ক্যাম্পাস

জাবিতে শারীরিক নির্যাতনের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ দুই শিক্ষার্থীর

জাবি প্রতিনিধি:

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) ছাত্রলীগের এক নেতার বিরুদ্ধে মারধর ও ছিনতাইয়ের চেষ্টার অভিযোগ দায়ের করেছিলেন একজন শিক্ষার্থী এবং এর কয়েকঘন্টা পরই প্রক্টর বরাবর পাল্টা অভিযোগ করেন সেই ছাত্রলীগ নেতা।

দুজনের অভিযোগেই সোমবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা পৌনে ছয়টা-সারে সাতটার দিকে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় স্কুল ও কলেজ সংলগ্ন মাঠে ঘটনাটি ঘটেছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৮ ফেব্রুয়ারী) বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর বরাবর অভিযোগ দায়ের করেন সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যম অধ্যয়ন বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের (৪৯তম ব্যাচ) শিক্ষার্থী এবং বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হলের আবাসিক ছাত্র ফেরদৌস হাওলাদার ।

অভিযোগপত্রে শাখা ছাত্রলীগের এক নেতাসহ অজ্ঞাত আরও ২ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেতা হলেন- বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা ছাত্রলীগের সহ সম্পাদক শেখ শাহরিয়ার পারভেজ শাওন। তিনি দর্শন বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের (৪৮ তম ব্যাচ) শিক্ষার্থী এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের আবাসিক ছাত্র।

ফেরদৌস হাওলাদার অভিযোগপত্রে উল্লেখ করে “সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার(২৭ ফেব্রুয়ারি) দিকে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় স্কুল ও কলেজ সংলগ্ন মাঠ থেকে ফেরার পথে হঠাৎ একটি মটর সাইকেলে আসা তিনজন শিক্ষার্থী আমাকে গতিরোধ করে। উক্ত তিন জনের মধ্যে শেখ শাহরিয়ার পারভেজ শাওন তাকে এলোপাথারি চর-থাপ্পর মারতে থাকে। আমার মনে হয়, শারীরিক নির্যাতনটি ছিলো ছিনতাইয়ের প্রাথমিক মহড়া। কারন যখনই তারা জানতে পারে আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তখনই স্থান ত্যাগের জন্য তড়িঘড়ি শুরু করে।”

এরই পরিপ্রেক্ষিতে দর্শন বিভাগের ১৮-২০ শিক্ষাবর্ষের (৪৮তম আবর্তন) শিক্ষার্থী শেখ শাহরিয়ার পারভেজ শাওন প্রক্টর বরাবর অভিযোগ করে করেন। অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন “গতকাল আনুমানিক ৫:৪৫ মিনিটে বাইক যোগে নবীনগর যাওয়ার পথে নূর মোহাম্মদ প্রিন্স (কৌশল-৪৫), মোস্তফা রাফিদ (দর্শন-৪৭) জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় স্কুল এন্ড কলেজের সামনে রাস্তায় সাংবাদিকতা ও গনমাধ্যম অধ্যয়ন বিভাগের শিক্ষার্থী ফেরদৌস হাওলাদারের গায়ে ধূলা লাগে বলে আমাকে সে গালি-গালাজ করে এবং নবীনগর থেকে ফেরার পথে আনুমাসিক ৬.৪০ এর দিকে সে পরিচয় জানতে চায় ও বহিরাগত ভেবে গালিগালাজ করে ও একটা ঘুষি মারে। গতকাল(২৭ফেব্রুয়ারি) রাত ৩:৪০ দিকে বাইরে খেতে আসার সময় অন্ধকারে ৪-৫ জন আমার উপর হামলা করে।”

এ ব্যাপারে ফেরদৌস হাওলাদার বলেন, “অভিযুক্ত কারো সাথেই পূর্ব পরিচয় কিংবা কোন ধরনের শত্রুতা নেই। স্কুল ও কলেজ সংলগ্ন মাঠ থেকে ফেরার পথে তারা আমার গতিরোধ করে এবং মারধর করে। আমি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।”

ওপর দিকে ফেরদৌস হাওলাদারের অভিযোগ পেয়ে শেখ শাহরিয়ার পারভেজ শাওনের সাথে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করলেও যোগাযোগ করা যায়নি।

ফেরদৌস হাওলাদারের অভিযোগের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান লিটন বলেন,
“ছিনতাইয়ের চেষ্টার ঘটনা এরকম কোন কিছু ঘটেছে বলে আমার জানা নেই। তবে তদন্ত এবং প্রমাণসাপেক্ষে কেউ অপরাধে যুক্ত হলে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। কারও অপরাধের দায় সংগঠন নেবে না। সাংগঠনিকভাবে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর আ স ম ফিরোজ-উল-হাসান বলেন, অভিযোগপত্র তারা পেয়েছেন। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button

You cannot copy content of this page