সারাদেশ

“আল্লাহর প্রতি অটল বিশ্বাস ও নবীপ্রেমই হল ঐতিহাসিক বদর যুদ্ধের শিক্ষা” – সাইয়্যিদ সাইফুদ্দীন আহমদ

নিজস্ব প্রতিনিধি:

মাইজভাণ্ডার শরীফে আজ (৮ এপ্রিল) মহান ১৭ই রমজান ঐতিহাসিক বদর দিবস। ইমামুল আউলিয়া হুযুর গাউসুল আযম হযরত সাইয়্যিদ গোলামুর রহমান বাবাভাণ্ডারী (কঃ) এর পবিত্র চাহরাম শরীফ ও শায়খুল ইসলাম, ইমামে আহলে সুন্নাত, হুযুর গাউসুল ওয়ারা হযরাতুলহাজ্ব আল্লামা শাহ্সুফি সাইয়্যিদ মইনুদ্দীন আহমদ আল হাসানী মাইজভাণ্ডারী (কঃ) এর চন্দ্রবার্ষিক ওরশ শরীফ উপলক্ষ্যে আলোচনা সভা এবং ইফতার ও মিলাদ মাহ্ফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সাইয়্যিদ সাইফুদ্দীন আহমদ আল হাসানী মাইজভাণ্ডারী বলেন, “বদর যুদ্ধ ইসলামের ইতিহাসে প্রথম যুদ্ধ। তখন খুব অল্প মানুষ ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন। বিশাল কাফির বাহিনী আক্রমণ করলে, ইসলাম রক্ষার জন্য যুদ্ধ করতে বাধ্য হন প্রিয় নবিজী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)। কিন্তু এ ছিলো এক অসম যুদ্ধ। কারণ কাফিররা ছিলো তৎকালীন আধুনিক সব অস্ত্রে সজ্জিত, তাদের সংখ্যা ছিল মুসলমানদের ৩গুণেরও বেশি। অপরদিকে মুসলিমদের হাতে গোনা কয়েকজনই অভিজ্ঞ ছিলেন। যুদ্ধাস্ত্র একেবারেই কম ছিলো। কিন্তু প্রিয় নবিজী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যখন তাদেরকে ডাক দিয়েছেন, যে যার মত যুদ্ধের ময়দানে হাজির হয়েছেন। নিশ্চিত মৃত্যুর মত পরিস্থিতিতেও তারা প্রিয় নবিজী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর প্রতি অগাধ ভালোবাসা, আনুগত্যের জন্যই নিজেদের প্রাণোৎসর্গ করতে দ্বিধাবোধ করেন নি। যুদ্ধে আল্লাহর রাসুল, প্রিয় নবিজী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর নেতৃত্বে মাত্র ৩১৩ জন সাহাবী (রাঃ) এর মুসলিম দলের সাথে ১০০০ এর বেশি প্রশিক্ষিত ও আধুনিক যুদ্ধাস্ত্রে সজ্জিত কাফির বাহিনী শোচনীয় পরাজয় বরণ করে। মহান আল্লাহ্ এ যুদ্ধে ফেরেশতা পাঠিয়ে মুসলিম বাহিনীকে সহযোগিতা করেন। বদর যুদ্ধের তাৎপর্য অবর্ণনীয়। এ বিজয় মুসলমানদেরকে আরো আত্নবিশ্বাসী করে তোলে এবং এরই ধারাবাহিকতায় ইসলাম প্রচার প্রসারের পথ আরো প্রশস্ত হতে থাকে। বদর যুদ্ধ প্রমাণ করে যে, মহান আল্লাহর প্রতি আস্থা রাখলে এবং প্রিয় নবিজী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর ভালোবাসায় জীবন উৎসর্গ করার প্রত্যয় থাকলে মহান আল্লাহর সদয় দৃষ্টি, সন্তুষ্টি জারি থাকবে। আমাদেরকে ঐতিহাসিক বদর দিবসে এ শিক্ষা জীবনে বাস্তবায়ন করতে হবে৷”

সাইয়্যিদ সাইফুদ্দীন আহমদ আল হাসানী মাইজভাণ্ডারী তিনি বলেন,”১৪৩২ হিজরীর মহান ১৭ই রমজান মহান আল্লাহর সান্নিধ্যে গমন করেন, কোটি আশেকানের প্রাণস্পন্দন, হুযুর গাউসুল ওয়ারা হযরাতুলহাজ্ব আল্লামা শাহ্সুফি সাইয়্যিদ মইনুদ্দীন আহমদ আল হাসানী মাইজভাণ্ডারী (কঃ)। তিনি ছিলেন বাবাভাণ্ডারী ক্বেবলা ক্বাবা (কঃ) এর প্রতিচ্ছবি। তিনি তার দাদাজান গাউসুল আযম হযরত সাইয়্যিদ গোলামুর রহমান বাবাভাণ্ডারী (কঃ) এর সুযোগ্য উত্তরসূরী হিসেবে ‘তরিকা-এ-মাইজভাণ্ডারীয়া’কে বিশ্বজুড়ে পরিচিত করেছেন। গাউসুল আযম বাবাভাণ্ডারী (কঃ) এ তরিকাকে পূর্ণতা দান করেছেন আর শায়খুল ইসলাম, বাবা মইনুদ্দীন আহমদ মাইজভাণ্ডারী (কঃ) এ তরিকাকে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দিয়েছেন। জাতিসংঘ, ইউনেস্কোসহ বিশ্বের প্রতিটি মহাদেশে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্লাটফর্মে তিনি ইসলাম, সুফিবাদ প্রচারের পাশাপাশি ‘তরিকা-এ-মাইজভাণ্ডারীয়া’ এর মহৎ দর্শন তুলে ধরেছেন। শুধু তাই নয়, তিনি বিশ্বের দরবারে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা হাতে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। অনেকে তার মাধ্যমে বাংলাদেশকে চিনেছেন।

