জাতীয়

ঈদ-উল-আযহার ছুটিতে সদরঘাটে বেড়েছে ঘরমুখো মানুষের ভীর

জবি প্রতিনিধি:

পরিবারের সাথে ঈদুল আযহা উদযাপনের জন্য রাজধানী ঢাকা ছাড়তে শুরু করেছে ঘরমুখো মানুষ। সড়ক ও রেলপথের পাশাপাশি নৌপথেও বাড়ি ফিরছে মানুষ। পদ্মাসেতু চালু হওয়ার পর পূর্বের মতো যাত্রীর ভীড় না থাকলেও ঈদে ঘরমুখো মানুষের চাপ বাড়তে থাকে নদীবন্দরগুলোতে। শুক্রবার ছুটির দিনে দেশের প্রধান নদীবন্দর সদরঘাটেও ছিল ঘরমুখো মানুষের সরব উপস্থিতি। ছুটির দিনে যাত্রীর চাপ বাড়লেও স্বস্তি নিয়েই ঘরে ফিরেছে ঘরমুখো মানুষ।

গতকাল (২৩ জুন) বিকেলে রাজধানীর সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল এলাকা ঘুরে দেখা যায়, পুরো টার্মিনাল এলাকাজুড়ে যাত্রীদের সরব উপস্থিতি। অনেকটা যাত্রীবোঝাই করে দক্ষিণাঞ্চলের লঞ্চগুলো ঘাট ছেড়ে গেছে। পূর্বের মতো ভোগান্তি না থাকায় ঈদ আনন্দ ভাগাভাগি করতে অনেকটা স্বস্তি নিয়েই ঘরমুখো মানুষ গ্রামে যাচ্ছেন।

নাড়ির টানে বাড়ি ফেরা দক্ষিণের জেলাগুলোর মানুষকে পৌঁছে দিতে নির্দিষ্ট সময়েই লঞ্চগুলো ঘাট ছেড়ে যাচ্ছে। অথচ কিছু দিন আগেও যাত্রীর অভাবে নির্দিষ্ট সময়ে লঞ্চ ছাড়ত না। সেখানে এখন লঞ্চগুলো সন্তোষজনক সংখ্যক যাত্রী নিয়েই ঘাট ছাড়ছে। বৃহস্পতিবার থেকেই ঈদ উপলক্ষে সদরঘাটে ঘরমুখো মানুষের চাপ বাড়লেও শুক্রবার এই চাপ আরও বেড়েছে।

বিআইডব্লিওটিএ সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার ঢাকা নদী বন্দর থেকে ঢাকা-বরিশাল রুটে ৩ টি, ঢাকা হাতিয়া রুটে ২ টি, ঢাকা-ভোলা রুটে ২টি সহ দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন রুটে ৬৫ টি লঞ্চ ছেড়ে যাবে।

তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঈদ উপলক্ষে স্কুল-কলেজ ছুটি হয়ে যাওয়ায় বৃহস্পতিবার থেকে যাত্রীর সংখ্যা স্বাভাবিকের চেয়ে কিছুটা বেড়েছে। গার্মেন্টস ছুটি হয়ে গেলে লঞ্চে যাত্রীর চাপ বাড়বে বলে আশা করছেন লঞ্চ মালিকরা।

এদিকে ঈদ উপলক্ষে অগ্রিম টিকিট বিক্রিও অনেকটা শেষের পথে। কোনো কোনো রুটে ২৯ জুন পর্যন্ত কেবিনের অগ্রিম টিকিট শেষ হয়ে গেছে। তবে ঢাকা-বরিশাল রুটে অগ্রিম টিকিট বিক্রির হার কিছুটা কম। যাত্রী টানতে গত ঈদের মতো এবারও ভাড়ায় কিছুটা ছাড় দিচ্ছেন মালিকরা। রুট ভেদে ডেকের ভাড়ায় ৫০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত এবং কেবিনের ভাড়ায় টাকা পর্যন্তও কম ভাড়া নেওয়া হচ্ছে।

ঢাকা-বরিশাল রুটে চলাচলকারী এমভি মানামীর টিকিট বিক্রেতা জামাল উদ্দিন বলেন, ভাড়া কিছুটা কম রাখা হচ্ছে। ডেকে ৩০০ টাকা, সিংগেল কেবিন ১০০০ আর ডাবল ২০০০ করে। যাত্রী আগের চেয়ে কিছুটা বেড়েছে। গার্মেন্টস ছুটি হলে আরও বাড়বে। তবে এই রুটে যাত্রীর সংখ্যা অন্যান্য রুটের চেয়ে কিছুটা কম। আমাদের অগ্রিম টিকিটও কিছু বিক্রি হয়েছে।

