ক্যাম্পাসলিড নিউজ

বিশ্ববিদ্যালয় দিবসে শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা

কুবি প্রতিনিধি:

আজ ২৮ মে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় দিবস। ২০০৬ সালে এই দিনে শালবন বিহারের পাদদেশে লাল-সবুজে ঘেরা মধ্য-পূর্বাঞ্চলে সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ হিসেবে যাত্রা শুরু করে। প্রথম ব্যাচে ৭টি বিভাগে ৩০০ শিক্ষার্থী ও ১৫ জন শিক্ষক দিয়ে যাত্রা শুরু করলেও এখন বিশ্ববিদ্যালয়ে ৬টি অনুষদে ১৯টি বিভাগে ৭১৩৯ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উপলক্ষ্যে প্রতিবছরের ন্যায় এবারও প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করবে বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার। এই প্রতিষ্ঠাবার্ষিকে আগামীর কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় (কুবি) শিক্ষার্থীরা প্রত্যাশা, তাদের কথা তুলে ধরেছেন হোসাইন মোহাম্মদ

বিশ্ববিদ্যালয় দিবসে নিজের অভিব্যক্তি প্রকাশ করে একাউন্টিং এন্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের ১২তম আবর্তনের শিক্ষার্থী প্রিতম সেন ডেইলি দর্পণকে বলেন, ‘আমি চাই কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় হয়ে উঠুক বাংলাদেশ ও বিশ্বের মধ্যে অন্যতম অগ্রগামী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। বিশ্ববিদ্যালয় দেড় যুগ পেরিয়ে গেলেও এখনও গুণগত মান উন্নয়ন হচ্ছে না। আগামীর কুবিতে চাই সমৃদ্ধ পাঠাগার, গবেষণাগার এবং সুন্দর একটি পরিবেশ যেখানে কুবি হয়ে উঠুক শিক্ষাচর্চা ও সংস্কৃতি চর্চার আঁতুড়ঘর।’

রসায়ন বিভাগের ১৫তম আবর্তনের শিক্ষার্থী তানজিন নিলা ডেইলি দর্পণকে বলেন, ‘আমি ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী হিসেবে এক বছরেরও বেশি সময় কাটিয়েছি এই সপ্নপূরণের ক্যাম্পাসে। পাহাড় ঘেরা পরিবেশের সাথে জারুল-কৃষ্ণচূড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সৌন্দর্যকে দিয়েছে এক অন্যন্য মাত্রা। আমি আমার বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচয়ে পরিচিত। আজ ১৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি বিভাগের সেশনজট সংক্রান্ত সমস্যা সমাধনসহ আরো শিক্ষার্থীবান্ধব যথাযথ ব্যবস্থা করবে প্রশাসন। আমরা সর্বদা একটি সুস্থ এবং নিরাপদ ক্যাম্পাস চাই, সেই সাথে দেশে বিদেশে বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম দিন দিন আরো ছড়িয়ে পড়ুক। আমি এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হতে পেরে গর্বিত। শুভ জন্মদিন কুবি।’

অর্থনীতি বিভাগের ১৬তম আবর্তনের শিক্ষার্থী ইয়াসিন আরাফাত ডেইলি দর্পণকে বলেন, ‘আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর থেকে নানা প্রতিবন্ধকতা অতিক্রম করে বতর্মানে অনেক সুনাম অর্জন করেছে। বিশ্ববিদ্যালয় যেহেতু শিক্ষার মুক্ত প্রাঙ্গণ, সেহেতু শিক্ষার্থীদের কে মুক্তভাবে শিক্ষা অর্জন করার জন্য আরো সুযোগ করে দিতে হবে। যেমন- প্রত্যেক ডিপার্টমেন্টের ল্যাবে যে কম্পিউটার রয়েছে তার সংখ্যা বাড়াতে হবে এবং যেগুলো ব্যবহারের অনুপযুক্ত সেগুলো ঠিক করে পুনরায় ব্যবহারের উপযোগী করতে হবে। প্রত্যেক ডিপার্টমেন্টে গবেষণার ব্যবস্থা করতে হবে। লাইব্রেরিতে বইয়ের সংখ্যা বাড়াতে হবে এবং নতুন নতুন বই সংগ্রহে রাখার সংখ্যা করতে হবে। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় এমন একটি বিশ্ববিদ্যালয় হবে যখন দেশের শিক্ষার্থীরা আর ঢাবিতে পড়ার স্বপ্ন দেখার আগেই কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার স্বপ্ন দেখবে। সবার আগামীর স্বপ্ন হবে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়।’

ইংরেজি বিভাগের ১৬তম আবর্তনের শিক্ষার্থী সাদিয়া আফরিন লাকী ডেইলি দর্পণকে বলেন, ‘কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় আমার কাছে একটি ভালোবাসা ও আবেগের নাম। কোন এক শীতের ঝরাপাতা হয়ে আগমন ঘটেছিল এই উন্মুক্ত প্রাঙ্গণে। খুব বেশিদিন হয়নি তাও ভালোবেসে ফেলেছি নিজের বিশ্ববিদ্যালয়কে।আমার চোখে আমার বিশ্ববিদ্যালয় আমার স্বপ্ন পূরণের স্তর। এই প্রথম বিশ্ববিদ্যালয় দিবস কাছ থেকে পালন‌ হওয়া দেখব। বিশ্ববিদ্যালয় দিবসে কুবি কে আরও শিক্ষাবান্ধব দেখতে চাই। অপ্রতিরোধ্য গতিতে এগিয়ে চলবে সব কিছুকে পার করে এটাই কামনা।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button

You cannot copy content of this page