সাইয়্যিদ সাইফুদ্দীন আহমদ আল হাসানী মাইজভাণ্ডারী আরও বলেন, তিনি আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াত, বাংলাদেশের সর্বপ্রথম এবং নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট। তার দূরদর্শীতা এবং যোগ্যতার গুণে তিনি আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াতের বৃহত্তর ঐক্য গড়ে তুলেছিলেন৷ তিনি বাংলাদেশে পবিত্র ঈদ-এ-মিলাদুন্নবী (দ), শাহাদাত-এ-কারবালা মাহ্ফিল প্রতিষ্ঠায় অগ্রণী ভূমিকা রেখেছেন। যা আজ বিশ্বজুড়ে আরও শান মর্যাদার সাথে উদযাপিত হচ্ছে। ১৯৯৭ সালে যুক্তরাষ্ট্রের বিখ্যাত আন্তর্জাতিক সুফি সংগঠন ‘ইন্টারন্যাশনাল এসোসিয়েশন অব সুফিজম’ ইসলামের জন্য তার ব্যাপক অবদানের জন্য ‘শায়খুল ইসলাম’ উপাধিতে ভূষিত করে। ২০০০ সালে তিনি জাতিসংঘে বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় ‘মদীনা সনদ’ তথা প্রিয় নবিজী (দ) এর সুমহান আদর্শের গুরুত্ব তাৎপর্য আলোচনা করেন। যা বিশ্বের বিখ্যাত গবেষক, শীর্ষ নেতৃবৃন্দ সমর্থন করেন। তিনি জাতিসংঘ সদর দপ্তরে মিলাদে মুস্তফা (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) পাঠ করে ইতিহাসের পাতায় চিরস্মরণীয় হয়ে আছেন। একই বছর তিনি উজবেকিস্তানে ইউনেস্কো আয়োজিত সুফিবাদ বিষয়ক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে ‘তরিকা-এ-মাইজভাণ্ডারীয়া’ এর সাম্য, মানবপ্রেম, অসাম্প্রদায়িক চেতনা তুলে ধরেন। এসময় তাসখন্দ ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয় তাকে বিশেষ সম্মাননা ও সংবর্ধনা দিয়েছিলো। ২০০৫ সালে ঘানা সরকার ও ‘ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক সেন্টার’ তাকে ‘বিশ্বশান্তির দূত’ উপাধিতে ভূষিত করে ও বিশেষ সংবর্ধনা প্রদান করে। তিনি আজীবন ‘ইন্টারন্যাশনাল এসোসিয়েশন অব সুফিজম’ এর সম্মানিত উপদেষ্টার দায়িত্ব পালন করেছেন। আবার দেশের কোণে কোণে সফর করেও তিনি দ্বীনের খেদমতে নিরলসভাবে কাজ করেছেন। ভালোবাসার মাধ্যমে তিনি মানুষের অন্তরকে জয় করেছেন বলেই তিনি লক্ষ কোটি আশেকের অন্তরে সদা বিরাজমান সত্তা। ইউরোপ, আমেরিকা, আফ্রিকার অগণিত মানুষ তার হাতে হাত রেখে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন। এভাবে তিনি ইসলাম, সুফিবাদ ও ‘তরিকা-এ-মাইজভাণ্ডারীয়া’র প্রচার প্রসারে অনন্যসাধারণ অবদান রেখেছেন। আমরা তার অবদানকে গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছি।”

বিশেষ অতিথি হিসেবে অংশগ্রহণ করেন, আওলাদ-এ-রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম), শাহ্জাদা সাইয়্যিদ মাশুক-এ-মইনুদ্দীন আল হাসানী মাইজভাণ্ডারী, ফরহাদাবাদ দরবার শরীফের নায়েবে সাজ্জাদানশীন, শাহাজাদা সৈয়দ মুহাম্মদ ফখরুল আবেদীন রায়হান, অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ, নোয়াখালী, শাহজাদা সৈয়দ ফয়জুল আবেদীন আরমান, ঈসাপুর দরবার শরীফের সাজ্জাদানশীন, সৈয়দ এহসানুল করিম ঈসাপুরী মাইজভাণ্ডারী।

দোজাহানের বাদশাহ্ হুযুরপুর নূর, আহমদ মুজতবা, মুহাম্মদ মুস্তফা, প্রিয় নবিজী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এবং সম্মানিত আহলে বাইতে রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) গণের প্রতি সশ্রদ্ধ সালাতু সালাম নিবেদন শেষে মাহ্ফিলের সমাপনী মুনাজাতে বিশ্ববাসীর কল্যাণে প্রার্থণা করেন শাহ্সুফি সাইয়্যিদ সাইফুদ্দীন আহমদ আল হাসানী ওয়াল হোসাইনী মাইজভাণ্ডারী।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button

You cannot copy content of this page