ঢাকা-চরফ্যাশন (ভোলা) রুটে চলাচলকারী এমভি টিপু-১৩ এর সুপার ভাইজার সোহাগ মাহবুব বলেন, ‘আজ তুলনামূলক যাত্রীর চাপ একটু বেশি। ডেক-কেবিনের টিকিট প্রায় সব বিক্রি হয়েছে। সোমবার-মঙ্গলবার থেকে যাত্রীর চাপ আরও বাড়বে। আমাদের কেবিনের অগ্রিম টিকিট বিক্রিও প্রায় অনেকটাই শেষ। কিছু টিকিট বাকি আছে।

এদিকে আগের চেয়ে ভোগান্তি কম হওয়ায় স্বস্তিতে বাড়ি ফিরছেন যাত্রীরা। টার্মিনাল এলাকায় ভীড় অনেকটা কমে যাওয়ায় ও টিকিট প্রাপ্তি সহজ হয়ে যাওয়ায় ভোগান্তি কমেছে বলে জানিয়েছেন ঘরমুখো যাত্রীরা।

বরিশাল গামী যাত্রী আব্দুল হান্নান বলেন, ‘আগে অনেক ঝামেলা হতো বাড়ি যেতে। টিকিট পাওয়া যেতোনা। এখন আগের চেয়ে ভোগান্তি কম। আজ এসেই টিকিট পেলাম। পরিবার নিয়ে বাড়ি যাচ্ছি। ঈদুল ফিতরে বাড়ি যেতে পারিনাই। তাই এই প্রথম ঈদে এতো শান্তিতে বাড়ি যাচ্ছি।’

মিরপুর থেকে আসা ভোলা গামী যাত্রী রাবেয়া বেগম বলেন, আগে ঈদে টার্মিনালেই ঢোকা যেতো না ভীড়ের কারণে। এখন আর তেমন অবস্থা নেই। অনেকটা স্বস্তি নিয়েই পরিবারের সাথে ঈদের ছুটি কাটাতে বাড়ি যাচ্ছি। ভাড়াও বাড়ানো হয়নি। তাই আগের চেয়ে ভোগান্তি কমেছে।

লঞ্চ মালিক সমিতির মহাসচিব শহিদুল হক ভূঁইয়া বলেন, কিছু রুটে অগ্রিম টিকিট অনেকটাই বিক্রি হয়েছে। বরিশালসহ কয়েকটি যাত্রী অনেক কম। আমরা সরকার নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে কিছুটা কম নিচ্ছি। ঈদের আগে শেষ দুই-তিন দিন যাত্রী বেশি হবে বলে আশা করছি।

বিষয়ে নৌ-নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা বিভাগের ঢাকা নদী বন্দরের যুগ্ম পরিচালক কবির হোসেন বলেন, স্কুল-কলেজ ছুটি হওয়ায় যাত্রী কিছুটা বেড়েছে। শুক্রবার হওয়ায় আজ যাত্রী একটু বেশি। বিভিন্ন রুটে ৬৫টি লঞ্চ আজ ঢাকা নদী বন্দর ছেড়ে যাবে। গার্মেন্টস ছুটি হলে তখন যাত্রীর চাপ আরও বাড়বে। যাত্রী সেবায় আমাদের সবধরণের প্রস্তুতি নেয়া আছে। যাত্রীর সংখ্যা বাড়লে লঞ্চও বাড়ানো হবে।

নিরাপত্তার বিষয়ে সদরঘাট নৌ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শফিকুর রহমান খান বলেন, ‘ঈদযাত্রায় যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। বিশেষ ফোর্সের ব্যবস্থাও আছে। এছাড়াও পুলিশ, নৌ পুলিশের পাশাপাশি লঞ্চ টার্মিনাল এলাকায় র‍্যাবের একটি টিম আলাদাভাবে কাজ কছে। আনসার সদস্যরাও কাজ করছে। যাত্রীরা যাতে নিরাপদে বাড়ি ফিরতে পারে সেজন্য আমরা কাজ করছি।’

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button

You cannot copy content of this page