ক্যাম্পাসলিড নিউজ

তিন মাসেরও অধিক শুন্য জাবির উপ-উপাচার্য পদ

জাবি প্রতিনিধি : জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) পদটি তিন মাস ধরে শুন্য রয়েছে। এ বছরের ১২ই আগস্ট অধ্যাপক নূরুল আলমের মেয়াদ শেষ হলে পদটি শুন্য হয়। তিনি বর্তমানে উপাচার্যের দায়িত্ব পালন করছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অফিস জানায়, এ বছরের ২রা মার্চ থেকে সাবেক উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) উপাচার্যের রুটিন দায়িত্ব পালন শুরু করেন। পরে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় আইন ১৯৭৩ এর ১১(২) ধারা অনুসারে উপ-উপাচার্য ও পদার্থবিজ্ঞানের অধ্যাপক নূরুল আলমকে উপাচার্য পদে সাময়িকভাবে নিযুক্ত করা হয়। পরবর্তীতে অধ্যাদেশের ১১(১) ধারা অনুসারে, গত ১৩ই আগস্ট প্যানেল নির্বাচনের মাধ্যমে উপাচার্যের দায়িত্ব গ্রহণ করেন অধ্যাপক নূরুল আলম।

সংশ্লিষ্টরা জানান, তিনি ২রা মার্চ থেকেই উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) ও উপাচার্যের দায়িত্ব একইসাথে পালন করছেন। এতে রেজিস্ট্রার ভবনের কার্যক্রম অনেক বেশি কেন্দ্রীভূত হয়ে পড়েছে। এ অবস্থায় নতুন উপ-উপাচার্য নিয়োগের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উদ্যোগ গ্রহণ করতে হয়।

এ ব্যাপারে উপাচার্য অধ্যাপক নূরুল আলম আজকের পত্রিকা’কে বলেন, ‘এ বিষয়ে আমি কোন মন্তব্য করবো না।’ তবে তিনি জানান, ‘একটি পদের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজ থেমে নেই। আমি দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই প্রশাসনকে গতিশীল করা হয়েছে। আশা রাখি সময়মতো যোগ্য ব্যক্তি তাঁর নিজস্ব আসন গ্রহণ করবে।’

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এই পদের জন্য এগিয়ে রয়েছে বঙ্গবন্ধু শিক্ষক পরিষদের সাবেক সভাপতি অধ্যাপক অজিত কুমার মজুমদার, সাবেক সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক বশির আহমেদ ও গাণিতিক ও পদার্থ বিষয়ক অনুষদের ডিন অধ্যাপক ফরিদ আহমদ।

এদের মধ্যে অধ্যাপক অজিত কুমার মজুমদার সর্বশেষ উপাচার্য প্যানেল নির্বাচনে তৃতীয় স্থান লাভ করেন। তিনি গাণিতিক ও পদার্থ বিষয়ক অনুষদের ডিনসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। গত ১২ অক্টোবর থেকে অবসর প্রস্তুতিমূলক ছুটিতে আছেন তিনি। এর আগে, বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩৯তম বার্ষিক সিনেট সভায় মুক্তিযোদ্ধা সম্পর্কে মন্তব্য করে বিতর্কিত হন অধ্যাপক অজিত কুমার।

অন্যদিকে অধ্যাপক বশির আহমেদ শিক্ষক সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও আইন অনুষদের ডিন ছিলেন। তিনি বিভাগীয় সভাপতি, টিএসসির পরিচালক, হল প্রভোস্টসহ বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন রাজনৈতিক সংকট নিরসনে সক্রিয় ভূমিকা রয়েছে তাঁর। বর্তমানে আওয়ামীপন্থী শিক্ষকদের একত্রিত করতে ‘বঙ্গবন্ধু শিক্ষক পরিষদ’ এর সদস্য সচিব হিসেবে কাজ করছেন।

এছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ের শীর্ষ পদটিতে আরও কয়েকজন শিক্ষকের নাম শোনা যাচ্ছে। তাঁরা হলেন, প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ মোস্তফা ফিরোজ, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক আব্দুল্লাহ হেল কাফি, পরিসংখ্যান বিভাগের অধ্যাপক মোহা. মুজিবুর রহমান, প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান প্রমুখ।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button

You cannot copy content of this page