সারাদেশ

‘বাগদাদ শরীফ ও মাইজভাণ্ডার শরীফের মাঝে গভীর ও অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ক রয়েছে’

নিজস্ব প্রতিনিধি:

মাইজভাণ্ডার শরীফ জিয়ারতে আসেন, বাগদাদ শরীফের অর্থাৎ বড়পীর হযরত আবদুল ক্বাদির জ্বিলানী (কঃ) এর দরবারের প্রধান মুতওয়াল্লি, বংশধর ও সাজ্জাদানশীন হযরত সৈয়দ আফিফ উদ্দিন আল জ্বিলানী। এসময় তাকে লালগালিচা সংবর্ধনা প্রদান করেন, আরেক আওলাদ-এ-রাসুল (সা.), মাইজভাণ্ডার শরীফের সাজ্জাদানশীন, হযরত সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ আল হাসানী মাইজভাণ্ডারী। ফুল ও নাতে রাসুল (দ) গেয়ে তাকে স্বাগত জানানো হয়। দরবার শরীফের মাশায়েখগণের মাজার শরীফ জিয়ারত ও ইফতার শেষে গাউসুল আযম বাবাভাণ্ডারী (কঃ) এর খলিফা হযরত আবদুস সালাম ইছাপুরী (রহঃ) এর ওরছ শরীফে তারা দুজন অতিথি হিসেবে অংশগ্রহণ করেন।

এসময় হযরত সৈয়দ আফিফ উদ্দিন আল জ্বিলানী, দুই দরবারের মাহাত্ম্য তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “ইসলাম ও সুফিবাদের প্রচারের ক্ষেত্রে এবং প্রিয় নবিজী (দ) ও আহলে বাইতদের মর্যাদা রক্ষায় মাইজভাণ্ডার শরীফের অনন্য অবদান রয়েছে। প্রিয় নবিজী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ও বড়পীর হযরত আবদুল ক্বাদির জ্বিলানী (কঃ) এর আদর্শ অক্ষুণ্ণ রাখতে মাইজভাণ্ডার শরীফের বিশেষ ভূমিকা আমাদেরকে স্মরণ রাখতে হবে। বাগদাদ শরীফ ও মাইজভাণ্ডার শরীফ- এ দুই দরবারের মাঝে যে গভীর আত্নিক সম্পর্ক ও সংযোগ রয়েছে, তা চিরকাল অম্লান থাকবে।”

ছবি: হযরত সৈয়দ আফিফ উদ্দিন আল জ্বিলানী ও হযরত সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ আল হাসানী মাইজভাণ্ডারী

হযরত সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ আল হাসানী মাইজভাণ্ডারী বলেন, “বড়পীর হযরত আবদুল ক্বাদির জ্বিলানী (কঃ) এর সরাসরি বংশধারা থেকে মাইজভাণ্ডার শরীফ। ‘তরিকা-এ-মাইজভাণ্ডারীয়া’ একটি স্বতন্ত্র তরিকা হলেও, এ তরিকায় ক্বাদেরিয়া তরিকার বিশেষ প্রভাব রয়েছে। আমাদের উদ্দেশ্য বিশ্বের সর্বত্র প্রিয় নবিজী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর আদর্শ প্রতিষ্ঠিত করা। এ দুই মহান দরবার, সমাজে সাম্য, মানবতা ও ভাতৃত্বের বার্তা ছড়িয়ে দিচ্ছে। ইসলামের প্রচার প্রসারে, প্রকৃত আক্বিদা প্রতিষ্ঠায় অগ্রণী ভূমিকা রেখে আসছে। সুফিদের দরবারগুলো সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিরও উজ্জ্বল উদাহরণ। বর্তমান অশান্ত সময়ে, শান্তি ও স্থিতিশীলতা আনতে বড়পীর হযরত আবদুল ক্বাদির জ্বিলানী (কঃ), গাউসুল আযম হযরত সৈয়দ আহমদউল্লাহ্ মাইজভাণ্ডারী (কঃ), গাউসুল আযম হযরত সৈয়দ গোলামুর রহমান বাবাভাণ্ডারী (কঃ) সহ মাইজভাণ্ডারী সুফি সাধকদের জীবনাদর্শ তরুণ প্রজন্মের মাঝে তুলে ধরা প্রয়োজন।”

তারা দুজনই ফিলিস্তিনে চলমান হত্যাযজ্ঞের জন্য গভীর উদ্বেগ ও নিন্দা জানান৷ তারা বলেন, “মুসলিমদের অনৈক্যের কারণেই আজ দেশে দেশে মুসলিমরা নির্যাতিত। যুদ্ধবিরতি বা মানবিক সহায়তাও নিশ্চিত করতে পারেনি আরব বিশ্ব। এটি অত্যন্ত হতাশাজনক। বিশ্বের সুফিদের সাথে আমাদের যে যোগাযোগ রয়েছে, তার ওপর ভিত্তি করে আমরা একটি বৃহত্তর প্লাটফর্ম গড়ে তুলতে চাই, যেখান থেকে আমরা মুসলিমদের স্বার্থ নিশ্চিতে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সরব ভূমিকা রাখতে পারবো।”

এ সময় উপস্থিত ছিলেন, শাহজাদা আব্দুর রহমান আল জিলানী, পিএইচপি ফ্যামিলির চেয়ারম্যান আলহাজ্ব সুফি মিজানুর রহমান ইছাপুরী মাইজভাণ্ডারী, ব্রাজিল এর নাগরিক সদ্য ইসলাম ধর্ম গ্রহনকারী মোহামমদ ইউসুফ সহ আরও অনেকে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button

You cannot copy content of this page