সারাদেশ

মাইজভান্ডার শরীফ বিশ্বব্যাপী সুফিবাদকে প্রসারিত ও সুদৃঢ় করতে ব্যাপক অবদান রাখছে : ড. সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ মাইজভাণ্ডারী

নিজস্ব প্রতিনিধি:

মাইজভান্ডার দরবার শরীফের প্রাণপুরুষ আধ্যাত্মিক সাধক হযরত গাউছুল আজম মাওলানা সৈয়দ গোলামুর রহমান প্রকাশ বাবা ভান্ডারীর (ক:)’র ৮৮তম ৩দিন ব্যাপী ওরশ শরীফ অনুষ্ঠিত হয়েছে। আনজুমানে রহমানিয়া মইনীয়া মাইজভান্ডারীয়ার উদ্যোগে লাখো ভক্ত-জনতার অংশগ্রহণে ও দেশবাসীর ওপর আল্লাহর রহমত ও নিপীড়িত মানবতার মুক্তির কামনায় আখেরি মুনাজাতের মাধ্যমে ওরশ শরীফ সম্পন্ন হয়।

শুক্রবার (৫ এপ্রিল) ২২ চৈত্র চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি মাইজভান্ডার দরবার শরীফে ৮৮তম ওরশ শরীফের আখেরী মুনাজাত পরিচালনা করেন, মাইজভান্ডার দরবার শরীফের বর্তমান ইমাম ও বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টি (বিএসপি) চেয়ারম্যান হযরত শাহসূফী ড. সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ আল হাসানী মাইজভাণ্ডারী। আগত ভক্ত ও আশেকানরা মাইজভান্ডার দরবারে এসে সারিবদ্ধভাবে দরবারের আওলাদে পাকগণের সাথে সাক্ষাত করেন। ভক্তরা মাইজভান্ডার শরীফের সকল রওজায় জেয়ারতের মাধ্যমে নিজ নিজ মনোবাসনা পূরনের জন্য কোরআন তেলোয়াত, জিকির আজকার করে মহান রাব্বুল আলামীনের দরবারে ফরিয়াদে মশগুল ছিলেন।

৮৮ তম ওরশ শরীফ উপলক্ষে আয়োজিত মাহফিলে আখেরি মুনাজাতের পূর্বে সভাপতির বক্তব্যে হযরত শাহসূফী ড. সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ আল হাসানী ওয়াল হোসাইনী আল মাইজভাণ্ডারী বলেছেন, যারা আল্লাহর অনুগ্রহশীল বান্দা তাদের কাছেই আল্লাহর রহমত রয়েছে। আউলিয়া কেরামের দরবারই হচ্ছে আল্লাহর কাছে আসার উৎস। এ দরবারে বিভিন্ন ধর্মের মানুষ এসে নিজেদের আত্মার প্রশান্তি পেত। পাশাপাশি তারা ইসলামের আলো ও কালেমার দাওয়াতে আলোকিত হয়েছেন। মূল কথা হচ্ছে খারাপ মানুষদের ভালো করাই আল্লাহওয়ালাদের কাজ। সেই চর্চাই মাইজভাণ্ডার দরবার শরিফে অব্যাহত রয়েছে। হযরত গাউছুল আজম শাহসুফি সৈয়দ গোলামুর রহমান বাবাভান্ডারী (ক.) মানব হৃদয়ে নৈতিকতার জাগরণ, মানুষে-মানুষে ঐক্য-সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন গড়ার দিক নির্দেশনাই দিয়ে গেছেন। তিনি আরো বলেন, সুফিবাদের মাধ্যমে ইসলামকে ছড়িয়ে দেওয়াই মাইজভাণ্ডার শরিফের মূল উদ্দেশ্য। সুফিজমই হচ্ছে আসল ইসলাম যারা মানুষের ক্ষতি করে না। সব সময়ই কল্যাণ চিন্তা করে। কারণ ইসলাম হচ্ছে শান্তি, কল্যাণ ও সম্প্রীতির ধর্ম। সে ধারাতেই মাইজভাণ্ডার দরবার শরিফ যুগ যুগ ধরে পরিচালিত হচ্ছে। সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে ও পৃথিবীর সব মানুষের কল্যাণে কাজ করে চলেছে সুফিবাদ। শান্তি ও মানবতার ধর্ম ইসলামের মূল ভিত্তিই হচ্ছে সুফিবাদ। মাইজভান্ডার দরবার শরিফ বিশ্বব্যাপী সুফিবাদকে প্রসারিত এবং সুদৃঢ় করতে ব্যাপক অবদান রাখছে।

