লিড নিউজসারাদেশ

মেঘনা-ধনাগোদা সেচ প্রকল্প জলাবদ্ধতায় আমন চাষ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা

ফারুক হোসেন:

বৃষ্টি হলেই দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম মেঘনা-ধনাগোদা সেচ প্রকল্পে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। এতে প্রতি বছরই প্রকল্পের ধানের আবাদ করা চাষিদের লোকসান গুনতে হচ্ছে। সম্প্রতি টানা বর্ষণে সেচ প্রকল্পে ভিতরে জলাবদ্ধত তৈরি হওয়ায় চলতি মৌসুমে আমন চাষ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

উপজেলা কৃষি কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে সেচ প্রকল্প বেরীবাঁধের ভিতরে প্রায় ১০ হাজার হেক্টর জমিতে রোপা আমন আবাদে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু জলাবদ্ধতার কারণে প্রকল্পের ৪ হাজার হেক্টর জমিতে আমন আবাদ ব্যাহত হওয়ার শঙ্কা রয়েছে। জুলাই মাসের চেয়ে আগস্ট মাসে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ বেড়ে যায় এতে বেড়িবাঁধটির ভেতরে কৃষিজমিতে আগের জলাবদ্ধতার সঙ্গে ওই বৃষ্টির পানি যোগ হয়। এখন এসব জমিতে গভীর জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার ঘনিয়াপাড়, তালতলী, বড় মরাধন, লবাইরকান্দি, গজরা, ফতেপুর, ইসলামাবাদ, লবাইরকান্দি, দুর্গাপুর, নিশ্চিন্তপুর, হলদিয়া, বাগানবাড়ী, বদরপুর, রুহিতার পাড়, ঠাকুরচর, হানিরপাড়, কলাকান্দা, মিলারচর, দশানী, জোড়খালী, বালুরচর, মাথাভাঙ্গা, পাঁচানী, নাউরী, হলদিয়া, লুধুয়া, শিকিরচর, ছেংগারচর, কেশাইরকান্দি, জীবগাঁও, পাঠান বাজার, ঝিনাইয়া, ছোট মরাধন, অলিপুর, নয়াকান্দি, সুজাতপুর, একলাছপুরসহ সেচ প্রকল্পের বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে।

উপজেলা উপ-কৃষি কর্মকর্তা জানান, সেচ প্রকল্পের বেড়িবাঁধের ভেতরে টানা বৃষ্টিতে অনেক নিচু কৃষিজমি ও কয়েকটি বিলে দু-তিন ফুট উচ্চতার জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে। সেটি দূর করতে পদক্ষেপ নেয়নি পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) কর্তৃপক্ষ। এতে গত আউশ মৌসুমে দুই হাজার বেশি হেক্টর কৃষিজমিতে আবাদ করতে পারেননি চাষীরা।

উপজেলার রুহিতারপাড় এলাকার কৃষক রহমত বলেন, জমিতে বৃষ্টির পানি আটকাইয়া আছে। রোপা আমন ধানের বীজতলা পানির নিচে, এ নিয়া খুব দুশ্চিন্তায় আছি। এলাকার কয়েকজন অভিযোগ করেন, বেড়িবাঁধের ভেতরে পানি সরবরাহ খালগুলো প্রভাবশালীরা দখল করে স্থাপনা তৈরি করছেন। যার কারণে সেচ সরবরাহ না হওয়ায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। এ বিষয়ে পাউবো কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নিচ্ছে না।

মেঘনা-ধনাগোদা সেচ প্রকল্পের দায়িত্বে থাকা চাঁদপুর পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জাকির হোসেন বলেন, বেড়িবাঁধটির ভেতরে পানি নিষ্কাশন খাল পরিষ্কার এবং সংস্কার করার জন্য একটি নতুন প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। ওই প্রকল্পটি প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ পাওয়া গেলে নিষ্কাশন খাল কার্যকর করে জলাবদ্ধতা দূর করা হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশরাফুল হাসান বলেন, বিষয়টি নিয়ে পাউবো কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। যাতে সেচ প্রকল্পের ভিতরে জলাবদ্ধতা দূর করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button

You cannot copy content of this page