Uncategorized

দুঃস্বপ্ন

কাজী মোখতার হোসাইন:

‘নিজের চোখে দেখলাম বাবাকে একটি বড় গাড়ী চাপা দিয়ে চলে গেলো। রক্তাক্ত পিষ্ট বাবাকে দেখে ফুপিয়ে -ফুপিয়ে কাঁদছিলাম’। শক্তহাতের উষ্ণ আলিঙ্গনে ঘুম ভাঙ্গলো। অশ্রুশিক্ত চোখে দেখি নামাজের জায়নামাজের উপর বসা বাবার বুকে আমি। বাবা আমাকে ঝাঁকুনি দিচ্ছে আর বলছে স্বপ্নে কি দেখেছো বাবা? বললাম দেখলাম বাবা তুমি এক্সিডেন্ট করেছো।

সে কি কান্না! না বাবা মরেনি বেঁচে ছিলেন আমাদের মাঝে অনেকদিন। নয় কিবা দশ বছরের বয়সের দুঃস্বপ্ন হবে এটা।

আজ বাড়ীতে এসেছি। মা এখন খুব অসুস্থ। প্রায় শয্যাশায়ী। মা-কে ঘিরে বসে থাকা ভাই বোনদের চিন্তিত মুখগুলো খুবই পীড়া দিচ্ছিলো। মা-এর কাছে গেলাম ক্লান্ত দূর্বল মুখে একচিলতে হাসি দিয়ে বললেন — বাবা এসেছো?

অনেক কষ্ট করে মাকে হেলান দিয়ে বসালাম। হঠাৎ মা আমার মুখে দুহাত ঘুরিয়ে চরম মমতায় আদর করে বুকে টেনে নিলেন। ঠিক যেমন ছোট শিশুর মতো। আমিও অনেকক্ষণ মায়ের বুকে মাথা রাখলাম। শান্ত মায়ের দু’চোখ বেয়ে অশ্রু পড়ে আমার শরীরে। বিকেলে একটু শুয়েছিলাম।

“বাড়ীর বাহিরে হাটছি রোদে শুকোতে দেওয়া নিজের অগোছালো লুঙ্গি গামছাসহ অন্যান্য জিনিসগুলো খুঁজে পাচ্ছি না। মা-এর কাছে গিয়ে জরিয়ে ধরে বললাম ‘মা তুমি না থাকলে কে এগুলো গুছাবে? মা- মা বলে জোরে জোরে কাঁদছিলাম’ বোনদের ঝাকুনিতে দুঃস্বপ্ন ভাঙলো। পাশে থেকে ভাবি বলছিলো উঠো নামাজ পড়ো। উঠেই প্রথমে মায়ের কাছে গেলাম। মা আবার আমার মুখখানি কাপাকাপা হাতে মাপলেন আর আস্তে আস্তে বললেন ‘নামাজ পড়েছো বাবা? স্বপ্নের কথা আর বলা হলোনা!

নয়/দশ বছরের স্বপ্ন বাবাকে বলতে পারছিলাম। কিন্ত এবার মাকে বলতে পারলাম না। শুধু মায়ের বদনখানি দেখছিলাম। আগে হয়নি এখন খুব ভয় হচ্ছে। মা আর বোধহয় নিজহাতে গুছাতে পারবেনা…

মন আজ কেন একথা ভাবছে? অঝোরে বৃষ্টি হচ্ছে, আধো-অন্ধকারে বৃষ্টিতে ভিজতে-ভিজতে টের পাচ্ছি বৃষ্টি হচ্ছে দুই চোখে। দুই পানির রঙ দুই রকম হয়ে যাচ্ছে। চোখ থেকে গড়ানো পানির রঙ নীল, শরীর ভেজা বৃষ্টির রঙ দুধ-সাদা । সারা শরীরে কাঁপন ধরেছে। প্রবল কাঁপুনিতে জেগে উঠে দেখি ঝলমলে রোদে চারিদিক ভরে আছে। ঘুম ভেঙেছে, বৃষ্টির কোনো ছিটে- ফোটাও নেই, তবুও কাঁপন কমছে না।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button

You cannot copy content of this page