মাইজভান্ডার দরবার শরিফ মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের শক্তি হিসেবে কাজ করে আসছে মন্তব্য করে সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ বলেন, এ দরবার সব সময়ই মজলুমের পক্ষে ছিল। ব্রিটিশ আমল থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত এ বাংলার মানুষের পাশেই ছিল মাইজভাণ্ডার দরবার শরিফ। বাংলার মানুষের গ্রহণযোগ্যতাকে গুরুত্ব দিয়ে দরবারের অনুষ্ঠানের যে সূচি আছে তা বাংলা তারিখ প্রাধান্য দিয়ে বানানো হয়েছে। এর মাধ্যমেই বাংলাভাষার স্বীকৃতিকে আরও প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করা হয়েছে। তিনি আজকের সহিংস অশান্ত বিশ্বে শান্তি ও জননিরাপত্তা ফিরিয়ে আনতে হযরত বাবাভাণ্ডারী (ক.) ও মাইজভাণ্ডারী মহাত্মাদের প্রদর্শিত বিশ্বশান্তির রূপরেখা অনুসরণের আহ্বান জানান।

এ সময় তিনি বক্তব্যে ফিলিস্তিনে বর্তমান ইসরাইলি হামলা প্রসঙ্গ টেনে বলেন, অবৈধ দখলদার দস্যু ইসরাইলি বাহিনী ১৯৪৮ সাল থেকেই ফিলিস্তিনের মুসলমানদের আবাসন ভূমি জবর দখল করে তাদের ওপর ব্যাপকভাবে জুলুম-নির্যাতন ও দখলদারিত্ব চালিয়ে আসছে। দীর্ঘ ৭৫ বছর ধরে ইসরাইলিরা ফিলিস্তিনে বর্বর গণহত্যা ও সন্ত্রাস চালাচ্ছে। ফিলিস্তিনের নিরীহ জনগণের ওপর এভাবে অব্যাহতভাবে হামলা চালিয়ে বর্তমান ইসরাইলি সরকার মধ্যপ্রাচ্যের নব্য সন্ত্রাসবাদী হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। সন্ত্রাসী ইসরাইলি হামলা বিশ্বের মুসলমানদের ঐক্যবদ্ধভাবে রুখে দিতে হবে।

তিনি বলেন, যে ধর্মেরই হোক না কেন আমরা সবসময় সব ধরনের নারী ও শিশু হত্যার বিরুদ্ধে।

বিএসপি চেয়ারম্যান বলেন, জাতিসঙ্ঘসহ সব আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করে ইসরাইলিরা অব্যাহতভাবে আন্তর্জাতিক আইনকানুন, রীতিনীতি ও মানবাধিকার লঙ্ঘন করে আসছে। বিশ্বের বিভিন্ন গণতান্ত্রিক দেশ এবং জাতিসঙ্ঘ দখলদার ইসরাইলি বাহিনীর আগ্রাসন থামাতে বারবার ব্যর্থতার পরিচয় দিয়ে যাচ্ছে। বর্তমানে বিশ্ববাসীর কাছে এ কথা দিবালোকের মতো স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে যে, স্বাধীন-সার্বভৌম ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা ছাড়া ফিলিস্তিন সমস্যার কোনো সমাধান হবে না। তাই ফিলিস্তিনকে একটি স্বাধীন-সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ীভাবে শান্তি প্রতিষ্ঠায় কার্যকর ভূমিকা পালন করার জন্য ওআইসি, জাতিসঙ্ঘ, শান্তিকামী গণতান্ত্রিক বিশ্ব ও মুসলিম দেশগুলোর প্রতি আমি উদাত্ত আহ্বান জানাচ্ছি।

