাসে। হয়ত সাধারণ ছাত্র, অফিসার বা গ্রাজুয়েটধারী ক্যাডারের বেশে, হয়ত কৃষ্ণচূড়ার ডালে ভোরের কোকিল হয়ে লালমাটির এ ক্যাম্পাসে”

একাউন্টিং এন্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস্ বিভাগের শিক্ষার্থী ফেরদৌসী আক্তার ডেইলি দর্পণকে বলেন, দেখতে দেখতে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে পথ চলার একবছর পূর্ণ হলো। সময়ের পরিক্রমায় আজ আমরাও মোস্ট জুনিয়র ব্যাচের উপাধি হারিয়েছি।তবে বিন্দুমাত্র আক্ষেপ নেই, গত এক বছরে ক্যাম্পাসে কাটানো প্রতিটা দিনই সুন্দর ছিল, আসলেই প্রথম বর্ষের স্মৃতিগুলো সবচেয়ে মূল্যবান।তবে প্রথম দিকে সবার সাথে খাপ খাইয়ে নিতে একটু কষ্ট হচ্ছিলো কারণ এখানে একেক জনের মেন্টালিটি একেক রকমের, তবে আমি সত্যই সৌভাগ্যবান যে আমি আমার মেন্টালিটির মতন একদল বন্ধু পেয়েছি, যারা আমার বিশ্ববিদ্যালয়ের জীবন টাকে আরও সুন্দর করে তুলছে। একেক পর এক মিড, টার্ম পেপার, অ্যাসাইনমেন্ট, প্রেজেন্টেশন, সেমিস্টার ফাইনাল,এসবের মাঝে ও লালমাটির এই ৫০ একর কে বড্ড ভালোবাসি, আগামী দিনের পথচলা গুলো যেন শুভ হয় সৃষ্টিকর্তার কাছে সেই প্রার্থনা করি।

আইসিটি বিভাগের শিক্ষার্থী মহিউদ্দিন ডেইলি দর্পণকে জীবনের স্মরণীয় দিন নিয়ে বলেন, এই দিন ছিল আমার বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের প্রথম দিন, হাজারো স্বপ্নকে সারথি করে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে আমার ছুটে আসা প্রথম দিনের অনুভূতি আমাকে এখনো প্রবল ভাবে নাড়া দেয়। দেখতে দেখতে একবছর পূর্ণ হয়ে গেল, প্রত্যাশা’র অনেক চাপ ও অনুভূতি, সাথে চারদিকে আনন্দঘন পরিবেশ, এই দিনটাকে আরো বর্ণিল করেছিল, প্রত্যাশা ও প্রাপ্তির ভিড়ে লালমাটির ক্যাম্পাসের একজন শিক্ষার্থী হিসাবে আমি গর্ব অনুভব করি,কুবির মনোরম পরিবেশ, সবুজ নগরী, শিক্ষার মান সম্পূর্ণ নিরিবিলি পরিবেশ সত্যিই মনোমুগ্ধকর।এই ভালোবাসার ক্যাম্পাস হতে একজন সমাজের সেবক হিসাবে নিজেকে আত্মত্যাগ হিসাবে তৈরি করাই হবে মূল উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য।

আইন বিভাগের শিক্ষার্থী সামিউল আলম ডেইলি দর্পণকে বলেন, প্রখ্যাত সাহিত্যিক আবুল ফজল বলেছেন- “অনেক কিছু ফিরে আসে ফিরিয়ে আনা যায়, কিন্তু সময়কে ফিরিয়ে আনা যায় না।” একইভাবে বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের প্রথম দিনটিও আর ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়, তা এখন কেবল সোনালি অতীত হয়ে আছে। চোখে একরাশ স্বপ্ন নিয়ে উচ্চশিক্ষার উদ্দেশ্য বাংলাদেশের অন্যতম শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপীঠ “কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়”-এ ২০২০-২০২১ শিক্ষাবর্ষে আইন বিভাগে ভর্তি হই। দেখতে দেখতে এই বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের একটি বছর কালের পূর্ণ হলো। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের সূচনা হয় ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২২ তারিখে ওরিয়েন্টেশন ক্লাসের মধ্যে দিয়ে। আমরা হয়ে গেলাম কুবির ১৫ তম আবর্তন। এই ক্যাম্পাসের মনোরম সবুজ শিক্ষাবান্ধব ও নিরিবিলি পরিবেশ জ্ঞান অর্জনের ক্ষেত্রে ভূমিকা পালন করে আসছে। স্পেনের মাদ্রিদভিত্তিক শিক্ষা ও গবেষণা র‍্যাংকিং প্রকাশকারী প্রতিষ্ঠান “ওয়েবমেট্রিক্স”-এর র‍্যাংক অনুযায়ী ১০৪ ধাপ এগিয়ে বর্তমানে বিশ্বে ৪,৮২৯ তম অবস্থানে আছে “লাল মাটির ক্যাম্পাস” যা আমার প্রত্যাশাকে ছাড়িয়ে গেছে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button

You cannot copy content of this page