ক্যাম্পাসলিড নিউজ

সবুজে ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে সমৃদ্ধ খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের লেক

সমাপ্তি দাস, খুবি প্রতিনিধি:

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়াকওয়ে যেন নিজের প্রাণ ফিরে পেয়েছে। চারদিকে সবুজ বৃক্ষরাজি আর গাছে গাছে উড়ছে পাখি। কৃষ্ণচূড়া ফুলের রঙে রাঙিন হয়েছে চারপাশ। পাখিদের ছুটে চলা আর কিচিরমিচির শব্দে প্রাণ জুড়িয়ে যায়। এ যেন প্রকৃতির এক অপরূপ লীলাভূমি।

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় (খুবি ) ক্যাম্পাসের সৌন্দর্য বৃদ্ধি এবং শিক্ষার্থীদের সহজে যাতায়াতের জন্য লেকসাইড ওয়াকওয়ে নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় ৪ নভেম্বর ২০১৯।

তৎকালীন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ ফায়েক উজ্জামান প্রস্তাবিত ওয়াকওয়ের স্থান পরিদর্শন করেন এবং এর নকশা ও বিন্যাস দেখেন।
তিনি বলেন, লেকসাইডের সৌন্দর্য এবং চারপাশের গাছ ক্যাম্পাসটিকে আরও নজরকাড়া করে তুলবে।

প্রস্তাবিত পরিদর্শনে উপাচার্যের সঙ্গে ছিলেন ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার প্রফেসর খান গোলাম কুদ্দুস, ক্যাম্পাস বিউটিফিকেশন প্রজেক্টের সভাপতি প্রফেসর ডক্টর মনিরুল ইসলাম, স্টুডেন্ট অ্যাফেয়ার্স ডিরেক্টর প্রফেসর শরীফ হাসান মিলন, প্রফেসর ড.শেখ সিরাজুল হাকিম, প্রধান প্রকৌশলী আব্দুর রাজ্জাক প্রমুখ।

নতুন করে ওয়াকওয়েতে একটি কফি শপ স্থাপন করা হয়েছে। সেখানে রঙ চা, দুধ চা, কোল্ড কফি, ব্ল্যাক কফি, নুডলস ইত্যাদি পাওয়া যায়। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, শিক্ষক ছাড়াও বহিরাগতরা এখান থেকে তাদের পছন্দমত খাবার খেতে পারবেন। এছাড়াও বসার জন্য তৈরি করা হয়েছে বেশ কিছু বসার জায়গা।

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, শিক্ষক ছাড়াও বহিরাগতদের উপস্থিতিও নজরকাড়া। প্রায় প্রতিদিনই ক্যাম্পাসে বহিরাগতদের উপস্থিতি মেলে। তারা কখনো পরিবারের সাথে, বন্ধুদের সাথে আবার কখনো যুগলে ক্যাম্পাস পরিদর্শনে আসেন। ওয়াকওয়ের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ক্যাম্পাসে বার বার আসতে তাদেরকে আকৃষ্ট করে।

এছাড়াও ফটোগ্রাফার, টিকটকার এবং কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের উপস্থিতিও কিছু অংশে কম নয়। তারা বিভিন্ন ভঙ্গিতে ছবি তোলে ও ভিডিও তৈরি করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করে।

আবার দেখা যায়, সকালে এবং সন্ধায় অনেকেই এক্সারসাইজ করতে ক্যাপাসে আসে। এক্সারসাইজ করা শেষে ওয়াকওয়েতে তারা কিছুক্ষন বিশ্রাম নেওয়ার পর আবার বাসায় ফিরে যায়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ডিসিপ্লিনের এক শিক্ষার্থীর কাছে লেক সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, আমাদের ক্যাম্পাসের মধ্যে অন্যতম একটি সুন্দর স্থান হলো লেক। লেকসাইড ওয়াকওয়েতে আছে বসার সু -ব্যাবস্থা যেখানে বসে আমরা আড্ডা ও বিভিন্ন ধরনের গ্রুপের কাজ সম্পন্ন করতে পারি। লেকে রয়েছে পরিষ্কার পানি যেখানে মাছেরা খেলা করে। আছে পাখিদের কলরব ও গাছে গাছে ফুল ও ফলের সমারোহ। সব মিলিয়ে লেক সাইড ওয়াকওয়ে আমাদের ক্লান্তি দূর করার অন্যতম স্থান।

রাজিব নামের এক দর্শনার্থীর কাছে লেক সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলো, লেকে আপনারা কখন আসে? কাদের সাথে আসেন? এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের লেক সম্পর্কে আপনার বক্তব্য কি? তিনি প্রশ্নের উত্তরে বলেন, আমরা সাধারণত বিকেলের দিকে পরিবারের সাথে ঘুরতে আসি। এখানে আসলে মনটা ভালো হয়ে যায় এবং সব চিন্তা দূর হয়ে যায়। মনে হয় প্রকৃতিকে অনেক কাছ থেকে দেখতে পারছি।

রাতের দক্ষিণা হাওয়া আর বাহারি রঙের আলোয় প্রাণ জুরিয়ে যায়। একইসাথে মনকে প্রশান্ত করে লেকের পরিবেশ। বিশ্ববিদ্যালয়ের লেককে আরও‌ সৌন্দর্য মন্ডিত করার সিদ্ধান্ত চলছে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button

You cannot copy content of this page