ওরশ শরীফ উপলক্ষ্যে কর্মসূচীর মধ্যে ছিল বাদে ফজর রওজা শরীফে গোসল, গিলাফ ছড়ানো, পুষ্পমাল্য অর্পন, খতমে কোরআন, খতমে গাউসিয়া, মিলাদ মাহফিল, ইফতার মাহফিল, সাহরি পরিবেশন, জিকির আজকার, ভক্তদের ফ্রি চিকিৎসা ক্যাম্প, রক্তের গ্রুপ নির্ণয়, যৌতুক ও মাদকের বিরুদ্ধে গণস্বাক্ষর, বিকালে হযরত গাউছুল আজম বাবাভান্ডারীর জীবন ও দর্শনের ওপর আলোচনা, মিলাদ কিয়াম, ছেমা মাহফিল, তবারুক বিতরণ ও ভোর রাতে আখেরী মোনাজাতসহ নানা কর্মসূচি।

এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন, শাহজাদা সৈয়দ মেহবুব-এ মইনুদ্দীন আল হাসানী, শাহ্জাদা সৈয়দ মাশুক-এ-মইনুদ্দীন আল্-হাসানী, শাহ্জাদা সৈয়দ হাসনাইন-এ-মইনুদ্দীন আল্-হাসানী।

মাহফিলে হযরত বাবাভাণ্ডারীর (ক.) জীবন, কর্ম ওদর্শনের ওপর আলোচনায় অংশ নেন হযরত সৈয়দ মইনুদ্দীন আহমদ মাইজভাণ্ডারী ট্রাস্টের মহাসচিব অ্যাডভোকেট কাজী মহসীন চৌধুরী, আন্জুমানে রহমানিয়া মইনীয়া মাইজভাণ্ডারীয়ার সাধারণ সম্পাদক খলিফা শাহ মো: আলমগীর খাঁন, ঘিলাতলা দরবারশরীফের সাজ্জাদানশীন হযরত মাওলানা বাকী বিল্লাহ আল আজহারী, হযরত মাওলানা রুহুল আমীন ভূঁইয়া চাঁদপুরী, বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক মো: ইব্রাহিম মিয়া মাইজভাণ্ডারী, প্রচার সম্পাদক চৌধুরী মোঃ হোসেন, অধ্যক্ষ আল্লামা গোলাম মুহাম্মদ খান সিরাজী, আমতল সিদ্দিকীয়া মইনীয়া সুন্নীয়া দাখিল মাদ্রাসার সুপার মাওলানা বাকের আনসারী, মুফতী মাওলানা মাকসুদুর রহমান, খলিফা মাওলানা হাসান মাইজভাণ্ডারী, হাফেজ খাজা বাহাউদ্দীন মাইজভাণ্ডারী, শায়ের মাওলানা মনছুর আলী মাইজভান্ডারী, হাফেজ মাওলানা কেরামত আলী মাইজভান্ডারী প্রমুখ।

সালাত সালাম শেষে দুর্দশাগ্রস্ত মানুষের মুক্তি এবং দেশ ও বিশ্ববাসীর ওপর আল্লাহর রহমত কামনায় আখেরি মুনাজাত পরিচালনা করেন শাহ্সূফী মাওলানা সাইয়্যিদ সাইফুদ্দীন আহমদ আল্-হাসানী ওয়াল হোসাইনী (মা.জি.আ.)।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button

You cannot copy content of this page