ফিচারলিড নিউজ

শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদীনের জন্মদিন আজ

সিথি রানী সাহা, খুবি প্রতিনিধি:

মায়ের গলার হার বিক্রি করে আর্ট স্কুলে ভর্তি হওয়া ছেলেটা “শিল্পাচার্য” উপাধি পাবে কে জানতো? বলছি চিএশিল্পী জয়নুল আবেদীনের কথা।

আজ বিংশ শতাব্দীর বিখ্যাত বাঙ্গালী চিত্রশিল্পী জয়নুল আবেদীনের ১০৯ তম জন্মদিন। আজকের এই দিনে তৎকালীন ময়মনসিংহ জেলার কিশোরগঞ্জ মহাকুমার (বর্তমান কিশোরগঞ্জ জেলা) কেন্দুয়াতে দারোগা তমিজউদ্দিন আহমেদ ও গৃহিণী জয়বুন্নেসার পরিবারের কোল আলো করে জন্মগ্রহণ করেন তিনি।

ছোট থেকে আঁকিবুঁকি পছন্দ ছিল জয়নুলের। ইচ্ছা হলো আর্ট কলেজে পড়ার। একবার আর্ট কলেজ দেখার জন্য বাড়ি থেকে পালিয়ে কলকাতায় চলে গেলেন, সেখানে দুটো কমলা নিয়ে দরকষাকষির জেরে চড় খাওয়ার নজির আছে তার জীবনে। কিন্তু জয়নুলের জেদ সে আর্ট স্কুলেই পড়বে, অবশেষে মায়ের গলার হার বিক্রি করে পড়াতে পাঠালেন আর্ট স্কুলে। ১৯৬৮ সালে জয়নুল ঢাকা আর্ট কলেজের ছাত্রদের তরফ থেকে পান ‘শিল্পার্চায’ উপাধী।

জয়নুল ছিলেন মানবতার শিল্পী তার শিল্পকর্মে স্থান পেয়েছে সমাজে অবহেলিত চাষী, মজুর, জেলে, মাঝি, সাঁওতালকন্যা বেদেনী, মা প্রমুখ। তারই প্রতিচ্ছবি হিসেবে অঙ্কন করেছে ১৯৪৩ সালে বাংলার দুর্ভিক্ষপীড়িত মানুষের সকরুণ চিত্র যা বিশ্ববাসীর বিবেককে নাড়িয়ে দেয়া চরিত্রকে উপজীব্য করে সৃষ্টি করেছেন কালজয়ী চিত্রকর্ম দুর্ভিক্ষ- চিত্রমালা, জলোচ্ছ্বাস, ১৯৫১ সালে পূর্ব পাকিস্তানে অর্থনৈতিক শাসন ও উপনিবেশবাদীদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ স্বরূপ জলরঙে রূপ দিয়েছিলেন “বিদ্রোহী” চিত্রকর্মটিতে।

তাছাড়া রয়েছে ম্যাডোনা-১৩৫০, মইটানা, গুনটানা, ঝড়, কাক, মাছ ধরে ঘরে ফেরার মত ছবি। ১৯৭০ সালে আঁকেন গ্রাম বাংলার উৎসব বিখ্যাত ৬৫ ফুট দীর্ঘ ছবি ‘‘নবান্ন’’। তার আঁকা শেষ ছবি ছিলো- “দুই মুখ”। এই শিল্পাচার্য তার চিত্রশিল্পের মাধ্যমে সামাজিক, সাংস্কৃতিক, বাংলার সংগ্রামী বিষয়গুলো সুনিপুণভাবে ফুটিয়ে তুলতেন। এই মুকুটহীন সম্রাটের অংকন ভবিষ্যৎ পরিবর্তন গুলির জন্য একটি অনুমান ও আলোচনা ছিল যা মানুষের মাঝে সচেতনতা ও উৎসাহ সৃষ্টি করেছিল।

চিত্রকর্মের পাশাপাশি গুণীজনের অনেক অবদান রয়েছে প্রতিষ্ঠা করেছে ঢাকা আর্ট কলেজ (বর্তমান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউট) এবং সোনারগাঁয়ে লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশন যা লোক ও কারুশিল্প নামে পরিচিত। ১৯৩৮ সালে জাতীয় চিত্র প্রদর্শনীতে ছয়টি জলরং ছবির জন্য তিনি অর্জন করেছে গভর্নরের স্বর্ণপদক।চিত্রাঙ্কনে উল্লেখযোগ্য অবদানের জন্য ১৯৫৮ সালে পাকিস্তান সরকার কর্তৃক প্রাইড অফ পারফরম্যান্স পুরস্কার প্রদান করেন এবং বাংলাদেশ সরকার তাকে স্বাধীনতা পুরস্কার প্রদান করেন।

জয়নুল আবেদীনের জন্মদিনের তার সৃষ্টিশীল কার্যের স্মৃতিতে সালাম। আমরা তার প্রতি শ্রদ্ধা ও সম্মান জানাই। তিনি আমাদের অহংকার, শিল্প-সংস্কৃতির অহংকার।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button

You cannot copy content of this page