লিড নিউজসারাদেশ

মতলব-গজারিয়া ঝুলন্ত সেতু একনেকে অনুমোদন

ফারুক হোসেন:

একনেকে অনুমোদন পেয়েছে মতলব-গজারিয়ার সংযোগ স্থাপনকারী ঝুলন্ত সেতু। চাঁদপুর ও গজারিয়া জেলার সীমান্ত স্থানে মেঘনা ও ধনাগোদা নদীর ওপর সেতুটি নির্মিত হবে।

জানা যায়, চাঁদপুর, বৃহত্তর নোয়াখালী লক্ষীপুর, ফেনী, দক্ষিণ পূর্বাঞ্চলের মানুষের পঞ্চাশ বছর ধরে মেঘনা-ধনাগোদা নদীর ওপর মতলব-গজারিয়া সংযোগ সেতু নির্মাণের দাবি ছিল। ওই দাবি প্রেক্ষিতে মঙ্গলবার (৩১ অক্টোবর) সকালে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় প্রকল্পটি অনুমোদন দেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

এদিকে সেতু নির্মানে জন্য ২০১৯ সালে স্হানীয় সংসদ সদস্য নুরুল আমিন রুহুল সেতু নির্মানের জন্য একটি ডিও লেটার সংশ্লিষ্ট দপ্তরে দেওয়া হলে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে ৬ শত কোটি টাকা সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়।

পরবর্তীতে ২০২২ সাল থেকেই পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ড.শামসুল আলমের প্রচেষ্টায় সড়ক ও সেতু মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ৪ হাজার ১৭৪ কোটি টাকা বরাদ্ধে মতলব-গজারিয়া সংযোগ সেতু নির্মানের বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সেতু নির্মাণের অর্থ মঙ্গলবার ৩১ অক্টোবর ২০২৩ জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদে নির্বাহী কমিটি (একনেক) সভায় অনুমোদন হলো। সেতু নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে ৪ হাজার ১৭৪ কোটি টাকা। প্রকল্পের কাজ চলবে ২০২৪ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০২৮ সালের ৩১ ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার সাদুল্লাপুর ইউনিয়নের অংশবিশেষ (জামালপুর) ও মুন্সীগঞ্জ জেলার গজারিয়া উপজেলার ইমামপুর ও গুয়াগাছিয়া ইউনিয়নের অংশবিশেষ মেঘনা-ধনাগোদা নদীর ওপর ঝুলন্ত দৃষ্টিনন্দন সেতু নির্মাণের জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় প্রস্তাব উত্থাপনের পর তা অনুমোদন লাভ করে।

এদিকে সেতুটি নির্মিত হলে ঢাকা থেকে গৌরীপুর-মতলব উপজেলা ও চাঁদপুর জেলা সদরে বর্তমান দূরত্ব প্রায় ১২০ কিলোমিটার। কিন্তু ঢাকা থেকে ভবেরচর হয়ে গজারিয়া উপজেলার সীমানার ওপর দিয়ে মতলব-গাজারিয়া সংযোগ সেতু হলে চাঁদপুর জেলা সদরের দূরত্ব সর্বোচ্চ ৬৮ কিলোমিটার হবে। এই সেতু নির্মাণ হলে চাঁদপুরসহ বৃহত্তর নোয়াখালীর লক্ষীপুর, ফেনী, দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ দ্রত্ব সময়ে ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেটে পৌঁছতে পারবেন।

পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ড. শামসুল আলম জানান, মতলব-গজারিয়া সংযোগ সেতু নির্মাণ বাস্তবায়নের জন্য দীর্ঘদিন জোড়ালো কার্যক্রম চালিয়ে ছিলাম। মঙ্গলবার একনেক সভায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে প্রকল্পটি অনুমোদন দেওয়া হয়। ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকেই বাংলাদেশের সর্বোচ্চ তারের ঝুলন্ত দৃষ্টিনন্দন সেতুটি নির্মান কাজ শুরু হবে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button

You cannot copy content of this page